জাকের উল্লাহ চকোরী:
চকরিয়ার হারবাং থেকে এক কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ করে অপহরণকারীর ভাড়া বাসায় ২২দিন আটক রেখে নির্যাতন করার অভিযোগে মায়ের দায়ের করা মামলায় আসামীরা জেল খেটে জামিনে এসে বাদী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।গতকাল বিকালে মিথ্যা মামলায় হয়রাণীর শিকার সরকারী কর্মচারী আহমদ শফি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে, তার মেয়ে অপহরণ ও পরবর্তীতে অপহরণকারী চক্র কতৃক তার মেয়ে, বাদী তার স্ত্রী, মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবিদের বিরুদ্ধে সিরিজ মিথ্যা মামলার ফিরিস্তি তুলে ধরেন।
চকরিয়া উপজেলার হারবাং উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিষ্ট ও পেকুয়া উপজেলার টৈইটং বাজার পাড়া গ্রামের মৃত এজাহার মিয়ার পুত্র আহমদ শফির মেয়ে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক ইনষ্টিটিউট অব হেল্থ টেকনোলজির তৃর্তীয় বর্ষের আবাসিক ছাত্রী মোকারমা জন্নাতকে ২০১০ সালের ২২ নভেম্বর হারবাং বাসষ্টেশন থেকে পিতার ভাড়া বাসায় যাওয়ার পথে কক্সবাজার সদর উপজেলার হাজী আশরাফ আলী পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন পাড়ার মোহাম্মদ ইসমাইলের পুত্র নূর হোসেন নেতৃত্বে একদল দৃর্বৃত্ত অপহরণ করে একটি মাইক্রোবাসে করে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সে খানে ওই কলেজ ছাত্রীকে ২২দিন গৃহবন্দি করে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালায়। এ ব্যাপারে অপহৃত ছাত্রীর মাতা মোশরফা বেগম বাদী হয়ে গত ২০১০ সালের ৪ ডিসেম্বের চকরিয়া থানায় ৬ জনকে আসামী করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে চকরিয়া থানার তদন্তকারী কর্মকর্তার সহযোগিতায় সদর থানার পুলিশ অপহৃতা কলেজ ছাত্রীকে ১৩ ডিসেম্বর ১নং আসামীর ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করে এবং অপহরণকারীর প্রধান নূর হোসেন তার ভাই সরওয়ারকে গ্রেফতার করে।
এদিকে ওই ২ আসামী আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে এসে ওই অপহৃতা কলেজ ছাত্রী, তার পিতা আহমদ শফি ও মামলার বাদী মাতা মোশরাফা বেগমকে আসামী করে কক্সবাজার জুড়িশিয়াল ম্যাষ্ট্রিট আদালতে অপহরণকারীর প্রধান নূর হোসেনের মাতা রওশন আরা বেগমকে বাদী সাজিয়ে তার স্ত্রী মর্তুজা হোসেনকে মারধরের অভিযোগ এনে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালত থেকে ওই মামলাটি তদন্তের জন্য কক্সবাজার মডেল থানায় প্রেরণ করে। পরে থানা পুলিশ দীর্ঘদিন মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চুড়ান্ত রির্পোট দাখিল করে। পরে আদালত ৪ঠা মে মামলাটি খারিজ করে দেয়। মামলাটি খারিজ হওয়ার পর উক্ত তারিখে ওই অপহরণকারীর স্ত্রী মর্তুজা হোসেনকে বাদী সাজিয়ে কক্সবাজার নারী ও শিশু আদালতে আইনজীবি ভবন থেকে অপহরণকারীর পুত্র আলী হোসেন মেহেদী (৭)কে অপহরণের অভিযোগ এনে উল্টো অপহৃতা কলেজ ছাত্রী,তার পিতা- মাতা ও তাদের মামলা পরিচালনাকারী ২ জন আইনজীবি শহিদুল আলম ও ফরিদুল আলম, ২জন মসজিদের ইমাম এবং লোহাগাড়ার একজন ব্যবসায়ীকে আসামীকরে মামলা দায়ের করে। বর্তমানে থানা থেকে আনীত অভিযোগটি মিথ্যা বলে আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। ওই কলেজ ছাত্রী অপহারণকারী নূর হোসেন একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তা প্রমান করতে না পেরে সর্বশেষ কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাতলী গ্রামের মতৃ ফজর আলীর পুত্র নুরুল হককে বাদী সাজিয়ে সর্বশেষ উখিয়া থানায় গত ৮ জুলাই মামলা নং ০৮/১২৯ অপহৃতা কলেজ ছাত্রীর পিতা, মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবি শহিদুল আলম ও লোহাগাড়া ব্যবসায়ী জুবাইরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ পূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ এনে উখিয়া থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। বর্তমানে অপহরণকারী চক্রের প্রধান নূর হোসেনের মিথ্যা মামলা ও হয়রানীর শিকার হয়ে সরকারী কর্মচারী আহমদ শফি ও তার পরিবার পথে বসার উপক্রম হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন