শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত চাক্ঢালা থেকে ফিরেঃ
পারবর্ত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বেড়ে চলছে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের সংখ্যা। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এবং অনুপ্রবেশের প্রকৃত সংখ্যা নিয়েও নানা বিভ্রান্তি রয়েছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক যে, দুই দশকের রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বর্তমান অনুপ্রবেশের সমস্যা সমাধানের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এবং এর ফলে সংকট দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে। রোহিঙ্গারা নিজেদের যেমন মানবেতর জীবনযাপন
করতে হচ্ছে,তেমনি অনুপ্রবেশের ক্রমবর্ধমান ভারে ভারাক্রান্ত হচ্ছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা।ফলে আইনশৃঙ্খলা এবং পরিবেশগত নানা মূখী সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে মায়ানমার সরকারেরও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। কারন মায়ানমারে সামরিক শাসকের নিপীড়নের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা প্রায় দুই দশক আগে থেকে টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্ট এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট এ ঢুকতে শুরু করে। এই বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পালিয়ে এসেও তাদের মানবেতর জীবনই বরণ করতে হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এই বিপুল সংখ্যক মানুষ বৈধ কাজের সুযোগও পাচ্ছে না। তারা নানা ধরনের অপরাধকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ও টেকনাফ এর সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাস, চোরাচালানের একটা বড় অংশই সংগঠিত হচ্ছে এ রোহিঙ্গাদের দ্ধারা। এ সমস্যা গুলো ঠেকাতে সরকার বিভিন্ন কায়দায় অবৈধ প্রবেশকরীদের আটক করে মায়ানমার সীমান্ত গিয়ে অনেক রোহিঙ্গা পুশব্যাক দেয়। আরাকান হিসস্টোরিকেল সোসাইটির প্রভাবশালী সদস্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক,তিনি জানান মায়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের মুসলিম সংখ্যালঘু হচ্ছে রোহিঙ্গারা। এই সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা মায়ানমার জান্তাা সামরিক শাসকের নারীর ধর্ষণ, লুঠত্বরাজ,শারিরীক নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়ে পাশ্ববর্তী বাংলাদেশের্র্ নির্দ্বিধায় ঢুকে পড়ে। আকৃিতগত দিক দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের খুব তফাৎ না থাকায় তারা এখন খুব সহজেই নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার স্থানীয় গোষ্ঠির মধ্যে মিশে গিয়ে তাদের সহজেই শনাক্ত করা যাচ্ছে না। নাইক্ষ্যংছড়ি চাক্ঢালার পল্লী চিকিৎসক ডাঃ মোঃ সিরাজুল হক জানান, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের এক মাত্র কারণ তারা বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ঢুকে কিছু অর্থের বিনিময়ে স'ানীয় জনপ্রতিনিধিদের ঢালাও ভাবে- চেয়ারম্যান সনদ,জন্ম নিবন্ধন সনদ ইত্যাদি সহজে পাওয়া যায়। ফলে ডকুমেন্ট গুলো বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করে অনেকে বাংলাদেশী পাসপোর্ট সংগ্রহ করে সেটা নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমায় বলে জানান। এসব ডকুমেন্টপত্র গুলো সাবেক ইউ পি চেয়ারম্যান ও জামায়েত নেতা তোফায়েল আহম্মদ এর আমলে গণহারে অর্থ বিনিময়ে আদান প্রদান করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।সূত্রে আরো জানা যায়,চেয়ারম্যান তোফায়েল রোহিঙ্গাদের থেকে বিভিন্ন মামলায় এবং ইউপি সনদ ইত্যাদি বড় অংকের কন্ট্রেক করে রাতে রাতে কোটিপতি বনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে অর্থ বিনিময়ে পুরো প্রশাসনকে মেনেজ করে চেয়ারম্যান পদে জিতে যায়।বর্তমান উপজেলার মসনে বসে ওই উপজেলা চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মদ বিগত ইউপি চেয়ারম্যান আমলের তারিখ বসিয়ে রোহিঙ্গাদের কে চেয়ারম্যান সনদ,চারিত্রিক সনদ দিয়ে মোটা অংকের টাকা কামাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিভিন্ন রোহিঙ্গাদের মেনেজ করতে তার দু,জন সহযোগীও রয়েছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়।এ সহযোগী দু,জন এর মধ্যে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমগীর মোর্শেদ ,অন্যজন চেয়াম্যান এর শ্যালক আমিরুল কবির রাকিব বলে জানা যায়। আর রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন এলাকায় কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নাজুক করছে।এতে এলাকার তথা বাংলাদেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। আর অন্যদিকে এ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা দিনের পর দিন এভাবে নাগরিক অধিকারহীন মানবেতর জীবনযাপন করে যেতে পারে না।কাজেই এর একটা স্থায়ী সমাধান অতি জরুরী।রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বর্তমান অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা সংকট থেকে মুক্তি পেতে ভূক্তভোগী এবং ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে আমাদেরই তৎপর হতে হবে।নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামীম সোহেল জানান,নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বিগত আমল থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকায় অর্থনীতিকে হুমকিগ্রস- করছে,দ্রারিদ্র্য-বেকারত্বসহ নানামূখী সংকটে নাজেহাল হচ্ছে।উপরন- এই রোহিঙ্গারা নানা ধরনের সামাজিক সমস্যারও কারণ হচ্ছে।তাই মায়ানমার সরকারকে বাধ্য করতে হবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমধানে আলোচনায় উদ্যোগী হতে।এবং জাতিসংঘ ও অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের বিষয়ে মনযোগ আকৃষ্ট করা দরকার বলে এই প্রতিবেদক কে জানান।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন