সাইফুল ইসলাম
জনাব, আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ
আশা করি আল্লাহর রহমতে ভাল থেকে দেশ-জাতি-ধর্ম ও সমাজ সেবার চিন্তায় ব্যস্ত আছেন।
পর সংবাদ এই যে,
যারা দেশ-জাতি নিয়ে ভাবে, সমাজ নিয়ে কাজ করে, রাজার নীতি নিয়ে পর্যালোচনা করে, তারাই রাজনীতিবিদ। সে হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ অধিকাংশই রাজনীতিবিদ। যার ফলে দেশে অনেক রাজনৈতিক দল বিদ্ধমান। কোন দলে নেতার অভাব নেই। বড় দলে কর্মীর অভাব নেই। সমর্থনের ঝোক কখনো এ দিকে বেশি, কখনো ঐ দিকে বেশি। সমাজসেবার প্রতিযোগিতায় একেকটি নির্বাচনে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। জনগণের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে জনগণের শত শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়। দেশের উন্নয়ণের জন্য প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার বৈদেশিক
সুদী ঋণ নিয়ে বাজেট করা হয়। সরকার ও শত শত এনজিও প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা উন্নয়ণ ও দারিদ্র বিমোচনের জন্য ব্যয় করে থাকে। কিন্তু সব মিলে প্রকৃতপক্ষে সমাজের লাভ কতটুকু হয়? এত টাকা ব্যয়ের ফলে কতজন দারিদ্রমুক্ত হয়? কত বেকারের কর্মসংস্থান হয়? কত আশ্রয়হীন লোক মাথা গোজার ঠাই পায়? কত রুগী পর্যাপ্ত চিকিৎসা পায়? এ সব নিয়ে নতুন ভাবে একটু চিন্তা-ভাবনা করা যায় কিনা? তা হলে আসুন, একটু লাভ-ক্ষতি পর্যালোচনা করি।
উদাহরণ হিসেবে ধরুন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৩টি পদের প্রত্যেকটিতে ৪ জন করে প্রার্থী হলে এবং প্রত্যেকে গড়ে এক লক্ষ টাকা করে খরচ করলে মোট খরচ হয় ৫২ লক্ষ টাকা। প্রকৃত প্রার্থী সংখ্যা ও প্রকৃত খরচ কিন্তু আরো অনেক বেশি হয়। এর সাথে রাষ্ট্রীয় খরচ যোগ করলে কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এত টাকা ব্যয় করে নির্বাচন করার পর বিজয়ীরা কী পায়, পরাজিতরা কী পায়, জনগণ কী পায় এবং রাষ্ট্র কী পায়? রাষ্ট্র, জনগণ ও পরাজিত প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য কিছুই পায় না। বিজয়ীরা পায় পাঁচ বছর পর্যন্ত জনগণের জন্য সরকারী বরাদ্দ থেকে বিশেষ অংশ ও সামান্য ভাতা। অথচ সমাজসেবার জন্য এত লোকের আগ্রহ, এতটাকা নির্বাচনী খরচ এবং পাঁচ বছরে দেয়া সরকারী বরাদ্দ, সবকিছুকে প্রকৃত পক্ষে সমাজসেবায় পরিকল্পিত ভাবে নিয়োগ করা গেলে একেকটি ইউনিয়ন হবে একেকটি মডেল টাউন। এ জন্য প্রথমে দরকার সবার আন্তরিকতা ও নিজ এলাকা নিয়ে একটি কার্যকর মাস্টার প্লান।
আপনার ইউনিয়নে মোট পরিবার কয়টি, মোট জমি কত, কোথায় আবাসিক এলাকা হবে, কোথায় কৃষি জমি থাকবে, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মিলকারখানা ইত্যাদি কোথায় কী হবে তা চিহ্নিত করুন। বাড়ীঘর হয়ে যাওয়ার পর রাস্তা করলে তা হয় অপ্রসস্ত ও আকাবাকা। তাই বসতি স্থাপনের আগেই রাস্তা তৈরী করতে পারলে তখন হবে প্রকৃত পরিকল্পিত এলাকা। রাস্তা তৈরীর জন্য নির্বাচন ও সরকারের জন্য বসে না থেকে একেকজন সম্ভাব্য পদপ্রার্থী একেকটি রাস্তা তৈরী করে দিতে পারেন এবং যিনি যেটা করে দেবেন সেটা তার নামেই নামকরণ হবে। এ পরিকল্পনার ব্যপারে সম্ভাব্য সকল প্রার্থীর সাথে পরামর্শ করতে পারেন। যারা প্রকৃত সমাজসেবা করতে চান তারা আন্তরিক ভাবে সাড়া দেবেন, আর যারা আত্মসেবা করতে চায় তারা ব্যক্তিস্বার্থ চিন্তা করবে।
পরিকল্পিত ইউনিয়ন করতে চায়লে সহজ পথ হচ্ছে ইউনিয়নের নামে একটি প্রাইভেট কোম্পানী গঠন করা এবং সে ইউনিয়নের সবার জন্য এর সদস্য হওয়ার পথ উম্মুক্ত রাখা। এর প্রত্যেক শেয়ারের মূল্য হতে পারে এক হাজার টাকা অথবা মাসিক সঞ্চয় হতে পারে একশত টাকা। তবে যার যত ইচ্ছা শেয়ার নিতে পারবে বা যত বেশি ইচ্ছা সঞ্চয় করতে পারবে। এর কাজ হবে ইউনিয়নকে পরিকল্পিত ভাবে গড়ে তোলা। কেউ জমি বিক্রয় করতে চায়লে প্রথমে এ কোম্পানীকে অবহিত করবে। কেউ কৃষি জমি ভরাট করতে চায়লে বা পাকা ঘর-দোকান করতে চায়লে তা পরিকল্পিত ও ইঞ্জিনিয়ারিং প্লানমত হচ্ছে কিনা তা তদারক করবে এবং পরিকল্পনা মাফিক করার জন্য জমির মালিকের বিনিয়োগের প্রয়োজন হলে বিনিয়োগ করবে। প্রত্যেক পেশার লোকদেরকে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আরো দক্ষ করে তোলবে। বেকারদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পুঁজি দিয়ে কর্মে নিয়োগ করবে। উপযোক্ত স্থানে সম্ভাবনাময় শ্রমঘন লাভজনক মিলকারখানা গড়ে তুলবে। যারা বিদেশ যেতে চায় তাদেরকে কর্যে হাসানা দেবে এ শর্তে যে, তাদের যাবতীয় আয় এ কোম্পানীতে সঞ্চয় করবে এবং প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে পাসপোর্ট বানানো থেকে শুরু করে বিদেশ গিয়ে কর্মে নিয়োগ হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় বিষয় তদারক করবে। গ্রামের অপরিকল্পিত বাড়ীঘরকে পাশের খালি জমি বা উপরের খালি জায়গার বিনিময়ে পরিকল্পিত বহুতল ভবনের ফাউন্ডেশন দিয়ে নির্মান করে দেবে এবং নতুন পরিবারকে কিস্তিতে ফ্লাট বা প্লট বিক্রয় করবে। যার যখন যেটা প্রয়োজন তখন তা বিক্রয় করবে এ কোম্পানী এবং কিস্তিতে মূল্য আদায় করে নেবে। ইত্যাদি আরো অনেক কিছুই করতে পারে এ কোম্পানী।
এ সব পরিকল্পনা চায়লে ইউনিয়ন পরিষদও বাস্তবায়ণ করতে পারে, কিন্তু করবে না। করলেও তা মানুষের কাছে খুব বেশি আস্থাশীল হবে না। তবে করতে পারলে একটি ইতিহাস সৃষ্টি হবে। ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন প্রাইভেট কোম্পানী পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কাজ করলে অত্যন্ত দ্রুত সফল হওয়া যাবে। এ দুয়ের মধ্যে মিলও আছে অনেক, পার্থক্যও আছে অনেক। যেমন, নির্বাচিত ১৩জনকে দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়, যাদের প্রতিপক্ষ থাকে অনেকেই। ইউনিয়ন প্রাইভেট কোম্পানীর পরিচালনা পরিষদ গঠিত হবে সর্বোচ্চ বিনিয়োগকরী ১৩জনকে দিয়ে, যাদের কোন প্রতিপক্ষ থাকার কথা নয়। ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা হয় সরকারী নিয়োগপ্রাপ্ত, যাদের চাকুরী যাওয়ার ভয় থাকে না তেমন। কিন্তু প্রাইভেট কোম্পানীর সচিবরা হবে কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে, যাদের চাকুরী যাওয়ার ভয় থাকবে যে কোন মুহুর্থে। ইউনিয়ন পরিষদ কাজ করে সরকারী ফান্ড নিয়ে, সরকারকে হিসেব দিতে বাধ্য হলেও জনগণের কাছে বাধ্য নয়। ইউনিয়ন কোম্পানী কাজ করবে সদস্যদের ফান্ড নিয়ে, সদস্যদের কাছে হিসেব দিতে ও জবাবদিহি করতে বাধ্য। ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণত অলাভজনক কাজ করে, ইউনিয়ন কোম্পানী সাধারণত লাভজনক কাজ করবে বেশি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচিত হয় পাঁচ বছরের জন্য, ইউনিয়ন কোম্পানীর পরিচালনা পরিষদ নবায়ণ হবে প্রতি বছর বার্ষিক রিপোর্টের সাথে সাথে। ইউনিয়ন পরিষদে কোন উপদেষ্টা থাকে না, ইউনিয়ন কোম্পানীতে উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে, যাতে থাকবে পূর্বের পরিচালনা পরিষদ থেকে বাদ পড়া সবাই এবং ইউনিয়নের ভিতর-বাহির থেকে অভিজ্ঞ ও সুপরামর্শদাতাগণ। ইত্যাদি আরো অনেক পার্থক্য বা মিল থাকতে পারে উভয়ের মধ্যে।
এ ধরনের পরিকল্পনা ওয়ার্ড, পৌরসভা, উপজেলা, সংসদীয় আসন, সিটি কর্পোরেশন বা জেলা ভিত্তিকও করা যায়। অনেক টাকা খরচ করে নির্বাচিত হয়ে যত না কাজ করা যায়, তার চেয়েও বেশি কাজ করা যাবে এ ধরনের এলাকা ভিত্তিক প্রাইভেট কোম্পানীর মাধ্যমে। এতে শুধু নির্বাচনী ফান্ড বিনিয়োগ করলেও এলাকার অনেক উন্নয়ণ ও সেবামূলক কাজ করা যাবে। বিনা খরচে এলাকায় পরিচিত হওয়া যাবে, ফলে নির্বাচনী খরচও অনেক কমে আসবে। আপনি যে জনসেবার জন্য যে টাকা খরচ করে নির্বাচন করবেন, সে টাকা অন্তত নির্বাচনের আগে কয়েক বছর সে জনসেবার কাজে বিনিয়োগ করুন। দেখবেন আপনার ফান্ড অক্ষত রেখেই জনগণের এত বেশি সেবা করতে পারবেন যাতে আপনার জনপ্রিয়তা এমনিতেই আকাশছোয়া হয়ে যাবে।
উক্ত ইউনিয়ন প্রাইভেট কোম্পানীর মাধ্যমে যে কাজ করতে পারবেন, তা না হওয়া পর্যন্ত এহসান সোসাইটির ইউনিয়ন শাখার মাধ্যমেও সে কাজ করতে পারেন। তবে করবেন কি ?
লেখক- আহবায়কঃ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান মুসলিম ঐক্য পরিষদ। ০১৮১৯ ৮৩৩২৩৫, ই-মেইলঃ saifuleidgahcox@yahoo.com
জনাব, আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ
আশা করি আল্লাহর রহমতে ভাল থেকে দেশ-জাতি-ধর্ম ও সমাজ সেবার চিন্তায় ব্যস্ত আছেন।
পর সংবাদ এই যে,
যারা দেশ-জাতি নিয়ে ভাবে, সমাজ নিয়ে কাজ করে, রাজার নীতি নিয়ে পর্যালোচনা করে, তারাই রাজনীতিবিদ। সে হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ অধিকাংশই রাজনীতিবিদ। যার ফলে দেশে অনেক রাজনৈতিক দল বিদ্ধমান। কোন দলে নেতার অভাব নেই। বড় দলে কর্মীর অভাব নেই। সমর্থনের ঝোক কখনো এ দিকে বেশি, কখনো ঐ দিকে বেশি। সমাজসেবার প্রতিযোগিতায় একেকটি নির্বাচনে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। জনগণের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে জনগণের শত শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়। দেশের উন্নয়ণের জন্য প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার বৈদেশিক
সুদী ঋণ নিয়ে বাজেট করা হয়। সরকার ও শত শত এনজিও প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা উন্নয়ণ ও দারিদ্র বিমোচনের জন্য ব্যয় করে থাকে। কিন্তু সব মিলে প্রকৃতপক্ষে সমাজের লাভ কতটুকু হয়? এত টাকা ব্যয়ের ফলে কতজন দারিদ্রমুক্ত হয়? কত বেকারের কর্মসংস্থান হয়? কত আশ্রয়হীন লোক মাথা গোজার ঠাই পায়? কত রুগী পর্যাপ্ত চিকিৎসা পায়? এ সব নিয়ে নতুন ভাবে একটু চিন্তা-ভাবনা করা যায় কিনা? তা হলে আসুন, একটু লাভ-ক্ষতি পর্যালোচনা করি।
উদাহরণ হিসেবে ধরুন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৩টি পদের প্রত্যেকটিতে ৪ জন করে প্রার্থী হলে এবং প্রত্যেকে গড়ে এক লক্ষ টাকা করে খরচ করলে মোট খরচ হয় ৫২ লক্ষ টাকা। প্রকৃত প্রার্থী সংখ্যা ও প্রকৃত খরচ কিন্তু আরো অনেক বেশি হয়। এর সাথে রাষ্ট্রীয় খরচ যোগ করলে কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এত টাকা ব্যয় করে নির্বাচন করার পর বিজয়ীরা কী পায়, পরাজিতরা কী পায়, জনগণ কী পায় এবং রাষ্ট্র কী পায়? রাষ্ট্র, জনগণ ও পরাজিত প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য কিছুই পায় না। বিজয়ীরা পায় পাঁচ বছর পর্যন্ত জনগণের জন্য সরকারী বরাদ্দ থেকে বিশেষ অংশ ও সামান্য ভাতা। অথচ সমাজসেবার জন্য এত লোকের আগ্রহ, এতটাকা নির্বাচনী খরচ এবং পাঁচ বছরে দেয়া সরকারী বরাদ্দ, সবকিছুকে প্রকৃত পক্ষে সমাজসেবায় পরিকল্পিত ভাবে নিয়োগ করা গেলে একেকটি ইউনিয়ন হবে একেকটি মডেল টাউন। এ জন্য প্রথমে দরকার সবার আন্তরিকতা ও নিজ এলাকা নিয়ে একটি কার্যকর মাস্টার প্লান।
আপনার ইউনিয়নে মোট পরিবার কয়টি, মোট জমি কত, কোথায় আবাসিক এলাকা হবে, কোথায় কৃষি জমি থাকবে, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মিলকারখানা ইত্যাদি কোথায় কী হবে তা চিহ্নিত করুন। বাড়ীঘর হয়ে যাওয়ার পর রাস্তা করলে তা হয় অপ্রসস্ত ও আকাবাকা। তাই বসতি স্থাপনের আগেই রাস্তা তৈরী করতে পারলে তখন হবে প্রকৃত পরিকল্পিত এলাকা। রাস্তা তৈরীর জন্য নির্বাচন ও সরকারের জন্য বসে না থেকে একেকজন সম্ভাব্য পদপ্রার্থী একেকটি রাস্তা তৈরী করে দিতে পারেন এবং যিনি যেটা করে দেবেন সেটা তার নামেই নামকরণ হবে। এ পরিকল্পনার ব্যপারে সম্ভাব্য সকল প্রার্থীর সাথে পরামর্শ করতে পারেন। যারা প্রকৃত সমাজসেবা করতে চান তারা আন্তরিক ভাবে সাড়া দেবেন, আর যারা আত্মসেবা করতে চায় তারা ব্যক্তিস্বার্থ চিন্তা করবে।
পরিকল্পিত ইউনিয়ন করতে চায়লে সহজ পথ হচ্ছে ইউনিয়নের নামে একটি প্রাইভেট কোম্পানী গঠন করা এবং সে ইউনিয়নের সবার জন্য এর সদস্য হওয়ার পথ উম্মুক্ত রাখা। এর প্রত্যেক শেয়ারের মূল্য হতে পারে এক হাজার টাকা অথবা মাসিক সঞ্চয় হতে পারে একশত টাকা। তবে যার যত ইচ্ছা শেয়ার নিতে পারবে বা যত বেশি ইচ্ছা সঞ্চয় করতে পারবে। এর কাজ হবে ইউনিয়নকে পরিকল্পিত ভাবে গড়ে তোলা। কেউ জমি বিক্রয় করতে চায়লে প্রথমে এ কোম্পানীকে অবহিত করবে। কেউ কৃষি জমি ভরাট করতে চায়লে বা পাকা ঘর-দোকান করতে চায়লে তা পরিকল্পিত ও ইঞ্জিনিয়ারিং প্লানমত হচ্ছে কিনা তা তদারক করবে এবং পরিকল্পনা মাফিক করার জন্য জমির মালিকের বিনিয়োগের প্রয়োজন হলে বিনিয়োগ করবে। প্রত্যেক পেশার লোকদেরকে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আরো দক্ষ করে তোলবে। বেকারদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পুঁজি দিয়ে কর্মে নিয়োগ করবে। উপযোক্ত স্থানে সম্ভাবনাময় শ্রমঘন লাভজনক মিলকারখানা গড়ে তুলবে। যারা বিদেশ যেতে চায় তাদেরকে কর্যে হাসানা দেবে এ শর্তে যে, তাদের যাবতীয় আয় এ কোম্পানীতে সঞ্চয় করবে এবং প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে পাসপোর্ট বানানো থেকে শুরু করে বিদেশ গিয়ে কর্মে নিয়োগ হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় বিষয় তদারক করবে। গ্রামের অপরিকল্পিত বাড়ীঘরকে পাশের খালি জমি বা উপরের খালি জায়গার বিনিময়ে পরিকল্পিত বহুতল ভবনের ফাউন্ডেশন দিয়ে নির্মান করে দেবে এবং নতুন পরিবারকে কিস্তিতে ফ্লাট বা প্লট বিক্রয় করবে। যার যখন যেটা প্রয়োজন তখন তা বিক্রয় করবে এ কোম্পানী এবং কিস্তিতে মূল্য আদায় করে নেবে। ইত্যাদি আরো অনেক কিছুই করতে পারে এ কোম্পানী।
এ সব পরিকল্পনা চায়লে ইউনিয়ন পরিষদও বাস্তবায়ণ করতে পারে, কিন্তু করবে না। করলেও তা মানুষের কাছে খুব বেশি আস্থাশীল হবে না। তবে করতে পারলে একটি ইতিহাস সৃষ্টি হবে। ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন প্রাইভেট কোম্পানী পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কাজ করলে অত্যন্ত দ্রুত সফল হওয়া যাবে। এ দুয়ের মধ্যে মিলও আছে অনেক, পার্থক্যও আছে অনেক। যেমন, নির্বাচিত ১৩জনকে দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়, যাদের প্রতিপক্ষ থাকে অনেকেই। ইউনিয়ন প্রাইভেট কোম্পানীর পরিচালনা পরিষদ গঠিত হবে সর্বোচ্চ বিনিয়োগকরী ১৩জনকে দিয়ে, যাদের কোন প্রতিপক্ষ থাকার কথা নয়। ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা হয় সরকারী নিয়োগপ্রাপ্ত, যাদের চাকুরী যাওয়ার ভয় থাকে না তেমন। কিন্তু প্রাইভেট কোম্পানীর সচিবরা হবে কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে, যাদের চাকুরী যাওয়ার ভয় থাকবে যে কোন মুহুর্থে। ইউনিয়ন পরিষদ কাজ করে সরকারী ফান্ড নিয়ে, সরকারকে হিসেব দিতে বাধ্য হলেও জনগণের কাছে বাধ্য নয়। ইউনিয়ন কোম্পানী কাজ করবে সদস্যদের ফান্ড নিয়ে, সদস্যদের কাছে হিসেব দিতে ও জবাবদিহি করতে বাধ্য। ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণত অলাভজনক কাজ করে, ইউনিয়ন কোম্পানী সাধারণত লাভজনক কাজ করবে বেশি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচিত হয় পাঁচ বছরের জন্য, ইউনিয়ন কোম্পানীর পরিচালনা পরিষদ নবায়ণ হবে প্রতি বছর বার্ষিক রিপোর্টের সাথে সাথে। ইউনিয়ন পরিষদে কোন উপদেষ্টা থাকে না, ইউনিয়ন কোম্পানীতে উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে, যাতে থাকবে পূর্বের পরিচালনা পরিষদ থেকে বাদ পড়া সবাই এবং ইউনিয়নের ভিতর-বাহির থেকে অভিজ্ঞ ও সুপরামর্শদাতাগণ। ইত্যাদি আরো অনেক পার্থক্য বা মিল থাকতে পারে উভয়ের মধ্যে।
এ ধরনের পরিকল্পনা ওয়ার্ড, পৌরসভা, উপজেলা, সংসদীয় আসন, সিটি কর্পোরেশন বা জেলা ভিত্তিকও করা যায়। অনেক টাকা খরচ করে নির্বাচিত হয়ে যত না কাজ করা যায়, তার চেয়েও বেশি কাজ করা যাবে এ ধরনের এলাকা ভিত্তিক প্রাইভেট কোম্পানীর মাধ্যমে। এতে শুধু নির্বাচনী ফান্ড বিনিয়োগ করলেও এলাকার অনেক উন্নয়ণ ও সেবামূলক কাজ করা যাবে। বিনা খরচে এলাকায় পরিচিত হওয়া যাবে, ফলে নির্বাচনী খরচও অনেক কমে আসবে। আপনি যে জনসেবার জন্য যে টাকা খরচ করে নির্বাচন করবেন, সে টাকা অন্তত নির্বাচনের আগে কয়েক বছর সে জনসেবার কাজে বিনিয়োগ করুন। দেখবেন আপনার ফান্ড অক্ষত রেখেই জনগণের এত বেশি সেবা করতে পারবেন যাতে আপনার জনপ্রিয়তা এমনিতেই আকাশছোয়া হয়ে যাবে।
উক্ত ইউনিয়ন প্রাইভেট কোম্পানীর মাধ্যমে যে কাজ করতে পারবেন, তা না হওয়া পর্যন্ত এহসান সোসাইটির ইউনিয়ন শাখার মাধ্যমেও সে কাজ করতে পারেন। তবে করবেন কি ?
লেখক- আহবায়কঃ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান মুসলিম ঐক্য পরিষদ। ০১৮১৯ ৮৩৩২৩৫, ই-মেইলঃ saifuleidgahcox@yahoo.com
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন