সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

চকরিয়ায় বন্যার ভয়াবহতা বাড়ছেই: পানি বন্দি মানুষের দুর্ভোগ চরমে: ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

এম.জিয়াবুল হক ,চকরিয়া:


চকরিয়ায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি অপরিবর্তত থাকায় উপজেলার আটার ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার প্রায় ২শ গ্রামের ৩ লাখ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। গত চার দিনেও পানি নেমে না যাওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। উপজেলার প্রায় ফসলী জমি হাটু পানির নীচে তলিয়ে গেছে। পানির প্রবল স্রোতে ভেঙ্গে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক হাজার মিটার বেড়িবাঁধ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রচন্ড বেগে ভেঙ্গে গেছে পাউবো’র শহর রক্ষাবাঁধ। চকরিয়া পৌরশহরের কোচঁ পয়েন্টের শাহ মজিদিয়া মাদরাসার পাশ্বেই এই বোড়বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে হু-হু করে লোকালয়ে ঢুকছে মাতামুহুরী নদীর পানি। পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র শহীদুল ইসলাম ফোরকান জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রত সময়ে শহর রক্ষাবাঁধ রক্ষায় ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় বড় ধরণের দুযোর্গের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে সংশি¬ষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, মাতামুহুরী নদীর পানি বৃহস্পতিবার বিকেলে বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে পাহাড়ী ঢলের ও সামুদ্রিক জোয়ারের পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে উপজেলার প্রায় ইউনিয়নের ঘরবাড়ি, স্কুল মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, দোকান পাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আতিক উল¬াহ জানিয়েছেন, উপজেলার ৩ হাজার ৭৫০ একর জমির আউশ ক্ষেত, ২ হাজার ৫০০ একর জমির আমনের বীজতলা, ১২৫ একর জমির রোপা আমন ও ১২শত একর জমির রবি সষ্যের ক্ষেতের মধ্যে প্রায় ৯০ভাগ জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন,  ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে এলজিইডির সড়ক, কালভাট ও নির্মানাধীন কাজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ফাসিয়াখালীর শাহ সুজা সড়কের একটি কালভাট ভেঙ্গে গিয়ে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার প্রায় ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। পুর্নাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনে কদিন সময় লাগবে বলে জানান তিনি। এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: বাকি বিল¬াহ সকাল থেকে উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন পরিদর্শন করে বিকেলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, উপজেলার প্রায় প্রত্যেক ইউনিয়নের মানুষ পানি বন্দি হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে গ্রামীন অবকাঠামো, বসতবাড়ি ও  ফসলের। পানিতে তলিয়ে গেছে  মৎস্য পুকুর ও চিংড়ী ঘের। তিনি আরো জানান, শাহারবিল, পুব বড়ভেওলা ও পশ্চিম বড়ভেওলা ছাড়া উপজেলার প্রায় ইউনিয়নে কমবেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এব্যাপারে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রনয়নের কাজ চলছে বলে জানান তিনি। অপরদিকে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: আফছার উদ্দিন জানিয়েছেন, টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে চকরিয়ায় নতুন নতুন এলাকায় পাউবো’র বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পড়েছে। তদমধ্যে পৌরসভার শহর রক্ষাবাঁধ ১শ মিটার, ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ঘুনিয়ায় ১শ মিটার, বরইতলী ইউনিয়নের বিবিরখিল এলাকায় ৪০মিটার, বিএমচর ইউনিয়নের কন্যারকুম ও কুরুল্যারকুম এলাকায় ১শ ৫০ মিটার বেড়িবাঁধ গতকাল ২১ জুলাই নতুন করে ভেঙ্গে গেছে। কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ উপচে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন এব্যাপারে পাউবো’র উধবর্তন বিভাগে অবহিত করে ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা প্রসঙ্গে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেন জানিয়েছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিমসহ তিনি দিনভর বন্যা কবলিত এলাকা দেখতে গিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের কিছু শুকনো খাবার দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ করেছেন। দ্রত সময়ে দুর্যোগপুর্ন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে দুর্গত মানুষ ও এলাকার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উধর্বতন প্রশাসনে যোগাযোগ করে চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।উপজেলার একধিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন, চার দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে চকরিয়া উপজেলা আটার ইউনিয়নে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢল অপরিবর্র্থাতকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আরো বাড়তে পারে বলে জানান তারা। জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, এত টাকার ক্ষয়ক্ষতির মাঝে জেলা প্রশাসন একটি ইউনিয়নের জন্য প্রাথমিক ভাবে বরাদ্দ দিয়েছে  মাত্র তিন হাজার টাকার শুকনো খাবার। 
ছবির ক্যাপশন: (১) চকরিয়ায় পানির স্রোতে ভেঙ্গে যাওয়া শহর রক্ষাবাঁধ, (২) ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন একটি বেড়িবাঁধ, (৩) খুটাখালী ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ একটি স্লুইস গেইট ও (৪) ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে একটি কালর্ভাট পটু হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই: