উখিয়ানিউজ২৪মাথায় ব্যান্ডেজ। হাতে পায়ে শুকনো রক্তের দাগ। হাতে হাতকড়া পরা কালো লিকলিকে একটি ছেলে। বয়স আনুমানিক ২২ বছর। সারা শরীরে অসংখ্য ক্ষত। কিছুক্ষণ পর পর বিড়বিড় করে বলছে, `স্যার, আমি ডাকাত না। আমার কথা শোনেন, আমরা ডাকাতি করতে যাইনি।
এ হলো আল আমীন। সাভারের আমিনবাজারে ‘ডাকাত’ সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে তরতাজা ৬ তরুণকে হত্যার জ্বলন্ত সাক্ষী। মরতে মরতে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন তিনি।
আল আমিন নির্মম এই ট্রাজেডির `জীবন্ত কিংবদন্তী`। তবে তাকে নিয়ে নানা গুজব উঠছিলো। তার মৃত্যুর খরব জানতে থানায় ফোন আসার পর ডিউটি অফিসার ছুটলেন হাজতের দিকে। তার যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না আল আমিন বেঁচে আছে। এতো পিটুনির পরও মানুষ বেঁচে থাকতে পারে! এই প্রশ্নই যেনো ঘুরপাক খাচ্ছিলো থানার সর্বত্র।
মৃত্যুকে খুব কাছ দেখে হতবাক আল আমীন নিজে। আর চরম বিস্মিত নিজের বেচেঁ থাকা নিয়েও। ছয় বন্ধুর দেহ যখন লাশকাটা ঘরে কাটা ছেঁড়া হচ্ছে, আল আমীন তখন শরীরে অসংখ্য ক্ষত নিয়ে থানা হাজতে জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে শুয়ে । তবে মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পেলেও মুক্তি নেই পুলিশের হাত থেকে। বেঁচে থাকলে ডাকাতির মামলার আসামি হিসেবেই আগামী দিনগুলোতে কারাগার কিংবা আদালতপাড়ায় তাকে ঘুরতে হবে। এলাকাবাসীর দায়ের করা মামলার বদৌলতে এটা এখন নিশ্চিত।
নিজে একটি খাদ্য প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি তিনি। পড়শোনা বেশি দূর করা সম্ভব হয়নি। পঞ্চম শ্রেণী পাস। বাবা হবি ব্যাপারি। গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার সুতারপাড়ায়। থাকতেন মিরপুরে।
বন্ধু মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী কামরুজ্জামান কান্তর সঙ্গে গিয়েছিলেন আমিনবাজারে।
সোমবার দিনে কয়েক দফা কথা হয় আল-আমীনের সঙ্গে।
নানা প্রশ্নের একই উত্তর, ‘আমরা রিকশা থেকে নেমে হাঁটতে হাঁটতে সেখানে পৌঁছে আড্ডা দিচ্ছিলাম। সঙ্গীদের অনেকে দুটি ভাগে আড্ডা দিলেও আমি মুঠো ফোনে গান শুনছিলাম। হঠাৎ করেই দূর থেকে দেখতে পাই অনেকগুলো আলো আসছে আমাদের দিকে। কাছে আসতেই দেখি সেগুলো টর্চের আলো। এক পর্যায়ে এসব আলো আমাদের ঘিরে ফেলে। তারপর চলে শত মানুষের কিল ঘুষি, লাথি। এক পর্যায়ে আধমরা অবস্থায় দেখি পুলিশ। আমি তার পা জড়িয়ে বলি, স্যার- আমরা ডাকাত না, ঘুরতে এসেছি। তারপরও চলে পিটুনি। শেষে এক দারোগা এগিয়ে গেলে আমি রক্ষা পাই। আমাকে তোলা হয় পুলিশের গাড়িতে। হাসপাতাল হয়ে এখন হাজতে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন