ইউএনটি
উখিয়া উপজেলার কুতুপালংয়ে অবৈধভাবে বসবাসরত ৪০ হাজার রোহিঙ্গার অনৈতিক কর্মকাণ্ডে দুই লক্ষাধিক জনগোষ্ঠী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। কলুষিত হচ্ছে এ উপজেলার সমাজ ব্যবস্থা। জীবন-জীবিকার তাগিদে এসব রোহিঙ্গারা অনৈতিক, অসামাজিক কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। বিগত বছরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে উখিয়ায় সচেতন নাগরিক সমাজ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সহ ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে একের পর
এক কর্মসূচি পালন করে। শেষ পর্যায়ে সংগ্রাম কমিটির নেতরা সড়ক অবরোধের ডাক দিলে প্রশাসনের টনক নড়ে। এ সময় জেলা প্রশাসক সংগ্রাম কমিটির সঙ্গে আলোচনায় বসে তাদের দাবি দাওয়া মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে সংগ্রাম কমিটি তাদের যাবতীয় কর্মসূচি স্থগিত রাখে। কুতুপালং গ্রামবাসীর
পক্ষে হোছন আলী (৩০), মোহাম্মদুল ইসলাম (৪৫) ও ছৈয়দুন্নবী (৩৫) বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবৈধ রোহিঙ্গা ঝুপড়িতে বেচাকেনা হয় মদ, গাঁজা, আফিম, হিরোইন ও ইয়াবা। শত শত মাদকসেবী যুবক রোহিঙ্গা যুবতী মেয়েদের নিয়ে অবাধ মেলামেশা করলেও দেখার বা বলার কেউ নেই। রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা দায়িত্বে নিয়োজিত গুটি কয়েক পুলিশ থাকলেও অবৈধ রোহিঙ্গা নিয়ন্ত্রণে কেউ নেই। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কালা রশিদ ও জানে আলমের নেতৃত্বে ক্যাম্পের যাবতীয় অপকর্ম নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এ কারণে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক এক মেম্বারকে দিতে হয় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন রোহিঙ্গা জানায়। এছাড়াও রোহিঙ্গা যুবতী আছিয়া খাতুন (২২), আনোয়ারা বেগম (১৯), আবিয়া খাতুন (১৮), নুর বেগম (২১) সহ ১১ জনের একটি দল পতিতাবৃত্তিতে লিপ্ত হয়েছে। ক্যাম্প এলাকা ছাড়াও তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন নামী-দামি হোটেলে রাতযাপন করে বলে রোহিঙ্গা মাঝি রফিক জানায়। ক্যাম্পের অপকর্মের হোতা জানে আলম, রশিদ, আলী আকবর ও জসিম উদ্দিনসহ ৭ সদস্যের রোহিঙ্গা গ্রুপ ক্যাম্পের অপরাধ নিয়ন্ত্রণের নামে রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে বলে জানা গেছে। ক্যাম্পে বসবাসরত বিধবা মহিলা আমির জান (৬০) বলেন, এসব অপরাধীকে প্রতি সপ্তাহে ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। না দিলে মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করে। এ ব্যাপারে ক্যাম্প ইনচার্জ মীর শওকত হোসেনের সঙ্গে ফোনে আলাপ করলে তিনি বলেন, গুটিকয়েক পুলিশের পক্ষে বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর খবর রাখা সম্ভব নয়। তথাপি অনৈতিক কাজের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে দেখা হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন