সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

অবিরাম ভারী বর্ষন ও পুর্ণিমার জোয়ারে চকরিয়া ও পেকুয়ায় বেড়িবাঁধের ব্যাপক ভাঙ্গন



শতাধিক চিংড়ি ঘের প্লাবিত, তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা 

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া 
বর্ষার শুরুতে গত তিন দিনের অবিরাম ভারী বর্ষন ও পুর্ণিমার জোয়ারে সমুদ্রে পানি প্রবাহ বৃদ্দি পেয়ে সৃষ্ট জলোচ্ছাস্বে কক্সবাজার পাউবোর প্রায় ৫৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে প্লাবিত হয়েছে শতাধিক চিংড়ি ঘের। তলিয়ে গেছে হাজার একর জমির আমনের বীজতলা। গ্রামীন এলাকায় রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভারী বর্ষন অব্যাহত থাকায় উপজেলার নীচু এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। জানা গেছে, ভারী বর্ষন ও পুর্ণিমার জোয়ারে প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হওয়ায় পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের কাকপাড়া, শরৎ ঘোনা, পশ্চিমকুল ও উজানটিয়া ইউনিয়নের ফুয়াদ টেক একাধিক পয়েন্টে বেড়িবাঁধের ভাঙন দেখা দিয়েছে। উজানটিয়া ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ করিয়ারদিয়া ও গোদার পাড় এলাকায় বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে লোকালয়ে ব্যাপক বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল মোস্তফা জানান, কাকপাড়া ,পশ্চিমকুল ও শরৎ ঘোনা পয়েন্ট এলাকায় বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এসব পয়েন্টে দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় কাকপাড়া, সাতঘর পাড়া, শুদ্ধখালী পাড়া, বেদেরবিল পাড়া, মরিচ্যা ডিয়া, শরৎঘোনা, বাজার পাড়া, উত্তর পাড়া, পশ্চিমকুল পাড়ার শতশত পরিবার পানি বন্দী হয়েছে। উজানটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এটিএম শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, জোয়ারের প্রবল স্রোতে ৮নং ওয়ার্ডের ফুয়াদ টেক এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে অন্তত ২০টি চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়নের টেকপাড়া, করিমদাদ মিয়ার ঘাট ও রূপালী বাজার, রাজাখালী ইউনিয়নের বকশিঘোনা, আমিন বাজার ও ভোলারমুখ এলাকায় বেড়িবাঁধ সমুহ চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। চকরিয়ার বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নে ৬৫/১ নং পোল্ডারের আওতায় প্রায় ৫০ মিটার বেড়িবাঁধ শনিবার সকালে ভেঙ্গে গেছে। 
পাউবো চকরিয়ার বদরখালী শাখা কর্মকর্তা কাজী নজরুল ইসলাম জানান, ৬৫নং পোল্ডোরের আওতায় চকরিয়ার বদরখালী, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নে ১৩ কিলোমিটার আংশিক ও ৭০নং পোল্ডোরের ধলঘাট ও মাতারবাড়ী ইউনিয়নে ১৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সম্পুর্ন ভেঙ্গে গেছে। পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন জানান, ভারী বর্ষন ও পুর্ণিমার জোয়ারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যাপক বেড়িবাধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তদমধ্যে ভেঙ্গে গেছে ৭১নং পোল্ডারে ১৩ কিলোমিটার, ৬৯ নং পোল্ডারে ৭০ মিটার, ৬৬/১, ৬৬/২, ৬৬/৩, ৬৬/৪ নং পোল্ডারে ২ কিলোমিটার, ৬৭, ৬৭/এ, ৬৭/বি ও ৬৮নং পোল্ডারে ৩ কিলোমিটার ও ৬৪/২বি পোল্ডারের রাজাখালী,মগনামা, উজানটিয়া, সদর ইউনিয়ন ও করিয়ারদিয়ায় ১০ কিলোমিটার বেড়িবাধ। বেড়িবাঁধের ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে কক্সবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মাইন উদ্দিন বলেন, ৫৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া মাতামুহুরী নদীর তীর সংলগ্ন ১ কিলোমিটার এলাকা ভেঙ্গে গেছে। এব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহনে উতন প্রশাসনে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। এদিকে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেন জানান, ভারী বর্ষন ও পুর্ণিমার জোয়ারে উপজেলার প্রায় ইউনিয়নে নীচু এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করা যাবে। 
ছবির ক্যাপশন: সামুদ্রিক জোয়ারে ভেঙ্গে যাচ্ছে পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নের কাকপাড়া অংশের বেড়িবাঁধ

কোন মন্তব্য নেই: