সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

শহরের জীবন যাত্রা দুর্ভোগের সম্মুখীন : জেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত : হুমকির মুখে বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র



সরওয়ার আজম মানিক : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি স্থল নিম্নচাপে রূপ নিয়ে বর্ষণের মধ্য দিয়ে দূর্বল হয়ে যাবে। তবে এর প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকবে আরো কয়েকদিন। ককসবাজার সমুদ্র বন্দরকে দেয়া ৩নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত বলবৎ রয়েছে। সাগর উত্তালের পাশাপাশি পূর্ণিমার জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ২/৪ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে জেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপকূলের ভেঙ্গে বেড়িবাঁধ দিয়ে আজ ও লোকালয়ে প্রবেশ করেছে লবণাক্ত পানি। হুমকির মুখে পড়েছে কুতুবদিয়ার বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র। জলোচ্ছ্বাসের কারনে দুর্ভোগ পোহাতে হয় জেলার উপকূলের বাসিন্দাদের। গতকাল সকাল থেকে জেলার উপর দিয়ে বয়ে যায় দমকা ও ঝড়ো হাওয়া। অনেক স্থানে পানি জমে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বর্ষা শুরুর সাথে সাথে পর্যটন শহরে জীবনযাত্রা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। যাতায়াত হয়ে পড়েছে দূর্বিসহ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাড়ি ঘর প্লাবিত হচ্ছে। সাগর সৈকতের ঝাউ বাগান ব্যাপক ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকে ককসবাজারে ভারী বর্ষণ শুরম্ন হয়েছে। বর্ষা শুরু পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী নিম্নচাপ। ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত। সব মিলিয়ে ১৭ জুন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল ভারী বর্ষণ। ফলে পর্যটন শহর ককসবাজারের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। বাজারঘাটা, বৌদ্ধ মন্দির এলাকা, তারাবনিয়ার ছড়া, বাহারছড়া, সমিতি পাড়া, চর পাড়া, কুতুবদিয়া পাড়া, ফদনার ডেইল বড় বাজার ইত্যাদি এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। কয়েকশ বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে। ফলে বাড়িঘর গুলিতে বসবাস করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রান্নার চুলল্লীতে আগুন জ্বলছে না। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারঘাটা, বৌদ্ধ মন্দির সহ শহরের কয়েকটি সড়কে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছ্।কারণ সড়কগুলির উপর দিয়ে প্রায় সময় কোমর পরিমাণ পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কাদা মাটিতে ভরে গেছে সড়কগুলি। নালা নর্দমা ভরাট হয়ে যাওয়ায় এর পানি, ময়লা আবর্জনা সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পানির সাথে এসব ময়লা আবর্জনা বাড়িঘরে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ছে। শহরের অধিকাংশ সড়কে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পানিতে ডুবে থাকা এসব সড়কের বড় বড় গর্তগুলি দেখা যায় না বিধায় যানবাহন ও জনগণ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অনেক ৰেত্রে বাজারঘাটা, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক পথে যানবাহন ও জনগণের চলাচল বন্ধ থাকছে। শহরের এ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা ও সড়কগুলির এ দুরাবস্থা হওয়ায় ব্যবসার ব্যাঘাতের পাশাপাশি জনগণ, ছাত্র ছাত্রীদেরকে দূর্বিষহ অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। উলেস্নখ্য পাহাড়গুলি ভাটার ফলে ন্যাড়া হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির সাথে সাথে পাহাড়ের মাটি পানির সাথে নেমে এসে শহরের নালা নর্দমা সহজে ভরাট হয়ে যায়। একটি বিরাট অংশ ও সড়ক কাদামুক্ত হয়ে যায়। নালা নর্দমা ও সড়ক একাকার হয়ে যায়। সব মিলিয়ে পর্যটন শহর ককসবাজারবাসীর জীবনযাত্রা হয়ে পড়েছে অত্যনত্দ দূর্বিষহ। এদিকে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে পড়ায় ঢেউয়ের আঘাতে ককসবাজার সাগর সৈকতের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। সৈকতে বিভিন্ন অংশ সাগরে বিলীন হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উজাড় হয়ে যাচ্ছে সাগর তীরের ঝাউবাগান, গত কয়েকদিনে কয়েকশ ঝাউগাছ উপড়ে পড়েছে। বন বিভাগ এসব গাছ উদ্ধার না করায় স্থানীয় জনগণ তা নিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, আজকের মধ্যে নিম্নচাপটি দূর্বল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খুলনা ও ভারতের পশ্চিম বঙ্গ দিয়ে নিম্নচাপটি সাগর থেকে উপকূল দিয়ে উপরে উঠে স্থলনিম্নচাপে রূপ নিয়ে বৃষ্টির কারনে দূর্বল হয়ে যাবে। তবে এখানে ৩নং সংকেত বলবৎ রয়েছে। বিগত ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ায় অফিস ১১০ মিঃ মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। তবে আজও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস জানায়।

কোন মন্তব্য নেই: