এম বশর চৌধুরী উখিয়া: উখিয়া উপজেলার ৫ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্টিত হবে আগামী ২জুলাই। তাই শেষ মুহুর্তের প্রচারণায় উঠে পড়ে লেগেছে প্রার্থীরা। ছোট ছোট বৈটক থেকে শুরু করে বাড়ীতে বাড়ীতে গণসংযোগ করছে তারা। পোষ্টার, লিপলেটে চেয়ে গেছে জন বহুল ষ্টেশন, হাট-বাজার ও গ্রামের অলি গলি। নির্বাচনী তপশীল ঘোষনার পর কয়েকটি ইউনিয়নে সহিংস ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় সহিংসতার ঘটনা বেড়ে চলছে। বিশেষ করে উখিয়ার ক্রাইমজোন হিসাবে খ্যাত রতাপালং ইউনিয়নের ভালুকিয়া, চাকবৈটা, করই বনিয়া সহ পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি ও প্রচারনায় বাধা প্রদানের ঘটনা বেড়ে চলছে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, প্রচারনায় বাধা প্রদান ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় রতাপালং ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল কবির সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে নির্বাচন কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরে একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্বাছ উদ্দিন বাদী হয়ে গতকাল ২৭ জুন অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্বাছ উল্লেখ করেন, গত ২৫ জুন সকাল ১১ টার দিকে তার বোন শাহেদা আক্তার (৩০), স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৮), ও সমর্থক খাইরুল বশর (৪০), আজিজুল হক (৩৫), আব্দুল্লাহ আল জুবাইয়ের (১৯), তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনা চালানোর জন্য চাকবৈটা নয়া পাড়া রাস্তায় পৌছিলে চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল কবিরের সমর্থকরা তার স্ত্রী ও বোনদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং নাজেহাল করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ২৬ জুন দুপুর ২ টার সময় তার ভাই জানে আলম ও সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারণার জন্য থিমছড়ি খালের পূর্ব কূল গ্রামে খাইরুল আলম চৌধুরীরর ভাই মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে ১০/১২ জন নুরুল কবির চৌধুরীর সমর্থক দা, লাঠি সোটা ইত্যাদি অস্ত্র অতর্কিত এসে তার ভাই ও সমর্থকদের লক্ষ্য করে এখানে চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল কবিরের দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক ছাড়া অন্য কোন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানো যাবেনা বলে গালীগালাজ করে এবং ভবিষ্যতে ভালুকিয়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাইলে খুন জখম করবে ও অপহরণ করবে বলে হুমকি প্রদর্শন করে। আব্বাছ চেয়ারম্যান আরও অভিযোগ করেন, একাধিক মামলার আসামী ও উখিয়া থানা পুলিশের ডিটেনশ মামলার তালিকা ভুক্ত সন্ত্রাসী খাইরুল আলম চৌধুরী ভোটের দিন তার নারী পুরুষ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে দেবেনা এবং গেলে খুন করবে, ঘরবাড়ী লুট করবে মর্মে জোরালো হুমকি দিয়া যাচ্ছে। তিনি এসব কর্মকান্ড সফল করার জন্য বহিরাগত এলাকার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন মামলার ৩০/৩২ জন আসামীদের নিয়া এলাকায় পাহারা বসাইয়াছে। যার কারণে সুষ্ট নির্বাচন নিয়ে মারাত্মক সংসয় প্রকাশ করেছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল কবির চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয় দাবী করে বলেন, গত কয়েকদিন আগে আব্বাছ চেয়ারম্যানের সমর্থকরা রুহুল্ল্যা ডেবা এলাকায় তার প্রচারণায় নিয়োজিত মাইক ভাংচুর করেছে এবং প্রচারকাজে নিয়োজিত কর্মীকে মারধর করেছে। এদিকে রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক নুরুল মাসুদ ভুইয়া অভিযোগ করে বলেছেন, গতকাল ২৭ জুন বিকালে টিএন্ডটি গুচ্ছ গ্রাম এলাকায় নির্বাচনী পথ সভা করার সময় প্রতিপক্ষরা বাধা প্রদান করে এবং লাটি সোটা নিয়া এসে সভা পন্ড করে দেয়। একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, প্রতিপক্ষরা রাজাপালং এলাকায় তার কর্মী সমর্থকদের বাধা প্রদান সহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। পালংখালী ইউনিয়নের এডভোকেট জমির সমর্থিত রহমান আলীর ঘরে বিএনপি দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মোক্তারের সমর্থকরা ঘর লুট ও ৩ জনকে মারধর করেছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন