সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ ১৪ বছর : উখিয়া-টেকনাফে অনেকটাই স্থায়ী হচ্ছে রোহিঙ্গারা

শরিফ আজাদ, উখিয়া
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকৃত রোহিঙ্গাদের পুশবেক করা না গেলে বাংলাদেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি মারাত্মক ও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে মনে করেন উখিয়া-টেকনাফের বিজ্ঞজনেরা। সর্বপ্রথম ১৯৭৮ সালে এবং দ্বিতীয় দফায় ১৯৯১ সালে বর্তমান প্রধান বিরোধী দলের নেতা জিয়াউর রহমান ও  খালেদা জিয়া এদেশের রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটায়। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা এখন প্রধান সমস্যা গুলোর মধ্যে
অন্যতম বলে দাবী করেন উখিয়া জণপ্রতিনিধি সহ সচেতন মহল। রোহিঙ্গা সমস্যা দূর হওয়ার পরিবর্তে ক্রমশই দীর্ঘায়িত হচ্ছে। পুশবেক করার কথা থাকলেও পুশবেক করা হচ্ছে না। বরং অনুপ্রবেশ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতীয় সংঘ সহ সকল দাতা
সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন  না করে তাদেরকে বাংলাদেশে স্থায়ী ভাবে থাকার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে দাতা সংস্থার শক্তিতে রোহিঙ্গা ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলো আরও সংঘটিত হচ্ছে। উখিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার, বান্দরবানে রোহিঙ্গাদের অবস্থান বেশি হলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে এরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বিভিন্ন সময়ে অনুপ্রবেশকৃত প্রায় ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশে অনেকটা স্থায়ী  হতে চলেছে। কেউ কেউ এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যানদের প্রচুর অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে জন্ম নিবন্ধন কার্ড ও জাতীয় পরিচয় পত্র সংগ্রহ করে নিয়েছে। ১৯৯৯ সালে নাফ নদী অতিক্রম করে ২ লক্ষ ৫০  হাজার ৮শ ৭৭ জন রোহিঙ্গা কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়। উখিয়া-টেকনাফ শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া এ সংখ্যা সর্বাধিক। সরকারী ভাবে বিভিন্ন স্থানে ২১টি আশ্রয় কেন্দ্র তৈরী করে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫শত ৯৯ জন রোহিঙ্গাকে মায়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এরপর থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দীর্ঘ ১৪ পর্যন্ত রয়েছে। বর্তমানে উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে তালিকাভূক্ত ২৮ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। এর বাইরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গাদেরকে ইউ এন এইচ সি আর সহ ১২টি দেশ সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে  আসছে। তাদের সাথে  পূর্ণবাসনের জন্য কাজ করছে ৪টি আর্ন্তজাতিক সংস্থা। স্থানীয় কিছু সুবিধাবাদী লোকজন বিদেশী দাতা সংস্থার  প্রতিনিধিরা পরিদর্শনে আসলে শিশুদের দিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেওয়ায়। আমরা মায়ানমারে যেতে চাই না, সেখানে আমাদের মেরে ফেলবে, আমরা এ দেশে থাকতে চাই, জন্ম সুত্রে আমরা বাংলাদেশী নাগরিক, আমাদের এ দেশে স্থায়ী ভাবে রাখতে হবে ইত্যাদি। কিছু কিছু রোহিঙ্গা এখানে বিয়ে করে আত্নীয়তার সুত্র ধরে এ দেশে পূর্নবাসিত হয়েছে। তারা নিঃসংকোচে আত্নীয়তার খাতিরে এদেশের নাগরিক হিসেবে প্রতিয়মান হচ্ছে।
উখিয়া-টেকনাফে এখন কে বাঙ্গালী কে রোহিঙ্গা নির্ণয় করা কষ্টকর হয়ে দাড়িঁয়েছে। আমরা হারিয়েছি শ্রম বাজার ফলে আমাদের বেকারত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, চোরা চালান, ইয়াবা পাচার, আদম পাচার, ভূমি দখল, জঙ্গি তৎপরতা, বণাঞ্চল উজাড় ও অবৈধ যৌন সম্পর্ক বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন মারাত্নক কর্মকান্ডে তারা লিপ্ত হয়ে কক্সবাজার জেলার আইন শৃংখলা পরিসি'তি মারাত্নক  আকাঁর ধারণ করেছে।
উখিয়া-টেকনাফবাসীর দাবীর মূখে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আন্দোলন জোরালো হলে জাতীয় সংঘ এবং দাতা সংস্থা কর্তৃপক্ষ সরকারের উচ্চ স্তরের কর্মকর্তা ও আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী নেতাদে সঙ্গে মধ্যরাতে সাদা গাড়ী যোগে এসে ক্লোস ডোর মিটিং করে চলে যায়। আন্দোলন কিছু দিনের জন্য থেমে যায়। ছাত্র শিক্ষক ও সূধী সমাজ কোন সুফল না পেয়ে আন্দোলন আবার চাঙ্গা করে বিভিন্ন কর্মসূচী ঘোষনা করে। সাথে সাথে রাতের আধাঁরে সে সাদা গাড়ী গুলো আবার আসতে শুরু করে। আবার আন্দোলন বন্ধ হয়ে যায়। দিনের বেলায় এসব সাদা গাড়ী আসলেও নির্জন কোন পাহাড়ে ওয়ান টু ওয়ান আলোচনা করে চলে যায়। ফলে উখিয়া-টেকনাফের জনসাধারণ এ আন্দোলনের কোন সুফল পায়নি।
এ প্রসঙ্গে উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও রোহিঙ্গা আন্দোলন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক আদিল উদ্দিন চৌধুরীকে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন, বর্তমানে আন্দোলনের কি অবস্থা আমি জানিনা। রোহিঙ্গা আন্দোলন সংগ্রাম কমিটি আহবায়ক হামিদুল হক চৌধূরী জানান, আন্দোলন কার্যক্রম বর্ষার কারণে ধীর গতিতে এগুচ্ছে। অতি শীঘ্রই আন্দোলন জোরদার করা হবে বলে তিনি আশাব্যক্ত করেন। পরিকল্পিত আহবায়ক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাবাসন করতে হবে। নয়ত উখিয়ার আইন শৃংখলা পরিসি'তি মারাত্নক আকাঁর ধারণ করবে। উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সাংবাদিক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের যারা নীতি নির্ধারক আছেন তাদের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে নজর দেওয়া অতি জরুরী। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (দায়িত্ব প্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন বলেন, উখিয়া-টেকনাফের জন্য রোহিঙ্গা একটি বিষ ফোড়ার মত। এ সমস্যা নিরসনের জন্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিবে।

কোন মন্তব্য নেই: