সরওয়ার আলম শাহীন, উখিয়া
উখিয়ায় প্রার্থীদের আচরন বিধি নিয়ে অনেক লেখালেখি ও অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের পর অবশেষে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজন করা হয় নিবাচর্নী আচরণবিধি সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা। কিন্তু সভা নিবাচর্ন আচরনবিধি নিয়ে আয়োজন করা হলে ও মুলত সভায় প্রার্থীরা প্রসাশনের কর্তাব্যাক্তিদের সামনেই পরস্পরের বিরুদ্ধে দিয়েছেন আত্রুমনাত্বক বক্তব্য। ফলে যে উদ্দেশ্যে নিয়ে সভাটির
আয়োজন করা হয়েছিল তার সফালতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রার্থীদের। তাই শুরুতেই বিশৃখলা মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সভাটিতে প্রসাশনের পক্ষে কি বলা হয়েছে তাও বুঝতে পারেননি একাধিক প্রার্থী। গতকাল ২৪ জুন বিকাল ৩টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্টিত নিবাচর্নী আচরণবিধি সংক্রান- মতবিনিময় সভাটি শুরু হওয়ার কথা থাকলে ও সভাটি শুরু হয় বিকাল সাড়ে ৪ টায়। সভা শুরু হয়ে গেলেও অনেক প্রার্থী তখনো চেয়ার পায়নি। এ নিয়ে শুরু হয় প্রার্থীদের মাঝে হৈছৈ ও উত্তেজনা। অনেক প্রার্থী এভাবে এখানে ডেকে এনে অপমান করার মানে কি প্রসাশনের কর্তাব্যাক্তিদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন।এ সময় মেম্বার প্রার্থীদের মধ্যে নেজাম উদ্দিন দুলাল, আছহাব উদ্দিন, আকতার কামাল চৌধুরী ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থী পুতুল রানী বড়ুয়া প্রসাশনের কর্তাব্যাক্তিদের এই সভা বদ্ধ করে করতে বলেন এবং প্রার্থীদের সবাইকে চেয়ার দেয়ার আহবান জানান। হৈছৈ চলার এক পর্যায়ে নিরবে সভা ছেড়ে অফিস রুমে চলে যান এ নিয়ে বিব্রত উখিয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আসিফ বিন ইকরাম। পরে বাইরে থেকে চেয়ার সংগ্রহ করে এনে সভা শুরু করা হয়। প্রথমে হলদিয়া পালং ইউনিয়নের রির্টানিং অফিসার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল কাশেম নির্বাচনী আচরণবিধিমালা পাঠ করে শোনান। এরপর প্রার্থীদের কোন প্রশ্ন আছে কি না তা জানতে চাওয়া হলে প্রার্থীরা সুযোগ পেয়ে শুরু করেন পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিযোগিতা। প্রথমে জালিয়া পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী একেএম শহিদুল্লাহ কায়সার অভিযোগ করে বলেন, তার ইউনিয়নের অন্যান্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা আচরণবিধি লংঘন করে প্রতিটি ওয়ার্ডে ঝাকঝকমপূর্ণ পরিবেশে একাধিক নির্বাচনী অফিস প্রতিষ্টা করেছে। একেকজন প্রার্থী একাধিক প্রচার যন্ত্র ব্যবহার করছে। জীপ গাড়ীতে ভ্রাম্যমান মঞ্চ বানিয়ে গান-বাজনা করে নিবাচর্নী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী বদি আলম চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিনুল হক আমিন তার প্রচারণার কাজে নিয়োজিত গাড়ী ভাংচুর ও পোষ্টার ছিড়ে ফেলেছে। একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী শামশুল হক বাবুলের পক্ষে ছোট ভাই মুহিদুল হক অভিযোগ করে বলেন,চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিনুল হক আমিন ইউনিয়ন পরিষদ কে নির্বাচন অফিস ব্যবহার করছে। সেখান থেকে ভোটারদের টাকা, চাউল ও বিরানীর প্যাকেট বিতরণ করছে এবং সরকারী দলের প্রভাববিস্তার করে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নৈরাজ্যকর পরিসি'তির সৃষ্টি করেছে। আমিনুল হক আমিনের ভাড়াটিয়া মাস্তান বাহিনী তার কর্মী, সমর্থকদের নির্বাচনী এলাকায় যেতে দিচ্ছেনা। তিনি আমিনুল হক আমিনের তাৎক্ষণিক আচরণবিধি লংঘনের দায়ে বিচার দাবী করেন। রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট শাহ জালাল চৌধূরী সরকারী গাড়ী ব্যবহার করে ছোট ভাই চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ কামাল চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। তাছাড়া ভোটারদের পবিত্র কোরআন শরীফ শপথের মাধ্যমে এলাকায় অর্থ সহায়তা দিচ্ছেন। তিনি রাজাপালং মাদ্রাসা, তুতুরবিল ও হরিনমারা কেন্দ্র ঝুকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। একই ইউনিয়নের চেয়ারমান প্রার্থী মুজিবুল হক আজাদ বলেন, প্রতিপক্ষ সরকার দলীয় প্রার্থী এলাকায় অবাধে কালোটাকা বিতরণ করছে। আমার নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সদস্য উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সোলতান মাহমুদ চৌধুরীকে প্রদত্ত ৫হাজার টাকা ইউএনও কে ফেরৎ দেওয়া হয়েছে। আমার কর্মী, সমর্থকদের ভয়ভীতি এমনকি মারধর করছে। তিনি হুশিয়ারী উচ্ছারণ করে বলেন রাজাপালং ইউনিয়নের আগের মতো জবরদস্থী ভোট আদায় করার চেষ্টা করা হলে বৃহ্ত্তর প্রার্থী ও ভোটারদের নিয়ে কঠোর আন্দোলন করা হবে। এসময় চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ কামাল চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি নিবাচর্নী এলাকায় মহড়া চালিয়ে প্রকাশ্যে ভোটারদের টাকা বিতরণ করছে। তিনি তার নিবাচর্নী এলাকার ৭,৮ ও ৯ ওয়ার্ড ঝুকিপূর্ণ আখ্যায়িত করে সেনা বাহিনী ও র্যাব মোতায়নের দাবী জানান। একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল মাসুদ ভূইয়া বলেন প্রতিপক্ষ সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী, সমর্থকেরা তার পোষ্টার ছিড়ে ফেলছে। মেম্বার প্রার্থী রাশেল উদ্দিন সুজন অভিযোগ করেন, পক্ষপ্রার্থী আলি আহামদ মেম্বারের পুত্রদ্বয় একাধিক মামলার ফেরারী আসামী হওয়া সত্বেও পুলিশের নাকের ঢগায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমার কর্মী, সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। তিনি এসব পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের দাবী জানান। মেম্বার প্রার্থী রুহুল আমিন অভিযোগ করেন তার নিবাচর্নী এলাকায় প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা আচরণবিধি লংঘন করে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার প্রচারণা চালাচ্ছে। যার ফলে মারাত্মক শব্দ দুষনের কবলে এ ওয়ার্ডের মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী এম মোক্তার আহমদ অভিযোগ করে বলেন, সরকার দলীয় প্রার্থীরা প্রভাববিস্তার নিবাচর্নী এলাকায় নৈরাজ্যকর পরিসি'তি সৃষ্টি করেছে। তিনি অবাধ, সুষ্ট ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবীতে শান্তিপূর্ণ্য পরিবেশ বজায় রাখার জন্য প্রার্থীদের পরামর্শ দেন। একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী গফুর উদিদন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, তার নির্বাচনী এলাকায় সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। এসময় এলাকার ক্ষুব্দ ভোটারেরা বাধা দিলে তিনি এলাকা ত্যাগ করেন। চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাদাৎ হোসেন জুয়েল অভিযোগ করেন থাইংখালী এলাকায় প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী, সমর্থকেরা তার পোষ্টার, ব্যানার ছিড়ে ফেলছে। তার কর্মী সমর্থকদের এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। নির্বাচনের পর এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ হট্টগোল, উত্তেজনা সব মিলিয়ে সভাটি শেষ হলে ও এ সভায় মুল উদ্দেশ্যে নির্বাচন আচরনবিধি মানা ও লংঘন এ নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি। সভা শেষে প্রার্থীদের অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে সভাটি আয়োজনের অর্থ কি ?
এ সময় উপস্থিত উখিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, আমি ১০০ ভাগ গ্যারান্টি দিচ্ছি আগামী নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ন হবে। আমি আপনাদেরকে জানিয়ে দিতে চাই, উখিয়া থানা প্রসাশন এখন সরকারের অধীনে নেই। এটা এখন নিবাচর্নী কমিশনের অধিনে। তাই আমরা দলমত নির্বিশেষে নিবাচর্ন কমিশনের উদ্দেশ্যে বাস্তবায়নে কাজ করছি। সহকারী পুলিশ সুপার ছত্রধর ত্রিপুরা প্রার্থীদের অভিযোগ গুলো লিখিত আকারে থানায় ও নিবাচর্ন অফিসে প্রদান করার পরামর্শ দেন। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আসিফ বিন ইকরাম সভাপতির বক্তব্য দিয়ে সভা শেষ করলেও প্রার্থীদের সন্তোষ জনক উত্তর দিতে ব্যর্থ হন। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ হট্টগোল, উত্তেজনা সব মিলিয়ে সভাটি শেষ হলে ও এ সভায় মুল উদ্দেশ্যে নিবাচর্ন আচরনবিধি মানা ও লংঘন এ নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি। সভা শেষে প্রার্থীদের অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে সভাটি আয়োজনের অর্থ কি ? সভা শেষে রত্নাপালং ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থী পুতুন রানী বড়ুয়ার মন্তব্য, কিভাবে সভা শুরু হল , কি আলোচনা বা সিন্ধান্ত হল কিছুইতো বুঝতে পারলাম না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন