সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

সড়ক দুঘর্টনা প্রশাসন ও বাস্তবতা


কালাম আজাদ
দেশের মহাসড়ক এবং মিনিসড়কগুলো একেকটি মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঝুকি পূর্ণ প্রায় দেড় লাখ অনুমোদনহীন যানবাহন চলাচল করছে মহাসড়কে। এর  আগে এসব  নিয়ে মাতামাতি না হলেও সমপ্রতি ঘটে যাওয়া মিরসরাই ট্রাজেড়ি এবঙ ঢাকায় সাংবাদিক বেলালের মৃত্যুর পর যানবাহন চালকদের বেপরোয়া আচরণ এবঙ মহাসড়কে যান চলাচলের ঝুঁকি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে সমাজে। সড়ক- মহাসড়কে যান চলাচলের যে ঝুঁকি তার পেছনে নানাবিধ কারণ আছে। সড়ক দুর্ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। আইন কানুন, বিধি-বিধান কিছুতেই
গাড়ীর ড্রাইভারদেরকে নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছেনা। প্রশাসন, আইন, পুলিশ এমনকি গাড়ির মালিকদের খবরদারিও তারা মানছেনা। যাত্রী তথা সাধারণ মানুষ তো যান চালকদের কাছে এক ধরণের জিম্মি হয়ে পড়েছে। এর চেয়ে বড় কারণ, বেশির ভাগ চালকের লাইন্সেসই ভূয়া। অন্যদিকে এ দু সমস্যা মোকাবেলা করার যে হাইওয়ে পুলিশ এবং বি আর টিএ কর্তৃপক্ষ তাদের রয়েছে নানা দুর্বলতা। বি আর টি এ’র মতে, দেশে ভালো চালকের সংকট প্রবল। দক্ষ চালক তৈরীর পর্যাপ্ত প্রতিষ্ঠান বা ব্যবস্তা ও নেই। তাই ব্যস্ত সড়কে অদক্ষ চালকরাই রাস্তার রাজা। আইনে ২৪ ঘন্টার মধ্যে জামিনের সুযোগ থাকায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটানোর পরও এদেরকে চাইলেই শাস্তির আওতায় আনা যাচ্ছেনা। তার ওপর এরা সাংগঠনিক ভাবে শক্তিতে খুবই বলীয়ান। পরিবহন সংগঠনগুলোর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রনের কারণে মালিকরা যেমন তেমনভাবে চালক নিয়োগ দিতে পারছেনা, তেমনি সরকারও তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছেনা। এ বাস-বতায় অদক্ষ রেপরোয়া চালকের হাতে সরকার, আইন, জনগণ এমনকি গাড়ির মালিক জিম্মি। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা মৃত্যু মামুলি ফ্যাক্টে রুপ নিয়েছে। চালক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া নিয়েও চলছে তামাশা।তারা কোনমতে চালকের হেলপার হিসেবে চাকরি পেলেই হলো। বছরখানেক হেলপার থাকার পর চালাক-চতুর বিবেচিত হলে তাকে দেওয়া হয় যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায়ের দায়িত্ব । আর যারা সেক্ষেত্রে অদক্ষ, তারা ওস্তাদ নামের চালকের কাছে স্টিয়ারিং ধরা শেখে। কদিন স্টিয়ারিং ধরার পর সে চালক বনে যায়। পেয়ে যায় লাইন্সেসও। সরকারি প্রশিক্ষণের ব্যবস্তা না থাকলেও রয়েছে প্রাইভেট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যেগুলোতে ফি বেশী। তাই স্বল্প আয়ের   যে কেউ সেখানে প্রশিক্ষন নিতে যায়না। তারা ওস্তাদের পাশে বসে ড্রাইভিং শেখাকে লাভজনক মনে করে। পরে তারা লাইন্সেস পেয়ে হয়ে যায় চালক হিসেবে যা ইচ্ছে তা করতে পারে।
হাইওয়ে জনবল সংকটের পাশাপাশি যানবাহন সংকট। উন্নতমানের প্রশিক্ষণ বলতেও কিছু নেই তাদের। তাছাড়া ভূত তাড়ানো হবে যে সর্ষে দিয়ে, তার ভিতরে রয়েছে ভূত। হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। এই পুলিশ সদস্যরা সামান্য হেলপার থেকেও টোকেনের মাধ্যমে মাসিক চাঁদা আদায় করে থাকে। পুলিশ প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে হাইওয়েতে দুর্ঘটনা রোধ ও অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রন রাখতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। অনুমোদনহীন যানবাহন যাতে রাস্তায় চলতে না পারে, সে জন্য পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান। কিন্তু' বাস্তবে এসব পদক্ষেপের কোন সফলই দেখতে পাচ্ছেনা দেশবাসী। বরং সড়ক দুর্ঘটনায় ও হাইওয়ে অপরাধ নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৫ কিলোমিটার পর পর পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হলেও এ প্রক্রিয়া কখন বাস-বে পরিণত হবে তা স্বয়ং ভগবানই জানেন। অর্থাৎ ফাইলটি এখন আমলাতান্ত্রিক লালফিতার দৌরাত্মে বন্দি হয়ে আছে। এর সাথে যোগ দিয়েছে রাজনীতিবিদরাও। গ্রামে একটা কথা শুনা যায় তা হলে পুলিশ পতিতা এবং পলিটিশিয়ান। এই তিন ‘প’ দিয়ে গঠিত শব্দ গুলোর একটারও আদর্শ, আকার, চরিত্র  বলতে কিছুই নেই। সংক্ষেপে বলা যায় পুলিশ টাকা নিয়ে মিথ্যা রিপোর্ট দেয়, আর পতিতা টাকা নিয়ে দেহবিক্রিতে লিপ্ত হয় এবং রাজনীতিবীদরা গ্রামের সহজ সরল মানুষকে ধোঁকা দিয়ে রাজনীতির ফায়সালা আদায় করে এবং যে বেশী টাকা দেয় তার পক্ষে অর্থাৎ সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানায়।  এ রকম ঘটনা প্রায়শই আমার মনে, বত্তাতলী একটি গ্রামে একটি সাধারণ কেইসে একজন রাজনীতিবিদকে প্রতিপক্ষ গ্রুপ থেকে ৫০ টাকা বেশি দেওয়ায়সত্যের পক্ষে না থেকে মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে দেয়। ফলে যারা নির্দোষ তাদের গুনতে হয় সাজা ও জরিমানা। আর যারা দোষী তাদেরকে বিচারের কাড়গড়ায়। এটাই হচ্ছে রাজনীতি কর্মীদের ধর্ম। অবশ্য সব রাজনীতিবিদরা এক রকম নয়। কিছু নিলোর্ভ রাজনীতিবিদও রয়েছে এই বাংলায়। পুলিশ, পতিতা এবং পলিটিশিয়ান কিংবা রাজনীতিবিদকে টানলাম এ জন্য যে রাজনীতিবিদরাও যানবাহনের অপকর্মে জড়িত। একটি গাড়ি জব্দ করলে ফোন আসে কেন্দ্রিয় নেতা, জেলা নেতা কিংবা উপজেলা নেতাদের। যে সরকারের  আসে সে সরকারের ক্ষমতা দেখিয়ে প্রভাব কাটায়। বিএনপির  আমলে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা আর আ’লীগের আমলে আ’লীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা। কোন উপায়ান-র না দেখে বাধ্য হয়ে চাকরি বাঁচার তাগিদে ছেড়ে দিতে হচ্ছে গাড়ি ও অপরাধীদেরকে। আর লাইন্সেস নেওয়ার সময়তো কথাই নেই, সময়মত লাইন্সেস না দিলে শুনতে হয় বকা নতু বা চাকরি হারাতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে বি আর টি এ কর্তৃপক্ষ লাইন্সেস দিয়ে দেয়। এর পর থেকে কে কি করছে তা সময় নেওয়ার সময় থাকেনা।
ঘাতক ড্রাইভার-চালকদের শাস্তি দেওয়ার বর্তমান যে আইন তা ১৫০ বছরের পুরনো হলেও সেই আইনের সংস্কার করা হচ্ছে না এবং তারও প্রয়োগ হতে দেখা যাচ্ছেনা। বর্তমান আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার মামলায় চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্ছ শাস্তি দেওয়া হয় ৫ বছর। দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা যতোই হোক না কেনো, শাস্তি দেয়া হয় একই মেয়াদের। অনেকেই মনে করেন এ লঘু দণ্ডের কারণে চালকেরা বেপরোয়া গাড়ি চালাতে দ্বিধাবোধ করেনা। লাইন্সেস ছাড়া গাড়ি চালানোর অপরাধে বি আর টিএ বা ট্রাফিক পুলিশের তেমন কোন দৃষ্টান-মূলক কোন অ্যাকশন নিতে দেখা যায়না। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো অথবা ড্রাইভিং অবস্থায় নেশা করতেও এরা ভাবেনা। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলার জন্য ৫০ থেকে ৫০০ টাকা জরিমানার নুন্যতম শাস্তির যে বিধান আছে তার কোন কার্যকারিতা নেই। এ অবস্থা সড়ক দুর্ঘটনায় পরিণাম সম্পর্কে চালকদের ভয়ভীতি থাকারও কথা নয়। ব্রিটিশ আমলের এ আইনের পরিবর্তন করা  না  গেলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা  আদৌ কোনদিন সম্ভব নয়। প্রকৃতপক্ষে সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও অপরাধ রোধে হাইওয়ে পুলিশ , বিআর টি এ,শহরগুলোর ট্রাফিক পুলিশ সর্বোপরি সরকারের স্বচ্ছিয় শুধু তাই নয়, তাদের কর্ম দক্ষতারও প্রয়োজন রয়েছে। বি আর টিএ কর্তৃপক্ষেও দুর্নীতির খবর প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে দেখি আমরা। অনেক সময় লজ্জিতও হতে হয়। ফিটনেসবিহীন গাড়ির ব্যাপারে এ সংস্থার ব্যর্থতা সীমাহিন। যানবাহনের ফিটনেস দেখভাল করার একটি বড় প্রতিষ্ঠান থাকার পরও পুলিশের নাকের ডগায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলে কারো কোন বাধা বা বিকার দেখতে পাওয়া যায়না। ১০০ টাকা দিলেও হালাল হয়ে যায় সবকিছু। বস'ত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আইন লংঘনকারীদের বিচারের ব্যবস্থা, মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা, অনুমোদনহীন গাড়ি জব্দ করা, চলন্ত অবস্তায় চালকদের মোবাইল ফোন বন্ধ রাখার নির্দেশ, হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ করা, রাস্তা ঘাটের সংস্কার ইত্যাদি সমস্যা মোকাবেলা করা না গেলে মহাসড়কের দুর্ঘ্‌টনা রোধ করা কোনদিনই সম্ভব নয়।  সেই সাথে দরকার চালকদেও প্রশিক্ষনের ব্যবস্তা। গাড়ির চাকা ধুতে ধুতে যারা পরীক্ষা না দিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের বা ফেডারেশনের সুপারিশে লাইন্সেস পেয়ে থাকেন তাদের ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বাস্তবমুখি পদক্ষেপ খুবই জরুরী ।

কোন মন্তব্য নেই: