সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

অপেক্ষায় থেকো ছেঁড়া দ্বীপ

ওবাইদুল হক আবু চৌধুরী

ছবি ও টিভি দেখছিলাম  ক্যারিবিয়ানের সৌন্দজ্য ক্রমশ লোভাতুর হযে পড়ছিলাম ।এমন নীলাভ জলরাশি আর নারকেল বীথি ছোট ছোট ছিমছাম দ্বীপঞ্চলের নির্বাসনে যাওয়ার জন্য মনটা   আঁকাপাঁকু করছিল ।দৌড়ঝোঁপ শুরু করলাম ওখানে থেকে  ঘুরে আসতে  কত  টাকা লাগে তাজানা প্রয়োজন। তথ্যাদি  হাতে পাওয়ার পর আপাতত ছবি  দেখেই তৃষ্ণা মেটানোর সিন্ধান্ত নিলাম।কিন্তু' মনের ভেতর একটা ভয়াবহ  সামুদ্রিক সুন্দরের হাতাছনি প্রতিনিয়ত



পোহাতে লাগল।শুনলাম উখিয়া ডিসাইড   ক্লাব  বনভোজনের আযোজন করতেছে  ক্লাবের কয়েক সদস্য  এসে জিঞ্জাসা করল  সেন্টমাটিন যাবে কি?  আমি আর না করিনি, হ্যা  যাবো , ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে  যেতে পারিনি তো কি  হযেছে ? ছবিতে ছেঁড়দ্বীপ  ও  সেন্টমাটিনের  জলরাশিওতো  দেখছি অনেক নীল। সারি মারি নারকেল গাছের  মুগ্ধতাও কম নয়। গত ২৪,২,২০১১উখিয়া থেকে রওনা দিলাম  টেকনাফের সেন্টমাটিন যাবা জেটি ঘাটে। সকাল ১০ টাই । কেয়ারি সিন্দাবাদ  জাহাজে রওনা হলাম ।যেতে যেতে কত কিছু দেখছি। অবিকল   সুন্দরনের মতো দেখতে  একটা দ্বীপের দেখা পেলাম নাফ নদীর পাড়ে ।স্থানীয় যাত্রীদের  থেকে নাম জিঞ্জাসা করা হলে তারা জানায়  এই  দ্বীপের নাম নাকি .জল্লার দ্বীপ,। ডানে তাকিয়ে চোখ  ছানাবড়া। কি  উঁচু   উঁচু পাহাড়ের সারি। নাফ  নদীর  কোলের   এই  উঁচু জায়গার নাম (নেটং
পাহাড়)স্থানীয় ভাষায় বলে নাইক্ষ্যনের টুড়া,। কিছু দূর যেতে পড়ল মিয়ানমারের  নাসাকা বাহিনীর  ক্যান্টমেন্ট ।একদম মিয়ানমার ঘেঁষেই  আমরা যাচ্ছি  ।এ যেন সত্যিই রথ দেখা আর কলা বেচার  সারন্তক  আয়োজন । আর ও  কিছু দুর যাওয়ার পর আশপাশে আর কিছু নেই । চারদিক শুধু পানি আর পানি ।  আমরা এখন   সমুদ্রের বুকে । জলের এতো সমাহার দেখে অনিয়ন্ত্রিত অবেগে সবার  অবস্থা  টালমাটাল। দুই ঘন্টা  পর আমাদের  চোখে পড়ল  সারি সারি নারকেল  গাছ, কেয়ার ঝোপ আর অসংখ্য ট্রলারের খেলা ছবির মতো। সত্যি  যেন ফ্রেমে বাঁধা ছবির মতোই লাগছে সবকিছু।আমরা  নামলাম স্বপ্নের দ্বীপ  সেন্টমাটিনে। হেটে যাচ্ছিলাম হোটেলের দিকে ।আগে বুকিং  দিয়ে রেখেছিলাম। মাঝের রুমে গিয়ে বসলাম।সমুদ্রের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে সামনে। সারাদিন  টইটই  করে। আমরা  সেন্টমাটিন ঘুরে বেড়ালাম।এখানে  সেখানে কেয়ার ঝোপ, সারি সারি নারকেল  গাছ  আর যত্র তত্র ছোট বড় পাথরের পাশাপাশি ট্রলারগুলোও যেন এদ্বীপের সোন্দর্যেও অন্যতম অনুষঙ্গ । আমরা  হোটেলের ফিরলাম সুর্য্য ডোবার পর । সবাই ক্লান্ত । খাওযা-দাওযা পর্ব শেষ। সবাই ঘুমের প্রস্থুতি নিচ্ছে ।আমরা যখন বারান্দায় বসেছি  তখন মধ্য রাত। পুরো  সেন্টমাটিনের পিনপতন নীরবতা। সমুদ্রের গর্জন ছাড়া আর কোন শব্দ নেই।ভরা পূনিমার রাত। খা খা বুকে নিয়ে সমুদ্রের কি যে মাখামাখি! আহা! মগ্ধাতায় চোখে জল এসে  যায়। আমরা নেমে গেলাম রাতের  সেন্টমাটিনের  সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য। কিসের আবার ক্যারিবিয়ান? আমাদেও সন্টেমাটিন  কোন অংশেই কম নয়।এমন ভরা পূনিমায়  সন্টেমাটিনের রূপ যে পরখ করেনি,তার জন্য বৃথা।দিনরে ক্লান্তির পর  আমাদেও ঘুমানোর কথা ছিল । কিন্ত  চোখের  সামনে  পূনিমার রাতের নির্লজ্জ  বিবস্ত্র  সমুদ্রের এমন ছলাকলা দেখে কার  চোখে ঘুম আসে?পর দিন সকালে  ছোটখাটো একটি ট্রলার বাড়া  করে   ছেঁড়াদ্বীপের রওনা হলাম।সত্যি সত্যি যাচ্ছি ।ট্রলারটা রাখা আছে তীর থেকে বেশ দূরে । আপাতত ছোট নোকার সাহায্যে  ট্রলারের উপর উঠলাম। যদি ও স্বচ্ছ ও পানির  নিচে বালুর প্রলেপ দেখতে পাচ্ছি তবু ও  এমন একটি ট্রলার হেলেধুলে চলছে।আস্তে  আস্তে   দৃষ্টির সীমানা থেকে মিলিয়ে  সেন্টমাটিন । চোখের সামনে পানি আর পানি। বাতাসের বেগ বাড়তে শুরু করে , বড় বড় হতে থাকে ঢেউয়ের আকৃতি  মাছ ধরার   ছোট্র ট্রলারের যাত্রী হয়ে আমরা এখন মধ্য সমুদ্রে।এদিক দিয়ে গেলে নাকি তাড়াতাড়ি পৌছান যাবে।প্রায় পোনে এক ঘন্টার  সমুদ্র অভিযান শেষে আমরা এলাম  ছেঁড়াদ্বীপ স্বচ্ছ পানির নিচে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি,থোকা থোকা প্রবাল অপরূপ সাজে ফুটে আছে ।প্রবালের  ফাঁক -ফোকরে কত রঙের মাছের ছুটাছুটি  ।থরে থরে  ছোট বড়-পাথর     সাজিয়ে রাখা হয়েছে।এগুলো নাকি প্রবালের খোসা। আর  এই খোসাগুলোর উপওে হাজার হাজার বছর ধরে  আছে আমাদেও ছেঁড়দ্বীপ।  অল্প  সময় হেটে বেড়ালে  দ্বীপটা দেখে নেয়া যায়।  কিন্ত দু চারটা কেয়ার ঝোপ আর বেশ কিছু নারকেল গাছ নিয়ে যে ছেঁড়াদ্বীপ নিঃসঙ্গ  অবস্থায় তার স্বাতন্ত্র মগ্ধতা ছড়াছে তা খুটে খুটে  দেখতে সময় লেগে যায় অনেক টা। ছেঁড়দ্বীপে ঘুরেবেড়ানোর পর আমার মনে হয়নি আমাকে ক্যারিবিয়া  অঞ্ছলে যেতে হবে। আমি বার বার  এখানে আসব।   জীবনের হিসাব নিকাশ ভুলে গিয়ে  সুযোগ পেলে এখানে  ।এই ছেঁড়াদ্বীপে
 
চলে আসব।উদার  আকাশে নিচে, নীল সমুদ্রের কোলে   প্রবালের খোসার উপরে  বসে বসে নিঃসঙ্গ  ছেঁড়াদ্বীপের সঙ্গে নিজের  নিঃসঙ্গতাকে একাকার কওে কাটিয়ে দেব ব্যক্তিগত সকাল-দুপুর আর সন্ধাবেলা। আমি আবার ও আসব। আমাকে আসতে হবে। অপেক্ষায় থেকো ছেঁড়দ্বীপ।

লেখক
ওবাইদুল হক আবু চৌধুরী
www.ukhianews24.tk
ukhianews24@gmail.com

০১৮১৯৫১২৯৯৮

কোন মন্তব্য নেই: