সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

মহেশখালীর উপজেলা পরিষদ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এখন গোচারণ ভূমি

ফরিদুল আলম দেওয়ান : লাখো শহীদের রক্ত ঝরিয়ে ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও মাতৃভাষার বীর সেনানীদের স্মৃতি স্তম্ব বীর বাঙ্গালীর পবিত্র শ্রদ্ধার স্থান শহীদ মিনার। যে শহীদ মিনারে জাতি বছরে অন্তত ৩ বার নিরব ঠাই দাঁড়িয়ে গভীর শ্রদ্ধাভরে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে। মহেশখালীর উপজেলা পরিষদের  সেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে কতিপয় স্বার্থান্বেষি শত বাধাঁ নিষেধ উপেক্ষা করে ইচ্ছাকৃত ভাবে বানিয়েছে গোচারণ ভূমি। কারো অজান্তে নয়,একেবারে শহীদ মিনার,বেষ্টনীর ভেতরে সার দিয়ে ঘাস জন্মিয়ে বেষ্ঠনির ভেতরে নিজের পোষা গরু ঢুকিয়ে বাইরে তালা বদ্ধ করে রীতিমত সারা বছর গরু পালন করে পরিণত করেছে নিজের ব্যক্তিগত গোচারণ ভূমি।বিষয়টি প্রত্যক্ষদর্শী স্বাধীনতা ও শহীদ প্রেমীদের দৃষ্টিতে মেনে নিতে পারছেনা বলে চলছে বার বার সমালোচনা।
গতকাল (২৭ জুন সোমবার সরজমিনে) দেখা যায়, মহেশখালী উপজেলা পরিষদের তত্বাবধানে স্থাপিত ও পরিচালিত  উপজেলা পরিষদের মাত্র ১শ গজ দুরত্বে রেডক্রিসেন্ট অফিস সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটিতে সারা বছর গরু চরতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে স্বয়ং মুক্তিযোদ্ধারা পর্যন্ত প্রতিবাদ করেছে।কিন্তু শত বাধাঁ নিষেধ উপেক্ষা করে ইচ্ছাকৃত ভাবে নিজের ব্যক্তিগত গোচারণ ভূমিতে পরিণত করেছে স্বার্থান্বেষীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহেশখালী রেড ক্রিসেন্ট অফিসের মাষ্টার রোলে কর্মরত পিয়ন সুবল জলদাস ও ললিত কুমার দে পরস্পর যোগ সাজসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেষ্টনীর ভেতরের জায়গাটি দীর্ঘ বহু বছর ধরে নিজেদের গরু পালনের জন্য সংরক্ষণ করে তাতে বাজার থেকে ইউরিয়া সার এনে ঘাস বাড়ানোর জন্য প্রয়োগ করে তাতে সারা বছর গরু চরায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি বেষ্ঠনীর ভেতরে গরু ঢুকিয়ে বাইরে তালাবদ্ধ করে দেয়। সন্ধ্যায় বের করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে ইতিপূর্বে অনেকে বহু বার বাঁধা নিষেধ করেনছে বলে জানা গেছে।
এব্যাপারে মহেশখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছালেহ আহমদ এর কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, শহীদ মিনার টি আমরা ১৯৮৪সালে স্থাপন করেছি।তখন থেকে এই শহীদ মিনারে আমরা বছরে অন্তত ৩ বার শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে আসছি। রেড ক্রিসেন্ট অফিসের পিয়ন সুবল ও ললিত কে আমরা বার বার শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার্থে সেখানে গরু না চরার জন্য নিষেধ করেছি। প্রশাসনকে ও অবগত করা হয়েছে। কিন্তু তারা শত বাঁধা উপেক্ষা করে এ কাজ অব্যাহত রেখেছে। ফলে সারা বছরেই পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে শহীদ মিনারের। স্বাধীন দেশের একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে এ ন্যায় গর্হিত কাজ মেনে নিতে পারছি না। তাই শহীদ মিনার অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমি প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।   
ছবির ক্যাপশনঃ- মহেশখালীর উপজেলা পরিষদ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গরু চরার দৃশ্য। ছবিটি গতকাল বিকালে তোলা- প্রতিনিধি।

কোন মন্তব্য নেই: