হাসানুর রশীদ, কক্সবাজার ২০ জুলাই:
কক্সবাজারের পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শতাধিক কাঁচা ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ফসলির জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তলিয়ে গেছে অসংখ্য ঘর বাড়ি।
কক্সবাজারে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ী ঢলের স্রোতে ভেসে গিয়ে মাদ্রাসা ছাত্রসহ মারা গেছে ৩জন। প্রবল স্রোতের তোড়ে রাস্তা ভেঙ্গে গিয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ সড়কে দক্ষিন মিঠাছড়ি এলাকায় ১০০ মিটার রাস্তা ২ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ফারুক। চররিয়া, রামু ও টেকনাফে ঘরবাড়ি ভেঙে ও গাছ পড়ে ৭ জন আহত হয়েছে।
এদিকে পাহাড়ি ঢলে এ পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঈদগাঁওর দরগাহ পাড়ায় পাহাড়ী ঢলের স্রোতে ২ মহিলা ভেসে যাওয়ার সময় স্থানীয় সরওয়ার ও সোলতান নামে দুই যুবক তাদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে। এসময় প্রবল স্রোতের টানে সোলতান ভেসে যায়। আজ বুধবার সকালে এলাকাবাসী তার লাশ উদ্ধার করে।
মঙ্গলবার রামু উপজেলার গর্জনীয়া ইউনিয়নের ক্যাজরবিল এলাকায় বাঁকখালী নদীতে গরু নিয়ে পারাপারের সময় নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারায় নজিবুল আলম (২৪) নামের এক ব্যক্তি। সে কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ডিকপাড়া এলাকার মৃত মোহাম্মদ শফির পুত্র। এছাড়া মঙ্গলবার টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ইরফানুল ইসলাম নামে সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্র পাহাড়ী ঢলের স্রোতে ভেসে গিয়ে মারা যায়। সে জরিরিয়া দারুল কোরআন সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্র।
আজও কক্সবাজার জেলায় টানা মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এদিকে পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পাহাড়ি ঢলের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাতামুহুরী নদীর পানি চিরিংগা পয়েন্টে বিপদ সীমার প্রায় ৪ফুট উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। পাহাড়ি ঢল ও অতিবর্ষণের কারেেন চকরিয়া, পেকুয়া, টেকনাফ, রামু ও কক্সবাজার সদর উপজেলার শতাধিক গ্রামের নিম্নাঞ্চল প¬াবিত হয়েছে। পৌরসভা এলাকাসহ চকরিয়া উপজেলার প্রায় ১৫০টি গ্রাম প¬াবিত হওয়ায় ও অতিবৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এ উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্থত হয়ে পড়েছে। এ উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ডেইঙ্গাকাটা গ্রাম এলাকা ৮/১০ফুট পানির নীচে তলিয়ে গেছে। কয়েক হাজার একর এলাকার রবি ফসল বিনষ্ট হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর ভাঙ্গনে কাকারা, মানিকপুর, ঘুনিয়া, খোঁজাখালি, বাটাখালী, কাজিরপাড়া, সওদাগরঘোনা পয়েন্টের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন