স্টাফ রিপোর্টার: জোট-মহাজোটে যাওয়া না যাওয়ার প্রশ্নে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, এটি হলো ছেলে বা মেয়ের বিয়ে দেয়ার মতো। বিয়ের আগে অনেক পাত্র বা পাত্রী দেখা হয়। কিন্তু সবার সঙ্গে বিয়ে হয় না। এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না। এ নিয়ে এখনও পরিষ্কার কথা বলার সময় আসেনি। সময় হলে সব জানা যাবে। গতকাল আওয়ামী লীগের দুই নেতার সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। বিকালে আওয়ামী লীগের দুই নেতা ওবায়দুল কাদের ও জাহাঙ্গীর কবির নানক কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে তার মোহাম্মদপুরের বাসায় বৈঠক করেন। বৈঠকের জন্য তারা কাদের সিদ্দিকীর বাসায় পৌঁছলে তিনি গলায় গামছা দিয়ে তাদের বরণ করেন। বিকাল সাড়ে তিনটার পর শুরু হওয়া এই বৈঠক চলে সোয়া এক ঘণ্টা। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকী জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী তাকে দাওয়াত দিয়েছেন। আমি এতে গৌরব বোধ করছি এবং দাওয়াত কবুল করেছি। আমি আজকে যেতে পারলে খুশি হতাম। তবে যেহেতু দলের নেতৃত্বে রয়েছি, সবার সঙ্গে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী যেখানে চান সেখানে তার সঙ্গে আলোচনা করবো। তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের অশুভ কাল চলছে। গত ৩০ শে জুন সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। এতে বড় ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল। কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ নীতিগতভাবে মনে করে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল জনগণ চায় না। তিনি বলেন, আমি নীতিগতভাবে মনে করি, এ মুহূর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল দেশের মানুষ পছন্দ করেনি। আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা কোন রাজনৈতিক দলের উপর আস্থা অর্জন করতে পারি নি। কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না। দলের অধীনে নির্বাচন মেনে নিতে পারি না। শুধু আওয়ামী লীগকে দোষ দেব না। এটা রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতা। তিনি বলেন, আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করবো পঞ্চদশ সংশোধনীর ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ও ‘আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস’ এ দুটি বিষয় সরকার বিবেচনা করবে। কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি মর্মাহত হয়েছি, ইসলাম বিসমিল্লাহ রেখে পরম করুণাময় আল্লাহর প্রতি গভীর আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দেয়ায় এবং আমার ধারণা কোন শয়তান পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া আমার ভগ্নিকে (শেখ হাসিনা) প্ররোচিত করে এটি করিয়ে নিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের বাসায় যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা একই পিতার সন্তান নই। কিন্তু আমরা একই রাজনৈতিক পিতার সন্তান। আমরা দীর্ঘ সময় একসঙ্গে চলেছি দীর্ঘ পথ। তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত সম্পর্কে বলেন, আমি যখন দল গঠন করি তখন ১০৫ জন কর্মী রক্তাক্ত হয়েছে এবং কিছুদিন আগেও আমি আওয়ামী লীগের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছি। সেটা আমার নিয়তি বলে মেনে নিয়েছি। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বৈঠকের বিষয়ে বলেন, অনেকে মনে করছে জোট এবং মহাজোটের বাইরে থাকা দলগুলোকে নিয়ে টানাটানি করা হচ্ছে। কিন্তু সে রকম কোন অভিপ্রায় নিয়ে আমরা আসিনি। মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে আমাদের অনেক আবেগ, কাতরতা ও রাখি-বন্ধন রয়েছে। রাখিবন্ধন হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা এবং রক্তাক্ত পঁচাত্তর। আমাদের অভিন্ন শত্রু হচ্ছে দারিদ্র্য, জঙ্গিবাদ এবং লক্ষ্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য তাকে দাওয়াত দিতে এসেছি। সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধান হালনাগাদ চলমান প্রক্রিয়া। এ নিয়ে মতবিরোধ থাকতে পারে। জনগণ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রয়োজনে গণমানুষের সঙ্গে আলাপ করে আবারও সংবিধান সংশোধন করা হবে। সরকার যে কোন স্থানে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতায় রাজি উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, আলোচনার দরজা খোলা আছে, দরজা বন্ধ হয়নি। আসুন সমঝোতা করি। সমঝোতার জন্য সংলাপ জরুরি। সংসদের বাইরে-ভেতরে যে কোন স্থানে আমরা আলোচনা করতে রাজি আছি। তিনি বলেন, আমরা একদলীয় নির্বাচন করতে চাই না। মহাজোট অটুট আছে। অটুট থাকবে। রাজনীতিতে চিরস্থায়ী বন্ধু এবং শত্রু নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, অভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে মহাজোটের বাইরে অন্যান্য দলের সঙ্গেও আলোচনা অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রক্রিয়া শুরু হবে। পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থে আমরা বৃহত্তর ঐক্যের চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়া অনেক দিন আগে থেকেই শুরু হয়েছে। কখনো ফোনে, কখনো লাইব্রেরিতে আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন