উখিয়ার কুতুপালংয়ে মায়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকৃত অবৈধ রোহিঙ্গাদের সাথে স্থানীয় কুতুপালং এলাকার গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৪ রোহিঙ্গাকে আটক করে। স্থানীয় ও থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গতকাল ১৬ জুলাই ভোর সাড়ে ৬ টার সময় উপজেলার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প সংলগ্ন মধুর ছড়া গ্রামে পাহাড়ের উপর ১৫/২০ জনের সশস্ত্র ওয়ারেন্টভুক্ত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোপনে অবস্থান করার সংবাদের প্রেক্ষিতে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়াজ মোহাম্মদের নেতৃত্বে
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থে'লে পৌঁছালে পুলিশের উপসি'তি টের পেয়ে সন্ত্রাসী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ঘটনাস'ল থেকে পুলিশ চার রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃত রোহিঙ্গারা হল আব্দুল্লাহ (৩০), জয়নাল (২৮), আমিন (৩২), মোঃ ইউনুছ (২৯)। পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা টালে গিয়ে এ সংবাদ দিলে কয়েকশত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশ ও গ্রামবাসীর উপর হামলা চালায়। এ সময় স্থানীয় গ্রামবাসী পুলিশের সহায়তায় সামনের দিকে মোকাবেলা করতে গেলে উক্ত সংঘর্ষ বিরাট আকারের রূপ ধারণ করে। এতে স্থানীয় গ্রামবাসী সহ অন্তত ১০ রোহিঙ্গা আহত হয়। আহত গ্রামবাসীদের উখিয়া সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের অভ্যন্তরে এমও এইচ এ ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় মধুরছড়া গ্রামবাসী রফিকুল ইসলাম (৩২) জানান, বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ দুস্কৃতিকারী রোহিঙ্গারা উক্ত এলাকা থেকে গরু, ছাগল ধরে নিয়ে জবাই করে। পাহাড়ের ঢালুতে গত ১৫ জুলাই গরুর চামড়া ও শিং পাওয়া যাওয়ার পর তা থানায় জমা দেয়া হয়। মূলত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসী ও রোহিঙ্গার মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনাটির উদ্ভব হয়।
উখিয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, পুলিশের তাৎক্ষনিক এ্যাকশনের কারনে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ সহ যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাস'লে অতিরিক্ত পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।
কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাম্প ইনচার্জ ও ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, মূলত রেজিষ্টাড বিহীন অবৈধ রোহিঙ্গাদের সাথে গ্রামবাসীর মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। রেজিষ্টাড কোন রোহিঙ্গা এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্তা গ্রহণ করা হবে। তবে পরিস্থি'তি শান্ত বলে তিনি দাবী করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুরুল আলম নিজামী বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে উপস্থী'ত হয়ে সার্বিক খোঁজ খবর সহ ক্যাম্পে কর্মরত কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে। পরবর্তীতে এরূপ কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন