সাইফুল ইসলাম
“অন্যায়” প্রতিরোধ করা, না পারলে প্রতিবাদ করা, তাও না পারলে অন্তত মনে মনে বিকল্প উপায় সন্ধান করা প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। “কালিমাতু হাক্কিন ইনদা সুলতানিন জার্য়ি” অর্থাৎ জালেম শক্তির সামনে
উচিত কথা বলাও এক প্রকার জিহাদ। সর্বদা দেখা যায় সরকারী দল ও বিরোধী দলের মধ্যে দন্দ-সংঘাত
লেগেই থাকে। এর জন্য কখনো কোন কারণের অভাব হয়নি এবং হবেও না। একপক্ষ যা করবে, অন্যপক্ষ তার বিপরিত করবে। একপক্ষ যাকে ভাল বলবে, অন্যপক্ষ তাকে অবশ্যই খারাপ বলবে। এ ভাবে কি কোন দেশ উন্নতি করতে পারে ?
বর্তমানেও সরকারী দল ও বিরোধী দলের মধ্যে দন্দের কারণ অনেক। যেমন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সংবিধান সংশোধন, যুদ্ধাপরাধের বিচার ইত্যাদি। কিন্তু মূল কারণ হচ্ছে ক্ষমতা। দেখার বিষয় হচ্ছে সরকারী দল ও বিরোধী দলের সংঘাতে দেশ-জাতির কল্যাণ কোথায় কতটুকু হচ্ছে ? অথচ উভয় পক্ষের দাবী হচ্ছে “আমরা যা করছি দেশ-জাতির কল্যাণের জন্যেই করছি”। যদি তাই হয়ে থাকে তবে অতি জনগুরুত্বপূর্ণ বর্তমান নদগ সমস্যাগুলো বাদ দিয়ে অতীত বা ভবিষ্যতের গণসম্পৃক্ততাহীন বিষয়গুলো নিয়ে এত সংঘাত কেন ? এতে দেশের বা জাতির কী লাভ হচ্ছে ? মানুষ একদিকে দ্রব্যমূল্য ইত্যাদির কারণে সরকারী দলের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে আছে, অন্যদিকে হরতাল বৃদ্ধির সাথে সাথে বিরোধী দলের উপরও অসন্তুষ্টি বাড়ছে দিনদিন। দূষ করলে সরকারী দল করছে, তার জন্য জনগণ কেন শাস্তি পাবে ? সরকার যত ব্যর্থ হবে মানুষ ততবেশি বিরোধী দলের প্রতি ঝুকবে। কিন্তু হরতালের কারণে মানুষ উভয় দলকেই মুদ্রার এপিট ওপিট ভাবতে বাধ্য হবে। আর এত আগে থেকে হরতাল করে বিরোধী দল কি নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে নাকি হারাচ্ছে ? জনগণের সম্পদ নষ্ট করে বা জনগণের অধিকার হরণ করে কি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায় ? এখন অন্যান্য কর্মসূচীর মাধ্যমে নিজেদেরকে গুছানো ও জনগণকে সচেতন করাই হবে বুদ্ধিমত্তা। বড় অস্ত্রটি শেষে প্রয়োগ করা উচিত। কবি শেখ সাদী বলেছিলেন “আসরের সময় থেকে চেরাগ জালালে মাগরিবের সময় হতে হতে চেরাগের তেল ফুরিয়ে যেতে পারে”।
অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামক ক্ষমতায় উঠা-নামার মইটি থাকলে আওয়ামী লীগের অসুবিধা কোথায়? সংসদে পাশ হওয়া আইন যদি আদালত বাতিল করে দিতে পারে তবে “অপ্রয়োজনীয় সংসদটাই” বাতিল করে দেয়া উচিত নয় কি? আওয়ামী লীগই তো ৯৬ দিন হরতাল করে এ তত্ত্বাবধায়ক সরকার সিষ্টেম চালু করতে বাধ্য করেছিল। কিন্তু এখন কেন তা অবাঞ্চিত হয়ে গেল ? আদালত তো আরো দুবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের অনুমতি দিয়েছে, তবে তা বাস্তবায়ণে সমস্যা কোথায় ? এটা কি মানুষের মনোযোগ আসল সমস্যাগুলো থেকে ভিন্ন দিকে ঘোরিয়ে দেয়ার একটি রাজনৈতিক কূটকৌশল ? এরশাদ বা খালেদার অধীনে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে হাছিনার অধীনে কিভাবে গ্রহণযোগ্য হবে ? তাছাড়া সবকিছুর দৃষ্টান্ত কি বিদেশে থাকতেই হবে ? তা হলে ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বা ৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের দৃষ্টান্ত কোথায় আছে ? সাবেক প্রধান বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টা না মানার ফলে ইয়াজ উদ্দিন প্রধান উপদেষ্টা হওয়ায় এক এগার সৃষ্টি হয়েছিল। এখনো দেখা যাচ্ছে সাবেক প্রধান বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টা না মানার ফলে শেখ হছিনা প্রধান উপদেষ্টা হলে আরেকটি ওয়ান এলিভেন সৃষ্টি হতে পারে। তাতে কিন্তু হাছিনা-খালেদার সমস্যাই বেশি হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ে জনগণের যা সমস্যা হয়েছিল তা কিন্তু এখনো সমাধান হয়নি। পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে জনগণ কিন্তু যে কোন বিকল্প শক্তিকে শুধু স্বাগত জানাতে নয়, বরং ডেকে আনতে বাধ্য হবে।
প্রতি ৫ বছর পরপর সরকার পরিবর্তন হওয়াটা সবাই মেনে নিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। স্বাধীনতার পর থেকেই দেখি প্রথমে আওয়ামী লীগ, তারপর বিএনপি, তারপর মহাজোটের বৃহৎ অংশিদার জাতিয় পার্টি, তারপর বিএনপি, তারপর আওয়ামী লীগ, তারপর বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট, সর্বশেষ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট। সে হিসেবে আগামী বার বিএনপির পালা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আওয়ামী লীগ ভিশন-২১ বাস্তবায়ন করতে লাগাতার ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চায়। ভারতও নিজ সুবিধার্থে তাই চায়। কিন্তু স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তা সম্ভব নয় বিধায় অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্য দিয়ে কিছু কারুকার্য করা দরকার। অন্যদিকে পশ্চিমারা শেখ হাছিনার চেয়ে ডক্টর ইউনুসকে বেশি পছন্দ করে বিধায় খালেদা জিয়া পশ্চিমাদেরকে নিশ্চিত করতে চায় যে, তিনি ক্ষমতায় আসা মানেই ডক্টর ইউনুস ক্ষমতায় আসা। কিন্তু শেখ হাছিনার অধীনে নির্বাচন হলে তা মোটেও সম্ভব নয়। সুতরাং এটা সুষ্পষ্ট যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকা-না থাকা জনগণের বিষয় নয়, তা সম্পূর্ণরূপে দলীয় বিষয়। যেমনি দলীয় বিষয় হচ্ছে সংবিধান সংশোধন করা-না করা, বা আসল অপরাধীদেরকে ছেড়ে দিয়ে ৪০ বছর পর যুদ্ধাপরাধের বিচার করা-না করা, ইত্যাদি। তাই এ সব বিষয়ে হরতাল দিয়ে বা দিতে বাধ্য করে জনগণকে কষ্ট দেয়ার অধিকার কারো নেই। এ সব সমস্যা সমাধানের জন্য সংসদ, আদালত বা মিডিয়া আছে। জনগণের কথা যদি ভাবেন তবে দ্রব্যমূল্য, ক্রসফায়ার, আইনশৃংখলার অবনতি, বিলম্বিত বিচার, বেকারত্ব, দারিদ্র, দুর্নীতি ইত্যাদি গণসম্পৃক্ত বিষয় নিয়ে কিছু করুন। এ জন্য হরতাল দিয়ে জনগণের সমস্যা আরো না বাড়িয়ে তাদেরকে সংগঠিত করুন।
আল্লাহ যাকে ইচ্ছা দায়িত্ব দিয়ে এবং যাকে ইচ্ছা দায়িত্ব না দিয়ে পরীক্ষা করেন। প্রত্যেকে নিজ কর্মফল ভোগ করতে বাধ্য। কর্ম, কর্মপদ্ধতি ও নিয়তের বিশুদ্ধতার উপর নির্ভরশীল পরকালের পুরস্কার বা শাস্তি।
আল্লাহ বলেনঃ “আমি তাদেরকে জমিনে প্রতিষ্ঠিত করলে তারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত আদায় করে, সৎ আদেশ দেয় এবং মন্দ প্রতিরোধ করে।” যারা সমাজের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের জন্য আল্লাহ যে চারটি কর্মসূচী দিয়েছেন তা কি বাস্তবায়ন করছেন? সমাজসেবকদেরকে বলছি, আপনি কি সমাজসেবার উদ্দেশ্যে নিম্মোক্ত চারটি কর্মসূচী বাস্তবায়ন করবেন?
১॥ ধর্ম ও কর্ম শিক্ষার সমন্বয়ঃ দূর্নীতি, বেকারত্ব ও সংঘাত বন্ধের জন্য ধর্মশিক্ষার সাথে কর্মশিক্ষা এবং কর্মশিক্ষার সাথে ধর্মশিক্ষার ব্যবস্থা করা। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মভাষা জানা ও মানার ব্যবস্থা করা।
২॥ জাকাত ব্যাংক প্রতিষ্ঠাঃ দারিদ্র বিমোচন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও অপরাধ মুক্তির জন্য জাকাত, ফিৎরা, উশর, কোরবানীর চামড়া প্রভৃতি ঐশী বাধ্যতামূলক দরিদ্রদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জাকাত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা এবং সকল দাতা-গ্রহীতাকে একমূখী ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করা।
৩॥ নৈতিক আদালত সৃষ্টিঃ দ্রুত ব্যয়হীন ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা, সমস্যার উৎপত্তিস্থলেই প্রাকৃতিক পরিবেশে সমাধান করা ও বর্তমান আদালতের উপর থেকে ক্রমবর্ধমান দশ লক্ষাধিক মামলার চাপ কমানোর জন্য মসজিদ ভিত্তিক ইসলামী আদালত, মন্দির ভিত্তিক হিন্দু আদালত, কিয়াং ভিত্তিক বৌদ্ধ আদালত ও গির্জা ভিত্তিক খ্রিস্টান আদালত, তথা নৈতিক আদালত প্রতিষ্ঠা করে ধর্মনেতাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সমস্যার প্রাথমিক তদন্ত ও সমাধান করার অধিকার ও দায়িত্ব প্রদান করা।
৪॥ পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়ণঃ কৃষি ভূমি রক্ষার্থে, প্রত্যেকের বাসস্থান নিশ্চিত কল্পে ও নাগরিক সুবিধার্থে প্রতি এলাকায় পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়ণের ব্যবস্থা করা।
উক্ত কর্মসূচীসমূহ বাস্তবায়ন করা ছাড়া আপনার বা সরকারের পক্ষে উক্ত সমস্যাসমূহের সমাধান করা অসম্ভব। তাই আশা করি আপনি তা বাস্তবায়ন করবেন এবং সংসদের ভিতরে-বাইরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আর যথাসম্ভব নির্বাচনে কম খরচ করুন। কারণ যা খরচ করবেন তা আবার পরোক্ষভাবে জনগণকেই পরিশোধ করতে হবে। এ জন্যই তো বলা হয় “নির্বাচনই দূর্নীতির উৎস এবং ঐক্যের প্রতিবন্ধক”। দরকার “সর্ব ক্ষেত্রে পরামর্শ, শান্তির জন্য ধর্মরাজ্য”। সর্বক্ষেত্রে সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু প্রার্থীর বিজয় কামনা করি।
লেখকঃ আহবায়ক, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান মুসলিম ঐক্য পরিষদ। ০১৮১৯ ৮৩৩২৩৫
“অন্যায়” প্রতিরোধ করা, না পারলে প্রতিবাদ করা, তাও না পারলে অন্তত মনে মনে বিকল্প উপায় সন্ধান করা প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। “কালিমাতু হাক্কিন ইনদা সুলতানিন জার্য়ি” অর্থাৎ জালেম শক্তির সামনে
উচিত কথা বলাও এক প্রকার জিহাদ। সর্বদা দেখা যায় সরকারী দল ও বিরোধী দলের মধ্যে দন্দ-সংঘাত
লেগেই থাকে। এর জন্য কখনো কোন কারণের অভাব হয়নি এবং হবেও না। একপক্ষ যা করবে, অন্যপক্ষ তার বিপরিত করবে। একপক্ষ যাকে ভাল বলবে, অন্যপক্ষ তাকে অবশ্যই খারাপ বলবে। এ ভাবে কি কোন দেশ উন্নতি করতে পারে ?
বর্তমানেও সরকারী দল ও বিরোধী দলের মধ্যে দন্দের কারণ অনেক। যেমন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সংবিধান সংশোধন, যুদ্ধাপরাধের বিচার ইত্যাদি। কিন্তু মূল কারণ হচ্ছে ক্ষমতা। দেখার বিষয় হচ্ছে সরকারী দল ও বিরোধী দলের সংঘাতে দেশ-জাতির কল্যাণ কোথায় কতটুকু হচ্ছে ? অথচ উভয় পক্ষের দাবী হচ্ছে “আমরা যা করছি দেশ-জাতির কল্যাণের জন্যেই করছি”। যদি তাই হয়ে থাকে তবে অতি জনগুরুত্বপূর্ণ বর্তমান নদগ সমস্যাগুলো বাদ দিয়ে অতীত বা ভবিষ্যতের গণসম্পৃক্ততাহীন বিষয়গুলো নিয়ে এত সংঘাত কেন ? এতে দেশের বা জাতির কী লাভ হচ্ছে ? মানুষ একদিকে দ্রব্যমূল্য ইত্যাদির কারণে সরকারী দলের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে আছে, অন্যদিকে হরতাল বৃদ্ধির সাথে সাথে বিরোধী দলের উপরও অসন্তুষ্টি বাড়ছে দিনদিন। দূষ করলে সরকারী দল করছে, তার জন্য জনগণ কেন শাস্তি পাবে ? সরকার যত ব্যর্থ হবে মানুষ ততবেশি বিরোধী দলের প্রতি ঝুকবে। কিন্তু হরতালের কারণে মানুষ উভয় দলকেই মুদ্রার এপিট ওপিট ভাবতে বাধ্য হবে। আর এত আগে থেকে হরতাল করে বিরোধী দল কি নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে নাকি হারাচ্ছে ? জনগণের সম্পদ নষ্ট করে বা জনগণের অধিকার হরণ করে কি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায় ? এখন অন্যান্য কর্মসূচীর মাধ্যমে নিজেদেরকে গুছানো ও জনগণকে সচেতন করাই হবে বুদ্ধিমত্তা। বড় অস্ত্রটি শেষে প্রয়োগ করা উচিত। কবি শেখ সাদী বলেছিলেন “আসরের সময় থেকে চেরাগ জালালে মাগরিবের সময় হতে হতে চেরাগের তেল ফুরিয়ে যেতে পারে”।
অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামক ক্ষমতায় উঠা-নামার মইটি থাকলে আওয়ামী লীগের অসুবিধা কোথায়? সংসদে পাশ হওয়া আইন যদি আদালত বাতিল করে দিতে পারে তবে “অপ্রয়োজনীয় সংসদটাই” বাতিল করে দেয়া উচিত নয় কি? আওয়ামী লীগই তো ৯৬ দিন হরতাল করে এ তত্ত্বাবধায়ক সরকার সিষ্টেম চালু করতে বাধ্য করেছিল। কিন্তু এখন কেন তা অবাঞ্চিত হয়ে গেল ? আদালত তো আরো দুবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের অনুমতি দিয়েছে, তবে তা বাস্তবায়ণে সমস্যা কোথায় ? এটা কি মানুষের মনোযোগ আসল সমস্যাগুলো থেকে ভিন্ন দিকে ঘোরিয়ে দেয়ার একটি রাজনৈতিক কূটকৌশল ? এরশাদ বা খালেদার অধীনে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে হাছিনার অধীনে কিভাবে গ্রহণযোগ্য হবে ? তাছাড়া সবকিছুর দৃষ্টান্ত কি বিদেশে থাকতেই হবে ? তা হলে ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বা ৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের দৃষ্টান্ত কোথায় আছে ? সাবেক প্রধান বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টা না মানার ফলে ইয়াজ উদ্দিন প্রধান উপদেষ্টা হওয়ায় এক এগার সৃষ্টি হয়েছিল। এখনো দেখা যাচ্ছে সাবেক প্রধান বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টা না মানার ফলে শেখ হছিনা প্রধান উপদেষ্টা হলে আরেকটি ওয়ান এলিভেন সৃষ্টি হতে পারে। তাতে কিন্তু হাছিনা-খালেদার সমস্যাই বেশি হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ে জনগণের যা সমস্যা হয়েছিল তা কিন্তু এখনো সমাধান হয়নি। পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে জনগণ কিন্তু যে কোন বিকল্প শক্তিকে শুধু স্বাগত জানাতে নয়, বরং ডেকে আনতে বাধ্য হবে।
প্রতি ৫ বছর পরপর সরকার পরিবর্তন হওয়াটা সবাই মেনে নিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। স্বাধীনতার পর থেকেই দেখি প্রথমে আওয়ামী লীগ, তারপর বিএনপি, তারপর মহাজোটের বৃহৎ অংশিদার জাতিয় পার্টি, তারপর বিএনপি, তারপর আওয়ামী লীগ, তারপর বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট, সর্বশেষ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট। সে হিসেবে আগামী বার বিএনপির পালা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আওয়ামী লীগ ভিশন-২১ বাস্তবায়ন করতে লাগাতার ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চায়। ভারতও নিজ সুবিধার্থে তাই চায়। কিন্তু স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তা সম্ভব নয় বিধায় অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্য দিয়ে কিছু কারুকার্য করা দরকার। অন্যদিকে পশ্চিমারা শেখ হাছিনার চেয়ে ডক্টর ইউনুসকে বেশি পছন্দ করে বিধায় খালেদা জিয়া পশ্চিমাদেরকে নিশ্চিত করতে চায় যে, তিনি ক্ষমতায় আসা মানেই ডক্টর ইউনুস ক্ষমতায় আসা। কিন্তু শেখ হাছিনার অধীনে নির্বাচন হলে তা মোটেও সম্ভব নয়। সুতরাং এটা সুষ্পষ্ট যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকা-না থাকা জনগণের বিষয় নয়, তা সম্পূর্ণরূপে দলীয় বিষয়। যেমনি দলীয় বিষয় হচ্ছে সংবিধান সংশোধন করা-না করা, বা আসল অপরাধীদেরকে ছেড়ে দিয়ে ৪০ বছর পর যুদ্ধাপরাধের বিচার করা-না করা, ইত্যাদি। তাই এ সব বিষয়ে হরতাল দিয়ে বা দিতে বাধ্য করে জনগণকে কষ্ট দেয়ার অধিকার কারো নেই। এ সব সমস্যা সমাধানের জন্য সংসদ, আদালত বা মিডিয়া আছে। জনগণের কথা যদি ভাবেন তবে দ্রব্যমূল্য, ক্রসফায়ার, আইনশৃংখলার অবনতি, বিলম্বিত বিচার, বেকারত্ব, দারিদ্র, দুর্নীতি ইত্যাদি গণসম্পৃক্ত বিষয় নিয়ে কিছু করুন। এ জন্য হরতাল দিয়ে জনগণের সমস্যা আরো না বাড়িয়ে তাদেরকে সংগঠিত করুন।
আল্লাহ যাকে ইচ্ছা দায়িত্ব দিয়ে এবং যাকে ইচ্ছা দায়িত্ব না দিয়ে পরীক্ষা করেন। প্রত্যেকে নিজ কর্মফল ভোগ করতে বাধ্য। কর্ম, কর্মপদ্ধতি ও নিয়তের বিশুদ্ধতার উপর নির্ভরশীল পরকালের পুরস্কার বা শাস্তি।
আল্লাহ বলেনঃ “আমি তাদেরকে জমিনে প্রতিষ্ঠিত করলে তারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত আদায় করে, সৎ আদেশ দেয় এবং মন্দ প্রতিরোধ করে।” যারা সমাজের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের জন্য আল্লাহ যে চারটি কর্মসূচী দিয়েছেন তা কি বাস্তবায়ন করছেন? সমাজসেবকদেরকে বলছি, আপনি কি সমাজসেবার উদ্দেশ্যে নিম্মোক্ত চারটি কর্মসূচী বাস্তবায়ন করবেন?
১॥ ধর্ম ও কর্ম শিক্ষার সমন্বয়ঃ দূর্নীতি, বেকারত্ব ও সংঘাত বন্ধের জন্য ধর্মশিক্ষার সাথে কর্মশিক্ষা এবং কর্মশিক্ষার সাথে ধর্মশিক্ষার ব্যবস্থা করা। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মভাষা জানা ও মানার ব্যবস্থা করা।
২॥ জাকাত ব্যাংক প্রতিষ্ঠাঃ দারিদ্র বিমোচন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও অপরাধ মুক্তির জন্য জাকাত, ফিৎরা, উশর, কোরবানীর চামড়া প্রভৃতি ঐশী বাধ্যতামূলক দরিদ্রদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জাকাত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা এবং সকল দাতা-গ্রহীতাকে একমূখী ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করা।
৩॥ নৈতিক আদালত সৃষ্টিঃ দ্রুত ব্যয়হীন ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা, সমস্যার উৎপত্তিস্থলেই প্রাকৃতিক পরিবেশে সমাধান করা ও বর্তমান আদালতের উপর থেকে ক্রমবর্ধমান দশ লক্ষাধিক মামলার চাপ কমানোর জন্য মসজিদ ভিত্তিক ইসলামী আদালত, মন্দির ভিত্তিক হিন্দু আদালত, কিয়াং ভিত্তিক বৌদ্ধ আদালত ও গির্জা ভিত্তিক খ্রিস্টান আদালত, তথা নৈতিক আদালত প্রতিষ্ঠা করে ধর্মনেতাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সমস্যার প্রাথমিক তদন্ত ও সমাধান করার অধিকার ও দায়িত্ব প্রদান করা।
৪॥ পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়ণঃ কৃষি ভূমি রক্ষার্থে, প্রত্যেকের বাসস্থান নিশ্চিত কল্পে ও নাগরিক সুবিধার্থে প্রতি এলাকায় পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়ণের ব্যবস্থা করা।
উক্ত কর্মসূচীসমূহ বাস্তবায়ন করা ছাড়া আপনার বা সরকারের পক্ষে উক্ত সমস্যাসমূহের সমাধান করা অসম্ভব। তাই আশা করি আপনি তা বাস্তবায়ন করবেন এবং সংসদের ভিতরে-বাইরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আর যথাসম্ভব নির্বাচনে কম খরচ করুন। কারণ যা খরচ করবেন তা আবার পরোক্ষভাবে জনগণকেই পরিশোধ করতে হবে। এ জন্যই তো বলা হয় “নির্বাচনই দূর্নীতির উৎস এবং ঐক্যের প্রতিবন্ধক”। দরকার “সর্ব ক্ষেত্রে পরামর্শ, শান্তির জন্য ধর্মরাজ্য”। সর্বক্ষেত্রে সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু প্রার্থীর বিজয় কামনা করি।
লেখকঃ আহবায়ক, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান মুসলিম ঐক্য পরিষদ। ০১৮১৯ ৮৩৩২৩৫
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন