মাটি খুবলে প্রবাল তুলে ভবন নির্মাণকারীদের অপরিনামদর্শী আর আত্মঘাতী প্রতিযোগিতার কারণে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের স্বপ্নরাজ্য সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপ মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। এ সর্বনাশ ঠেকাতে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন্সে পরিবেশ
অধিদপ্তর অভিযান শুরু করেছে। অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক জাফর আলমের নেতৃত্বে রোববার এ অভিযানে টেকনাফ থানা পুলিশ, কোস্টগার্ড ও আনসার অংশগ্রহণ করে। অভিযানে ৭ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে এবং জব্দ করা হয়েছেবেশ কিছু সিমেন্ট, রড, ইট ও একটি জেনারেটর।জাফর আলম বাংলানিউজকে বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া সেন্টমার্টিন্সে অর্ধ শতাধিক হাইরাইজ ভবন ও আড়াই শতাধিক সেমিপাকা,
আধাপাকা হোটেল ও রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ভবন নির্মাণ করতে মাটির নিচের প্রবাল পাথরের কাঠামো ভেঙ্গে পাকা কলাম নির্মাণ করেছেন ভবনের মালিকেরা। মাটি থেকে তোলা প্রবাল পাথরের খণ্ড ভেঙ্গে খোয়া তৈরি করে মেঝে ঢালাই করা হয়েছে। কোমল কাঠামোর জমাট প্রবালের এ দ্বীপের পাথর তুলে তা দিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ভবন তৈরি করা হচ্ছে। এ যেন যে ডালে বসা সেই ডালই কেটে ফেলার মত ঘটনা। তবে এ বিপদ সম্পর্কে ভ্রুক্ষেপ যেন নেই কারও।’ বিশেষজ্ঞদের মতে- এভাবে চলতে থাকলে হঠাৎ এমন সময় আসবে যখন হঠাৎ করেই একদিন সেন্টমার্টিন্সের অস্থিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক জাফর আলমে বলেন, ‘পুরো সেন্টমার্ন্টিন্স দ্বীপটিই প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। এসব এলাকায় ভবন তৈরিতে দ্বীপের প্রবাল পাথর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ এ দ্বীপে এধরনের ঘটনাই ঘটছে। খাল, পুকুর, সৈকতের বালিয়াড়ি দখল ও ভরাট করে ভবন তৈরি করা হচ্ছে। একটা নৈরাজ্য চলছে এ দ্বীপে। এ অবস্থা কিছুতেই চলতে দেয়া যায় না।’তিনি জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট টিম সাতটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ১ কোটি ১০ লাখ ১৮ হাজার ৮ শত টাকা জরিমানা করেছে। জরিমানা করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- মোল্লা বশির আহমদ পান্না ৫ লাখ ২২ হাজার ৬০০ টাকা, কেয়ারি মার্জান ২৬ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ টাকা, ছৈয়দ আলম ২০ লাখ ৯০ হাজার ৮০০ টাকা, রেজাউল করিম ১ লাখ টাকা, নজরুল ইসলাম চৌধুরী ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ টাকা, আবদুর রহমান ১৭ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা, শামশুল হুদা ২০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। জরিমানার এ টাকা পে অর্ডারের মাধ্যমে ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে পাঠাতে বলা হয়েছে।এনফোর্সমেন্ট টিম ১৩৫ বস্তা সিমেন্ট, ১টি জেনারেটর, ৫০ টন রড ও ১০ হাজার ইট জব্দ করে কোস্টগার্ডের জিম্মায় দিয়েছে। এসব মালামাল সময়মতো নিলাম দিয়ে দ্বীপ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জাফর আলম বাংলানিউজকে জানান।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন