উখিয়ানিউজ২৪
কক্সবাজার সমবায় ব্যাংকের বহুতল বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে নিয়ম অমান্য করে চুক্তি সম্পন্ন করেছে জেলা সমবায় কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ চৌধুরী। এ কর্মকর্তা রহস্যজনক কারণে একটি ডেভেলাপার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পানির দরে শহরের এ মূল্যবান জমিটির চুক্তি হস্তান্তর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে গত ১৪ জুলাই স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ
করেছেন কক্সবাজার কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি খোরশেদ আলম কুতুবী।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে কক্সবাজার শহরের প্রধান প্রাণকেন্দ্রে ব্যাংকের নিজস্ব ২০ শতক জমিতে ২১ তলা বিশিষ্ট সমবায় টাওয়ার নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারী খোলা ওই দরপত্র নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় যুগ্ম-নিবন্ধক এ দরপত্রের কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। পরে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয়। যুগ্ম-নিবন্ধকের নির্দেশে দরপত্র সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকার সুযোগে জেলা সমবায় কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ চৌধুরী এম. আর ট্রেডিং নামের একটি ডেভেলাপার প্রতিষ্ঠানকে বহুতল বিশিষ্ট ভবনের নির্মানকাজ বুঝিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করেন।
বহুতল ভবনের কাজ পাইয়ে দিতে জেলা সমবায় কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ চেওধুরীর পরামর্শে মাহামান্য হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করে এম.আর ট্রেডিং নামক ডেভেলাপার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। ওই মামলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, নিবন্ধক, যুগ্ম-নিবন্ধক, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, সহ-সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সকল সদস্য ও জেলা সমবায় কর্মকর্তাকে আসামী করা হয়। ওই মামলায় দেয়া ব্যাংকের গোপনীয় কাগজপত্র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে এম. আর ট্রেডিংকে সরবরাহ করেন জেলা সমবায় কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ চৌধুরী।
কক্সবাজার কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি খোরশেদ আলম কুতুবী জানান, ওই মামলা সম্পর্কে তিনি মোটেও অবগত নন। এমনকি মামলায় তিনি এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের নামে জারি করা সমন কৌশলে গোপন রাখা হয়।
গত ৩১ মার্চ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও কক্সবাজার কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আয়ুবুর রহমান বদলী হন। এর পর থেকে জেলা সমবায় কর্মকর্তা নানা প্রকার ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে ওই পদে ভারপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা যোগদান না করার উদ্দেশ্যে উর্ধ্বতন মহলে সফল তদবির চালান। এভাবে কর্মকর্তা বিহীন অফিসের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে প্রায় তিন মাস। এদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিবের দেয়া আদেশের কপিতে অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে ভূয়া নথি সৃজন করেন বিতর্কিত ওই জেলা সমবায় কর্মকর্তা।
এদিকে ব্যাংকের জমি পাওয়ার জন্য দায়ের করা মামলায় রায় পেয়ে যায় ডেভেলাপার প্রতিষ্ঠানটি। এব্যাপারে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটি দ্রুত সভা আহ্বান করে এবং ওই মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য ঢাকা যান কক্সবাজার কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি খোরশেদ আলম কুতুবী। সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলাটি পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মামলার আপিল সত্ত্বেও হাইকোর্টের রায়ের কপি নিয়ে ডেভেলাপার প্রতিষ্ঠান এম.আর ট্রেডিং এর মালিক মিজানুর রহমান গত ৩ জুলাই জেলা সমবায় কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ চৌধুরীর সঙ্গে বহুতল বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন সমবায় টাওয়ার নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ ও চুক্তি সম্পাদন করে ফেলেন। যদিও এ ধরনের চুক্তি করার এখতিয়ার ওই কর্মকর্তার নেই বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের উর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গ।
কক্সবাজার কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি খোরশেদ আলম কুতুবী আরো জানান, এ চুক্তি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এখতিয়ার বর্হিভূত। এটি বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
এব্যাপারে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমবায় দপ্তরের যুগ্ম-নিবন্ধক কামরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের চুক্তি করার এখতিয়ার জেলা সমবায় কর্মকর্তার নেই। সিদ্ধান্ত নেবে টেন্ডার কমিটি। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, বর্তমানে শহরে অনেক জমি ডেভেলাপার প্রতিষ্ঠান শতকরা ৫০ ভাগ এর উপরে ছাড় দিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করলেও ব্যাংকের এ ভবন নির্মাণ চুক্তি হয়েছে মাত্র শতকরা ৩০ ভাগ এর ভিত্তিতে। ফলে একদিকে সরকার প্রচুর রাজস্ব হারাবে। বিধি লঙ্ঘন করে বিতর্কিত এ চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারলে ব্যাংকটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে, অন্যদিকে ডেভেলাপার প্রতিষ্ঠানটি রাতারাতি আঙ্গুল ফলে কলাগাছ হবে ধারণা অভিজ্ঞ মহলের।
এব্যাপারে জেলা সমবায় কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ চৌধুরীর মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভি করেননি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন