সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতনের অপরাধে উপজেলা নিবার্চন কর্মকর্তা স্বামী জেল হাজতে

সুমন রায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের স্বামীর নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন খাকচাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহীনা আক্তার লাভলী। দুর্বল, ভারাক্রান্ত আর অসহায় চাহনীতে লাভলী বলছিল, বারবার জীবন ভিক্ষা চাইলাম, এখনই চলে যাব, আমাকে ছেড়ে দাও। কিন' আমার কোন কথাই শুনলো না। জুতা, খুনি-, হ্যাঙ্গার দিয়ে আমাকে পিটাতে থাকে। আঘাত করে পেটে। বটি দা দিয়ে কোপ দেয় মাথায়। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল ঘর।
লাভলীর উপর এমন লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারে নি উপস্থিত অনেক দর্শনার্থীরা। শুক্রবার রাতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এসময় তার স্বামী আখাউড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মেজবাহ উদ্দিন মিশু (৩৫)কে গ্রেফতার করে পুলিশ। শাহিনী আক্তার লাভলীর পিতা হাফিজুর রহমান ভূইয়া বাদী হয়ে মিশুর বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার সূত্রে জানা যায়, মিশুর সাথে লাভলীর বিয়ে হয় ২০০৫ সালের ১ লা ফেব্রুয়ারী। এরপর থেকে শহরের দক্ষিন মোড়াইলে রৌফ মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতো তারা। বিয়ের সময় লাভলীর স্বামীকে যৌতুক দেওয়ার পরও ইদানিং সে ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবী করে আসছিল এবং  টাকা না দিলে সুমিকে বিয়ে করার হুমকিও দেয় মিশু। লাভলী জানান, মিশু তার মামাতো বোন সুমী বেগমের সাথে দীর্ঘ দিন ধরেই প্রেম করে আসছিল। সুমীর ছোট বোনের বিয়ে হয়ে গেলেও সে মিশুর কাছে বিয়ে বসবে বলে বিয়ে বসেনি। তার সম্পর্কে কথা বললেই নির্যাতন শুরু করে। এর আগেও একবার আমাকে প্রচন্ড শারিরীক নির্যাতন করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে সে আমার ওপর হামলা চালায়। মারতে মারতে রক্তাক্ত করে ফেলে। তালা দিয়ে ঘরে আটকে রাখে। একপর্যায়ে আমাকে ভেতরে রেখে বাইরে তালা মেরে সে বাইরে গিয়ে একজন কম্পাউন্ডারকে নিয়ে এসে আমাকে দেখায়। এই অবস্থায় পুলিশ রাত ১১ টায় উদ্ধার করে লাভলীকে। গ্রেফতার করা হয় স্বামী মিশুকে। আজ শনিবার পুলিশ তাকে আদালতে প্রেরণ করে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রব জানান, বিভিন্ন কারনে লাভলীকে মারধোর করতো। শুক্রবার মারধোর করে তাকে ঘরে আটকে রাখে। খবর পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।

কোন মন্তব্য নেই: