সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

সেনাবাহিনীর সেবা কার্যক্রম সম্পন্ন॥ ১১২ জনকে চিকিৎসা বান্দরবানের আলীকদমে ডায়রিয়া ও হাম রোগের প্রকৌপ নিয়ন্ত্রণে

বদরুল ইসলাম মাসুদ, বান্দরবান থেকে
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম পোয়ামুহুরী এলাকার ১১টি ম্রো (মুরং) আদিবাসীপাড়ায় ডায়রিয়া, হাম ও জলবসন্ত (চিকেন পক্স) রোগে আক্রান্তদের সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গঠিত চিকিৎসা টিমের সেবা কার্যক্রম গতকাল (বৃহস্পতিবার) সম্পন্ন হয়েছে। এ সেবা কার্যক্রমে দুর্গম ওইসব পাড়ার মোট ১১২ জনকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। গত মাসের শেষ দিকে ওইসব পাড়ায় হাম, ডায়রিয়া ও জলবসন্ত রোগের প্রকৌপ দেখা দেয়। এসব রোগে ১৭ জনের মৃত্যুর কথা সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে। তবে স্থানীয় লোকজন এ সংখ্যা ২৩ বলে দাবি করেছিল।
সেনাবাহিনীর
বান্দরবান ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড (রিজিয়ন) এর জিএস শাখা হতে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত মাসের শেষের দিকে আলীকদমের পোয়ামুহুরী ক্যাম্পের আশেপাশের ১১টি মুরং পাড়ায় ডায়রিয়া, হাম ও জলবসন্ত রোগের প্রকৌপ শুরু হলে বান্দরবান রিজিয়নের সার্বিক নির্দেশনানুসারে আলীকদম জোনের ক্যাপ্টেন আবদুল মালেকের নেতৃত্বে মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আশরাফুল আলম ও উপজেলা স্বাস'্য কর্মকর্তা ডাঃ মোখলেছুর রহমান এবং জোনের ২জন মেডিকেল অ্যাসিসটেন্ট নিয়ে একটি মেডিকেল টিম পোয়ামুহুরীর আক্রান্ত পাড়াগুলোতে প্রেরণ করে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় তারা সেনাবাহিনীর হেলিককপ্টারযোগে সেখানে উপসি'ত হয়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে শুরু করে। মেডিকেল টিম আক্রান্ত এলাকায় গিয়ে নিরীক্ষণ করে রোগটি হাম হিসেবে নিশ্চিত হয়। তবে মারা যাওয়া ১৭ শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু জলবসন্তে (চিকেন পক্স) এবং কয়েকজনের হামের সাথে ডায়রিয়াও ছিল।
 প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, এক সপ্তাহ চিকিৎসা সেবা দেয়ার মাধ্যমে সেখানে এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সেনাবাহিনীর হিসেব মতে ১৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। চিকিৎসা সেবা দেয়ার পরে আর কারো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। মেডিকেল টিম চিকিৎসা কার্যক্রম শেষে গত ৪ মে স'ানীয় লোকজনকে নিয়ে পোয়ামুহুরী ক্যাম্পে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা করে। সভায় এধরনের রোগে করণীয় সম্পর্কে হাতে-কলমে পরামর্শ ও শিক্ষা দান করা হয়। বৃহস্পতিবার (৫ মে) মেডিকেল টিমটি পোয়ামুহুরী আর্মি ক্যাম্প ত্যাগ করে। মেডিকেল টিম পোয়ামুহুরী এলাকার ১১টি পাড়ায় মোট ১১২ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে। এরমধ্যে ৯০ জন ডায়রিয়া, ২১ জন হাম ও এক জন জলবসন্ত (চিকেন পক্স) রোগে আক্রান্ত ছিল।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ এপ্রিল আলীকদম জোনের পোয়ামুহুরী আর্মি ক্যাম্পে এসে স'ানীয় কিছু মুরং অধিবাসী  জানায় যে,   ক্যাম্পের আশেপাশের পাড়াগুলোতে বিভিন্ন বয়সী কিছু শিশু অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ওই দিন আর্মি ক্যাম্প হতে বিষয়টি আলীকদম জোনের মাধ্যমে বান্দরবান রিজিয়ন সদর দফতরকে অবহিত করা হয়। এরপরই চট্টগ্রাম পদাতিক ডিভিশন ও বান্দরবান রিজিয়নের সহায়তা ও নির্দেশনায় আক্রান্ত এলাকায় চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালায় সেনাবাহিনী। চিকিৎসা সেবা দেয়ার পাশাপাশি দুঃস' ও আক্রান্ত জনগণের মাঝে দুধ, বিস্কুট, চাপাতা এবং ভোজ্য তেলসহ বিভিন্ন সামগ্রীও বিতরণ করে।
প্রসঙ্গত, গত মাসের ১৮ হতে ২৬ তারিখের মধ্যে আলীকদম উপজেলার পোয়ামুহুরীর মারাং ম্রো পাড়া, হামুজা ম্রো পাড়া, তরণী ম্রো পাড়া, বড়বেতী ম্রো পাড়া, পাহাড় ভাংগা ম্রো পাড়া, বড় আগলা নিদ্রা ম্রো পাড়া, সায়নাতলী ম্রো পাড়া, রেঞ্জক ম্রো পাড়া, দরিতংলা ম্রো পাড়া, আনদানী ম্রো পাড়া ও হাতি বাজার ত্রিপুরা পাড়াসহ ১১টি আদিবাসী পাড়ায় অজানা রোগ ছড়িয়ে পড়ে। স'ানীয় লোকজন একে হাম, বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডায়রিয়অ এবং সেনাবাহিনী প্রদত্ত প্রথম প্রেসনোটে একে ‘বসন্ত’ রোগে আক্রান্ত বলা হয়েছিল।





ক্যাপশান- বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার পোয়ামুহুরী এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে। দুর্গম পাহাড়ে নদী পথ দিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনীর টিম।

কোন মন্তব্য নেই: