
উখিয়া নিউজ ডেস্ক
নরওয়ের রাজধানী অসলোয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কাছে শুক্রবার দুপুরে দেশটির সবচেয়ে বড় টেবলয়েড পত্রিকা ভিজি কার্যালয়ে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৭ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এছাড়াও এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পর রাজধানীর পার্শ্ববর্তী একটি ছোট দ্বীপ ইউটোয়ায় যুবকর্মীদের সম্মেলনেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ৩০ যুবক নিহত হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে নরওয়ে নিউজ। এদিকে এ ঘটানায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ এ দুটি ঘটনাকে একই সূত্রে গাঁথা বলে ধারণা করছে। এখন পর্যন্ত এই সন্ত্রাসী ঘটনার দায় কেউ স্বীকার করেনি। বিরোধী দল ক্রিস্টিয়ান পিপলস পার্টির এক পার্লামেন্ট মেম্বার গ্যার বেকেভল্ড একে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নরওয়েতে এত বড় সন্ত্রাসী ঘটনা আর ঘটেনি। সূত্র বিবিসি, রয়টার্স, আল-জাজিরা টিভি।
বিস্ফোরণে ১৭ তলা বিশিষ্ট নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ভবন ও তেল মন্ত্রণালয় ভবন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রচারিত সংবাদে বিবিসি জানায়, এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টোলেনবার্গ আহত হয়েছেন।
পরে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জেনস স্টোলেনবার্গ টেলিফোনে টিভি২-কে দেয়া এক বার্তায় বলেন, তিনি সুস্থ আছেন। তবে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। তিনি আরো বলেন, পুলিশের পরামর্শে তিনি তার অবস্থান জানাচ্ছেন না।
এদিকে, আরো বড় ধরনের হামলার আশঙ্কায় পুলিশ সেন্ট্রাল অসলোর বাসিন্দাদের এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে।
নরওয়ে নিউজ পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, বোমা বিস্ফোরণের পরপরই অসলোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ইউটোয়া আইল্যান্ডে পুলিশের পোশাক পরিহিত একজন অস্ত্রধারীর ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির যুব সম্মেলনে গুলিবর্ষণ করে। এতে ৩০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পত্রিকাটি জানায়, যুব সম্মেলনে প্রায় ৬শ জন অংশ নিয়েছিলো। যার অধিকাংশই কিশোর।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এনআরকে সাংবাদিক ইনগুন এন্ডারসন জানান, এ বিস্ফোরণে প্রধানমন্ত্রী ভবন সংলগ্ন দৈনিক ভিজি ট্যাবলয়েড সংবাদপত্র ভবন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশের সব রাস্তায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে ভেঙে পড়া কাঁচ ও পাথর টুকরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। একটি গাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো থেকে লোকজনকে নামিয়ে আনা হয়। পুরো সেন্ট্রাল অসলো পুলিশ কর্ডন করে রেখেছে। ঘটনাস্থলের কাছে কাউকে না আসতে সতর্ক করা হয়েছে। ওই এলাকায় অন্য কোনো ধ্বংসাত্মক ডিভাইস আছে কি না তা বিশেষজ্ঞ দল অনুসন্ধান করছেন।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিসচিয়ান অ্যামান্ডসেন জানান, অন্যান্য দিনের থেকে শুক্রবার এ এলাকা কম ব্যস্ত থাকে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন