সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

পানিতে ভাসছে রামুর শতাধিক গ্রাম



জেলা প্রশাসকের দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও খাবার বিতরণ, ত্রান সামগ্রী অপ্রতুল

সোয়েব সাঈদ ॥
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় শতাধিক গ্রাম এখন পানিতে ভাসছে। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে, রাস্তাঘাট সহ অসংখ্য স্থাপনা ও বসতবাড়ি। গত পাঁচদিন ধরে টানা ভারী বর্ষণে উপজেলার ১১ ইউনিয়নের আড়াই লাখ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। বন্যার পানি বাড়তে থাকায় জন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সৃষ্ট বন্যায় তলিয়ে গেছে ৩৩০ হেক্টর বীজতলা ও অসংখ্য মৎস্য প্রকল্প।
ভেঙ্গে গেছে বেড়ি বাঁধ ও গ্রামীণ সড়ক। পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুলিশ ফাঁড়ী, ভূমি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, হাট-বাজার। পানিতে ডুবে ও পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বাঁকখালী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জয়নুল বারী, রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদ মোহাম্মদ ছাইদুল হক, রামু উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুসরাত জাহান মুন্নি, রামু থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে নজিবুল ইসলাম ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ রাজনৈতিক, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিত্তশালীরা বন্যা কবলিত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন। 

নদীর পানি বাড়তে থাকায় রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের মঈশকুম এলাকা, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের রামু-মরিচ্যা সড়কের চৌমুহনী থেকে তেমুহনী,অফিসেরচর,চৌমুহনী-চেরাংঘাটা সড়ক,তেচ্ছিপুল-লম্বরী পাড়া সড়ক, চেইন্দা-রাজারকুল সড়ক , ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের মন্ডলপাড়া, পালপাড়া, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের রামুর চেইন্দা এলাকা প¬াবিত এবং জাদিমুরা এলাকার তেমুহনী-জাদিমুরা সড়ক, গর্জনিয়া ছোট জামছড়ি-শোকমনিয়া সড়ক, রশিদনগর-ধলিরছড়া সড়ক এখনো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। 
বৃহষ্পতিবার (২১ জুলাই) সকালে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের মধ্যম খুনিয়াপালং এর কাছিম আলীর দশ বছরের শিশু জসিম উদ্দিন এবং ইদগড় ইউনিয়নে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি পানিতে ভেসে গেছে। এদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারনা করছেন এলাকাবাসী।
টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে বাঁকখালী নদী, রেজু খাল, সোনাইছড়ি খাল, ভারাইংগা খাল, ধলিরছড়া খাল, রাজারকুল কাটা খাল, চরপাড়া কাটা খাল, জামছড়ি খাল, ফারি খাল, ও কালিরছড়া খালের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের হাইটুপি, শ্রীকুল, দ্বীপ শ্রীকুল, পূর্ব মেরংলোয়া, মধ্যম মেরংলোয়া,আমতলীয়া পাড়া, পশ্চিম মেরংলোয়া,দোয়ানা পাড়া, হাজারিকুল, লম্বরীপাড়া, উত্তর ফতেখাঁরকুল, অফিসের চর, চর পাড়া, দক্ষিণ দ্বীপ, পূর্ব দ্বীপ, রাজারকুল ইউনিয়নের পূর্ব রাজারকুল, বড়–য়া পাড়া, শীকল ঘাট, কাঠালিয়া পাড়া, দক্ষিণ রাজারকুল, ছাগলিয়াকাটা, চৌকিদার পাড়া, সিকদারপাড়া, পালপাড়া, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের উমখালী, কাজীর পাড়া, পশ্চিম উমখালী, খোন্দর পাড়া, ঘাট পাড়া, কালা খোন্দকার পাড়া, নিজের পাড়া, সমিতি পাড়া, রাখাইন পাড়া, চেইন্দা,  পানেরছড়া, চাইল্যাতলী, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের মনিরঝিল, পূর্ব মনিরঝিল, লামার পাড়া, চরপাড়া, পূর্ব পাড়া, রশিদনগর ইউনিয়নের থলিয়া ঘোনা, লামার পাড়া, ধলির ছড়া, উল্টাখালী, কাহাতিয়া পাড়া,খুনিয়া পালং ইউনিয়নের গোয়ালিয়া পালং, বড়–য়া পাড়া, চাকমারকুল ইউনিয়নের মোহাম্মদ পুরা, ছিরামুরা, শাহমদর পাড়া, পশ্চিম চাকমার কুল, উত্তর চাকমারকুল বনিক পাড়া, দক্ষিণ চাকমার কুল ডুমের চর, কোনার পাড়া, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ির দক্ষিণ পাড়া, চৌধুরী পাড়া, উত্তর পাড়া, আশকর খিল, নোনাছড়ি, ঈলিশিয়া পাড়া, পশ্চিম জোয়ারিয়া নালা, নন্দাখালি, জোয়ারিয়ানালা পূর্ব পাড়া, ঈদগড় ইউনিয়নের রেনুরকুল, জুমপাড়া, লেইংগ্যাপাড়া, চরপাড়া, গর্জনীয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বোমাং খিল, ক্যাজর বিল, ডেইঙ্গারচর, আলেখ্যা, গয়ালমারা, ফকিরপাড়া, রাজঘাট, জুমছড়ি, মরিচ্যারচর, বড়চর, সিকদার পাড়া কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের নাপিতের চর,শহর আলীর চর, নতুন মিয়াজি পাড়া, ফাক্রিরীকাটা, হাজ্বীর পাড়া, ঢাকভাঙ্গা, শোকমনিয়া, বড় জামছড়িসহ শতাধিক গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার পরিবারের আড়াই লক্ষ মানুষ পানি বন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এসব পরিবারে খাদ্য ও পানীয় সঙ্কট চরম আকার ধারন করেছে।
পানিতে সয়লাব হয়ে যাওয়ায় রামু ডিগ্রী কলেজ, রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ্ব ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মেরংলোয়া রহমানিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, রাজারকুল মাছুমিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, জারাইলতলী উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ মিঠাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, ঈদগড় বাজার এবতেদায়ী মাদ্রাসা, গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, গর্জনিয়া ফয়জুল উলুম মাদ্রাসা, গর্জনিয়া ইউনিয়ন ভুমি অফিস, গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ী,বিভিন্ন সরকারী-রেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ দান বন্ধ রয়েছে। জেলার বৃহত্তম রামু ফকিরা বাজার ও গর্জনিয়া বাজার প¬াবিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী না পেয়ে সংকটে পড়েছেন। 
রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, সরকারী-বেসরকারী সাহায্য সংস্থা,বিত্তশালীদের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান এবং সরকারের প্রতি রামুকে দুর্গত উপজেলা ঘোষনার দাবী জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদ মোহাম্মদ ছাইদুল হক বলেন, ১১ টি ইউনিয়নের জন্য ২৬ টন চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও দূর্গতদের শুকনো খাবার বিতরন করা হয়েছে। 

ছবির ক্যাপশন-রামুতে ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত পশ্চিম মেরংলোয়া গ্রামের ঘূর্নিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।


কোন মন্তব্য নেই: