সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ হারিয়ে যাচ্ছে সাগর গর্ভে : ভাঙ্গন অব্যাহত





উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সরেজমিন পরিদর্শন 
মুহাম্মদ তাহের নঈম,টেকনাফ:
পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় পর অবশেষে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপের ভয়াবহ ভাঙ্গন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম। গতকাল বিকাল ৫ টায় পস্নাবিত এলাকা পরিদর্শনের সময় এলাকার সাংসদ আবদুর রহমান বদি, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ গিয়াস উদ্দীন আহমেদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাঈন উদ্দীন, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম নাজিম উদ্দীনসহ সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপরে বিভিন্ন সময়ে দৈনিক আমার দেশসহ স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় স্বচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলে সরকার এলাকার জনগনের জান-মাল রক্ষার্থে জরুরী ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প বরাদ্দ দেয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্টান জানায়, বাঁধ নির্মাণ করতে গিয়ে স্থানীয় সরকারী দলীয়
নেতা-কর্মীদের বাধার সম্মুখীন হয়েছে। হামলা ও মারধর করে ঠিকাদারের লোকজনকে তাড়িয়ে দেয়ায় গত দু'মাস ধরে বাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। চলতি মৌসুমে এ বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় এলাকার সাধারণ লোকজন চরম আতঙ্কে রয়েছে। বর্তমানে বাঁধের বিভিন্ন ভাঙ্গাংশ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে প্রতিনিয়ত প্লাবিত হচ্ছে গ্রাম এলাকা। 

সূত্র মতে পানি উন্নয়ন বোর্ড শাহ পরীর দ্বীপের অতি ঝুঁকিপূর্ণ বেড়ী বাঁধ ও প্রতিরক্ষামলূক কাজ বাস্তবায়নের জন্য প্রায় পৌনে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কর্তৃপক্ষ গত ১৮ এপ্রিল ঠিকাদার নিয়োগ করে উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল কে কার্যাদেশ প্রদান করেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ প্রাপ্তির পর প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য নির্মাণ সামগ্রী, মাটি কাটা এবং মাটি পরিবহণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক গাড়ী সহ আনুষাঙ্গিক মালামাল নিয়ে প্রকল্প এলাকায় কাজ আরম্ভ করে। কিন্তু বেড়ী বাঁধ নির্মাণ শুরুর ৩ দিন পর স্থানীয় টেকনাফের কিছু সরকার দলীয় নেতা-কমর্ীরা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। এ সময় কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদেরকে মারধর করা হয়। উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল এর সত্বাধিকারী আতিকুল ইসলাম জানান, আমার লোকজনকে এলাকার এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে এবং তাকে এলাকায় কাজ বন্ধ করার হুমকি দেয়। ফলে নিরাপত্তার কারণে ঠিকাদার প্রকল্পের সমস্ত গাড়ী তাৎক্ষনিকভাবে এলাকা সরিয়ে ফেলে। ফলে দীর্ঘদিন উক্ত নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে। সূত্র জানায়, চলতি জুন মাসের ৩০ তারিখে এ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় বাঁধ নির্মাণ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে এসমুহ ঘটনার জন্যে এলাকার সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে সরাসরি দায়ী করেছে। এ ব্যাপারে আবদুর রহমান বদির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান-, ঠিকাদারের গাফলতির কারনে এলাকার জনগন দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। কাজ না করে বিল উঠিয়ে নেওয়ার তৎপরতা শুরম্ন করে। এতে আমি বাধ সাধলে উক্ত ঠিকাদার উল্টো আমাকে হুমকি দিয়ে উল্টো আমাকে দৃশ্যতা দেখিয়েছে। এ দূর্নীতিবাজ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছে। 

স্বাধীনতার পূর্বে শাহপরীরদ্বীপের আয়তন ছিল দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১০ কিলোমিটার। বর্তমানে তা ছোট হয়ে দৈর্ঘ্য ৪ কিলোমিটার ও প্রস্থ ৩ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। এভাবে সাগরের করাল গ্রাসে হারিয়ে যাচ্ছে শাহ পরীর দ্বীপের একের পর এক গ্রাম। ১৯৯৩-৯৪ এর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে বদর মোকাম সংলগ্ন সাগর তীরে বিশাল বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিলীন হয়ে যায়। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার বেশ কিছু গ্রাম সাগর গর্ভে তালিয়ে যায়। বিগত বিভিন্ন সনে সরকার উক্ত এলাকার উপকূলীয় মানুষের জান মাল রক্ষার্থে একাধিকবার উপকূলীয় রক্ষাবাঁধ নির্মাণের বরাদ্ধ দেয়। কিন্তু বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করায় অদ্যাবধি শাহ পরীরদ্বীপের ভূখন্ড দিন দিন তলিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে শাহপরীরদ্বীপের ভয়াবহ ভাঙ্গনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

কোন মন্তব্য নেই: