ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার :
বর্ষা মৌসুমের এই সময় সাগরে উত্তাল হওয়ায় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। ফলে জেলে ও তাদের পরিবারে নেমে এসেছে দুর্দিন। অন্যদিকে বর্ষায় সাগরে যেতে না পেরে জেলেরা মহাজন ও এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে পড়েছেন মহাবিপাকে। উপকূলীয় এলাকায় বেঁড়ি বাঁধে বসবাসরত জেলে গুলো এখন অলস সময় কাটাচ্ছেন। তাহে কোন কাজ না থাকায় ঘরে বা গাছের ছায়ায় আড্ডা দিয়ে তাস বা লুডু খেলে সময় পার করছেন অনেকেই। নদীর পাড়ে বসবাসরত প্রায় কয়েক হাজার জেলের একই অবস্থা।
জানা গেছে, প্রতি বছরের বর্ষার সময় সংসার চালাতে তাদের হিমশিম খেকে হয়। অনেকেই অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। চৌফলদন্ডী এলাকার মোঃ জকরিয়া জানান, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরতে যেতে না পারার কারণে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে নুনিয়ারছড়া এলাকার কয়েকজন জেলে জানান জীবন ঝুঁকিনিয়ে সাগরে মাছ ধরতে গেলেও সাগরে মাছ না পাওয়ায় দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন তারা।
উল্লেখ্য যে, সাগরে মাছ না পাওয়ায় জেলার উখিয়া,পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, সোনাদিয়া, টেকনাফ, চৌফলদণ্ডী, রামু, নুনিয়ারছড়া ও সদর উপজেলার প্রায় ১০ হাজার জেলে পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। শ্রাবন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ অভিরাম বৃষ্টি থাকায় জেলেরা মাছ ধরতে যেতে পারছেনা। বর্ষা মৌসুমে ও নদীতে মাছ না পেয়ে জেলেরা চরম দুঃসময় পার করছেন এখন। সরেজমিনে জেলার কয়েকটি মাছ ঘাট এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে বাজারে মাছের আকাল। যা আছে তাও ক্রেতা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। অন্যদিকে এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ ও দাদন নিয়ে লাভের জায়গায় লোকসান গুনতে হচ্ছে জেলেদের। দেনার ভারে জর্জরিত হয়ে পরিবার পরিজনদের নিয়ে নানা কষ্টের জর্জরিত হয়ে পরিবার পরিজনদের নিয়ে নানা কষ্টের জীবন যাপনের কথাও জানান কেউ কেউ। এসময় জেলেদের পুনবাসনের জন্য সরকারী ভাবে সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন