সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

একটি পরিবার থেকে একটি ইতিহাস সৃষ্টি হতে পারে


-সাইফুল ইসলাম
পৃথীবিতে এমন অনেক পরিবার ছিল বা আছে বা হবে, যা শুধুমাত্র একটি পরিবার নয়, বরং অতীত বা ভবিষ্যতের ইতিহাসের একেকটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে বিবেচ্য। “পলিটিক্স” নামক আমার ধারাবাহিক লেখা পড়ে অনেকেই আমার সম্পর্কে, আমাদের পরিবার ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চান। অনেকেই আমার ছবি দেখতে চান। অনেকেই আমাদের কর্মতৎপরতা সম্পর্কে বিস্তারিত গোয়েন্দানুসন্ধান করতে চান। তাই সবার সুবিধার্থে এখানে পরিবার-প্রতিষ্ঠানসহ আমাদের যাবতীয় কর্মতৎপরতার চিত্র তুলে ধরছি, যদিও ছবি মনের কথা প্রকাশ করে না বিধায় নিজের ছবি প্রকাশ করতে চাই না, তবোও দিলাম।
আশা করি সার্বিক বিষয়ে পাঠকদের সুপরামর্শ বা মন্তব্য আমাদেরকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখাবে।
ককসবাজার জেলার সদর উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামে আমার জন্ম ও বংশ হলেও বর্তমানে আমাদের অবস্থান পার্শ্ববর্তী জালালাবাদ ইউনিয়নের বংকিম বাজার সংলগ্ন সায়দাবাদ কমপ্লেক্সে এবং আমাদের পারিবারিক কর্মতৎপরতা ছড়িয়ে আছে ককসবাজার থেকে ঢাকা পযর্ন্ত কম্পক্ষে সাত ইউনিয়ন, সাত উপজেলা ও সাত জেলায়।
আমি চট্টগ্রামস' জামিয়া দারুল মা’আরিফ থেকে বহির্মূখী হওয়ার পর খুরুস্কুল মুনিরিয়া থেকে ৯৭ সালে দাখিল, জামিয়া পটিয়া থেকে ৯৮ সালে দাওরায়ে হাদীস, ঈদগাঁও আলমাছিয়া থেকে ৯৯ সালে আলিম দিয়ে ২০০১ সালে ঢাকা গিয়ে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে আরবী মিডিয়ামে ২০০৫ সালে বিএ অনার্স ও ২০০৬ সালে মাস্টার্স সমাপ্ত করি এবং সে বছরেই বিয়ে করি। ২০০৮ সালের শেষে “দারুল ইহ্‌সান বিশ্ববিদ্যালয়ের ককসবাজার ক্যাম্পাস” প্রতিষ্ঠার কাজ, ২০১০ সালের শেষে “দারুল ইহসান কলেজ, ককসবাজার” প্রতিষ্ঠার কাজ এবং ২০১১ সালের শেষে “চকরিয়া ট্যাকনিক্যাল কলেজ” প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করি। আগামীতে উপযোগিতা ও প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে প্রতি উপজেলায় একটি করে ট্যাকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পণা আছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা নাই বা বললাম।
আব্বার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে চৌফলদন্ডী ইউনিয়নে নোমানিয়া মাদরাসা। জালালাবাদ ইউনিয়নে আল-গিফারী ইসলামিক সেন্টার। ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভাদিতলায় মাদরাসা আলী বিন আবী ত্বালিব (রাঃ), হাছিনাবাদে মাদরাসা সাঈদ বিন যাইদ (রাঃ), পূর্ব মেহেরঘোনায় যুবাইর বিন আওয়াম (রাঃ)। ইসলামাবাদ ইউনিয়নের মধ্যম গজানিয়ায় মাদরাসা আবু ওবাইদা (রাঃ), পূর্ব গজালিয়ায় মাদরাসা তালহা বিন উবাইদিল্লাহ (রাঃ)। বাইশারি ইউনিয়নে মাদরাসা আব্দুর রহমান বিন আউফ (রাঃ)। এ ছাড়া ঈদগড়সহ আরো অনেক ইউনিয়নে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে এবং পোকখালী-ইসলামপুরসহ আরো অনেক ইউনিয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা হবে ইনশাআল্লাহ। এ সব প্রতিষ্ঠান থেকে নূরানী ৩য় বর্ষ নূরানী বোর্ডের অধীনে এবং পৃথক পুরুষ ও মহিলা শাখা বেসরকারী শিক্ষা বোর্ডর অধীনে পরিচালিত হলেও ৫ম ও ৮ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষা সরকারী শিক্ষা বোর্ডের অধীনেই দিয়ে থাকে। এ সব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় ছাত্র ফি ও এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায়। বর্তমানে “ঈদগাঁও ক্যাডেট মাদরাসা” এবং সকল প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণ, পরিচালন ও বর্ধনের জন্য প্রতিষ্ঠাতার নামে “এএইচএসকে ফাউন্ডেশন” করার প্রস্তুতি চলছে।
মাত্র ২৬ দিনে পূর্ণ কোরআন হিফজকারী ও দাখিল আলিম ফাজিলে বোর্ড স্ট্যান্ডকারী, দশাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা হাফেজ ছৈয়দ করিম আমার আব্বা এবং ককসবাজার জেলার প্রথম মহিলা দাখিল পরীক্ষার্থীনী কামিল সমাপ্তকারী ফাতেমা খাতুনে জান্নাত আমার আম্মা। যার হাতের আরবী লেখা দেখে লেখককে দেখার জন্য সৌদি আরবের এক শেখ আসা-যাওয়ার বিমানের টিকেট পাঠিয়েছিলেন সেই মাওঃ শাহেদুল ইসলাম আমার বড় ভাই। দাওরায়ে হাদীস, কামিল, ডবল অনার্স ও আরবী মিডিয়ামে মাস্টার্স পাসকারী ককসবাজার জেলার একমাত্র মহিলা, বর্তমানে কামিল মাদরাসা ও দারুল ইহ্‌সান বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার সাজেদা বুলবুল মাইমুনা আমার ১ম ছোটবোন। ২য় ছোট বোন হাফছা খানম আন-র্জাতিক ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চিটাগাং থেকে কোরআনিক সাইন্সের প্রথম মহিলা ব্যাচে অনার্স-মাস্টার্স সমাপ্তকারী। ৩য় ছোট বোন মুছলিহা খানম বিএ অনার্সে ও ৪র্থ ছোট বোন তাহেরা আক্তার আলিমে অধ্যয়ণরতা। একমাত্র ছোট ভাই শোয়াইবুল ইসলাম পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্ত্বি পরীক্ষার্থী।
আমার নানার বাড়ী চকরিয়ার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ছিকলঘাট এবং শশুর বাড়ী চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের শানি-বাজার। আমার আম্মা চকরিয়া ডিগ্রী কলেজ ও আমজাদিয়া ফাজিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা রফিক আহমদ চৌধুরীর ভাতিজি এবং শাশুড়ী আম্মা আইডিএল ও বরইতলী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা খতীবে আযম মাওলানা ছিদ্দিক আহমদের ভাতিজি। মাওঃ আবুল কাশেম ও জাহেদা বেগমের তিন ছেলে ও আট মেয়ের সর্বকনিষ্ট কিসুয়ার হাছিন আমার একমাত্র সন্তান মোহাম্মদ নূহ্‌ (জন্ম ২৯/১১/২০০৮)-এর মা।
আমাদের আত্ত্বিয়-স্বজন ছড়িয়ে আছে বা কর্মতৎপরতা বিসতৃত হচ্ছে কক্‌সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ঢাকা জেলায়। তিন স'রের কাজ ব্যাপক ভাবে ফুটে উঠতে তিন প্রজন্মের প্রয়োজন হচ্ছে। ১ম স'রে ইউনিয়ন ভিত্তিক ধর্ম শিক্ষা বিস্তারের দায়িত্ব পালন করেন এগ্রিকালচার ফ্যামিলি থেকে আসা পিতা আল্লামা হাফেজ ছৈয়দ করিম। ২য় স'রে উপজেলা ভিত্তিক কর্ম শিক্ষা বিস্তারের দায়িত্ব পালন করছেন এডুকেশন ফ্যামিলি থেকে আসা পুত্র সাইফুল ইসলাম। ৩য় স'রে জেলা ভিত্তিক দায়িত্ব পালন করার জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে পলিটিক্যাল ফ্যামিলি থেকে আসা নাতি মোহাম্মদ নূহকে।
এক দিকে উলুল্‌ আজ্‌মে মিনার্‌ রুসূল বা নতুন সংবিধানপ্রাপ্ত পাঁচ জন বড় বড় রাসূলের মধ্যে সর্বপ্রথম রাসূল হযরত নূহ (আঃ)-এর জাতি কোনটা তা খুজে পাচ্ছে না। অন্যদিকে বড় বড় পাঁচটি জাতির মধ্যে সনাতন ধর্ম বা সর্বপ্রাচীন হিন্দু জাতির আদি ধর্মাবতার কে ছিলেন তাও সুস্পষ্ট ভাবে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে হিন্দু ধর্মে মনুকে আদিপিতা বলা হয়, যদিও ইসলাম ধর্মে হযরত নূহ (আঃ) হলেন ২য় পিতা। হিন্দু ধর্মগ্রনে' মনুসংহিতা নামক একটি অধ্যায় আছে, ইসলাম ধর্মগ্রনে' সূরা নূহ নামক একটি অধ্যায় আছে। হিন্দু ধর্মে মনুর নৌকা এবং সে সময়ে বিশ্বব্যাপী বন্যার কথা উল্লেখ আছে, ইসলাম ধর্মে হযরত নূহ (আঃ)-এর নৌকা এবং সে সময়ে বিশ্বব্যাপী বন্যার কথা উল্লেখ আছে। আদিপিতা আদম (আঃ) শ্রীলংকায় অবতরণ করলে এবং হযরত ইব্রাহীম (আঃ) অগ্নি উপাসনার এলাকা থেকে পারস্যের উপর দিয়ে ফিলিসি-ন ও মক্কায় হিজরত করলে, হযরত আদম (আঃ) ও হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর মধ্যখানে হযরত নূহ (আঃ) শ্রীলংকা ও অগ্নি উপাসনার দেশ ভারত উহমহাদেশেই ছিলেন কিনা, যে দেশ হিন্দু জাতির একমাত্র ঠিকানা, কালের পরিক্রমায় মহা নূহ সংক্ষেপে মনু হয়েছেন কিনা, হযরত নূহ (আঃ)-এর খুজে না পাওয়া জাতি এবং হিন্দু জাতির খুজে না পাওয়া আদিধর্মাবতারের মধ্যে কোন যোগসুত্র আছে কিনা, ইত্যাদি খুজে বের করার জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে মুহাম্মদ নূহ বা সংক্ষেপে মনুকে, যার পিতার ডাক নাম সীমান্ত অসি। যার প্রধান কাজ হবে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান মুসলিমকে এক স্রষ্টার আনুগত্য ভিত্তিক জাতীয় ভাবে ঐক্যবদ্ধ করে ধর্মীয় জাতিগত দাঙ্গা থেকে এ অঞ্চলকে মুক্ত করা। এ বিষয়ে ব্যাপক গবেষণার জন্য “হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান মুসলিম ফ্রেন্ডশীফ একাডেমী এন্ড লাইব্রেরী” প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে এবং পারস্পরিক সমপ্রীতি স্থাপনের জন্য “হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান মুসলিম ঐক্য পরিষদ” গঠন করা হচ্ছে।
যে কোন সাংবাদিক শুধুমাত্র ২৬ দিনে পূর্ণ কোরআন মুখস' করাকে হাইলাইড করে নিজেই হাইলাইড হতে পারেন। যে কোন রাজনীতিবিদ শুধুমাত্র হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান মুসলিম ঐক্যের ফরমুলাকে কাজে লাগিয়ে শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ হতে পারেন। যে কোন গোয়েন্দা শুধুমাত্র যে কোন একটি অভিযোগ দিয়েই একটি সৃষ্টিশীল পরিবারেরের যাবতীয় সৃষ্টিশীল কর্মতৎপরতা চিরতরে বন্ধ করে লাইম লাইটে আসতে পারেন।

লেখক- আহবায়কঃ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রষ্টান মুসলিম ঐক্য পরিষদ। ০১৮১৯ ৮৩৩২৩৫।

কোন মন্তব্য নেই: