সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

পলিটিক্স

                                           বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

-সাইফুল ইসলাম
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি; পলিটিক্স সাধারণত পাঁচ প্রকার। সেল্প পলিটিক্স, ফ্যামিলি পলিটিক্স, ভিলেজ পলিটিক্স, ন্যাশনাল পলিটিক্স ও ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্স। ভাল কিছু অর্জন করতে হলে এবং মন্দ থেকে বাঁচতে হলে প্রত্যেক প্রকার পলিটিক্স সম্পর্কে সচেতন থাকা দরকার।
সেল্প পলিটিক্স হচ্ছে যা করলে নিজের অধিকার আদায় করা যায়, নিজেকে রক্ষা করা যায়, নিজের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা যায় তাই করা। যে যত বেশি নিজ কাজে যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন ও প্রমাণ করতে পারবে সে তত বেশি সেল্প পলিটিক্সে সফল হতে পারবে। এক কথায় নিজের ভালোর জন্য যখন যা প্রয়োজন তখন তা করতে পারাই হচ্ছে সেল্প পলিটিক্স। এটাকে কেউ স্বার্থপরতাও বলতে পারে। তবে অন্যের ক্ষতি না করে নিজের স্বার্থ রক্ষা করা প্রত্যেকের জন্য অত্যাবশ্যক। জীবনের টার্গেট নির্ধারণ করে প্রতিমুহুর্থে লক্ষ্যপানে অগ্রগতির হিসাব করলে সাফল্য অনিবার্য।
ফ্যামিলি পলিটিক্স হচ্ছে পরিবারে পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন-ান বা আত্মিয়-স্বজন কারো সাথে কোন প্রকার সমস্যা না হয় মতে নিজে চলা এবং অন্যদেরকে চালানো। সমস্যা হলে তা বড় হওয়ার আগেই দ্রুত সমাধান করা। সমস্যা শুরু হয় সাধারণত পাকঘর থেকে বা মহিলা ও ছোটদের ছোটখাট ব্যাপার নিয়ে। সমস্যা না হওয়ার সহজ উপায় হচ্ছে পরিবারের ছোটবড় সবাইকে সাথে নিয়ে এক টেবিলে বসে খাওয়া এবং খাবার টেবিলেই পারিবারিক সকল বিষয়ে সবার সাথে খোলামেলা আলোচনা করা ও সিদ্ধান- নেয়া। তাতে কাজ না হলে পাকঘর পৃথক করা। যার প্রাপ্য তাকে দেয়া এবং ছোটবড় কোন ব্যাপারে একাধিকের মধ্যে কোন প্রকার বৈষম্য না করা। সবসময় সামর্থের তুলনায় যোগান কম দেয়া, যাতে আরো কিছু চাহিবা মাত্র যোগান দেয়া যায়। নতুবা এমন চাহিদা আসতে পারে, যার যোগান দেয়া সম্ভব নাও হতে পারে। কোন ব্যাপারে অন্যের অপেক্ষায় না থেকে পরামর্শ ভিত্তিক যথাসম্ভব নিজেই করে নেয়া। আগামীর অপেক্ষোয় না থেকে সামর্থ অর্জনের সাথে সাথেই হজ্জ্ব আদায় করা। প্রত্যেকের সময় ও সামর্থকে উৎপাদনমূখী কাজে নিয়োগের ব্যবস'া করা। রাগ আসলেই পানি পান করে শুয়ে পড়া অথবা বেরিয়ে যাওয়া। যে বাড়ীতে হালাল আয়, মিতব্যয়, অল্পেতুষ্টি ও পর্দা থাকবে না, সে বাড়ীতে কখনো শানি- টিকতে পারে না। যার যে দিকে আগ্রহ তাকে সেদিকে যাওয়ার ব্যবস'া করা, তা ক্ষতিকর হলে তার আগ্রহ পরিবর্তনের চেষ্টা করা। মেয়েদেরকে কাছে রেখে চরিত্রমূখী শিক্ষা দেয়া এবং ছেলেদেরকে দূরে পাঠিয়ে কর্মমূখী শিক্ষা দেয়া। যৌবনপ্রাপ্তির সাথে সাথে বিয়ের ব্যবস'া করা। গ্রামে হলে কম্পক্ষে ৫ তলার ফাউন্ডেশন দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং প্লান মতে বাড়ী নির্মান করা। নিজ সম্পদের এক তৃতীয়াংশ জনসেবার জন্য ওয়াক্‌ফ করা এবং বাকী দুই তৃতীয়াংশ নিজেই সন-ানদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া। এতীম নাতী-নাতনীদেরকে তাদের পিতা-মাতার অংশ রেজিষ্ট্রি করে দান করা। কোন কর্জ না রাখা। সর্বদা অসিয়তনামা লিখে নিজের সাথে রাখা। ছোটবড় প্রত্যেকের পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে রাখা, যাতে হারাতে বা লাওয়ারিস হতে না হয়। মৃত্যুর সাথে সাথে উত্তরাধিকার সম্পদ বন্টন করা, যাতে নতুন সমস্যা সৃষ্টি হতে না পারে।
ভিলেজ পলিটিক্স হচ্ছে সমাজে, প্রতিষ্ঠানে বা দলে নিজের অবস'ান ধরে রাখার এবং আরো ভাল করার চেষ্টা করা। যে যত বেশি যোগ্য হবে সে তত বেশি গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করবে। যে যত বেশি সেবা করবে সে তত বেশি নেতৃত্ব লাভ করবে। যে যত বেশি পরিকল্পনা ভিত্তিক কাজ করবে সে তত বেশি সফল হবে। যে যত বেশি নিষ্টাবান হবে সে তত বেশি টিকে থাকবে। যে যত বেশি কর্মট হবে সে তত বেশি আত্মনির্ভরশীল হবে। যে যত বেশি সম্মান খুজবে সে তত বেশি অসম্মানিত হবে। যে যত বেশি প্রতিদ্বন্দিতা করবে সে তত বেশি সমালোচিত হবে। যে যত বেশি নির্বাচন করবে সে তত বেশি ফতুর হবে। যারা নির্বাচন করতে চান তাদের প্রতি পরামর্শ থাকবে যে, আপনি যদি প্রকৃত সমাজসেবা করতে চান তবে পোস্টারিং মাইকিং ও ক্যাম্পিং ইত্যাদিতে অপচয় কম করে পরিকল্পনা ভিত্তিক সমাজের জন্য উপকারী কর্মসূচী বাস-বায়ন করুন। যেমন আপনার নির্বচনী ফান্ড দিয়ে গণটয়লেট, নলকূপ, পুকুরঘাট, গণপাঠাগার, কাদারাস-ার উপর বালি, নদীর উপর সাকো ইত্যাদি করে দিতে পারেন। দরিদ্র শিশুদেরকে পোষাক, খাতা-কলম ও ভর্তি ফি দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে দিতে পারেন। মহিলাদেরকে সেলাই প্রশিক্ষণ, বেকারদেরকে কর্ম প্রশিক্ষণ ও পেশাজীবীদেরকে দক্ষতাবৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস'া করতে পারেন। জনগণের প্রয়োজন পূরণে নিজে জামিনদার হয়ে কোন দোকান বা সংস'া থেকে কিসি-তে আদায়যোগ্য পুজির ব্যবস'া করতে পারেন। আপনার জনসভা, লিপলেট বা মাইকিং ইত্যাদি সব কিছুকে বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির উপায় হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। আপনি ইচ্ছা করলে আপনার এলাকার কোন পুকুর বা কোন জমি বেকার পড়ে থাকতে পারে না, কোন রাস-ার দু’পাশ ফলবৃক্ষহীন খালি থাকতে পারে না। এ সব করলে আপনার প্রচার ও জনপ্রিয়তা এমনিতেই বেড়ে যাবে। তবে তা করবেন কি? কিন' কোন অবস'ায় আইনবিদ ও ধর্মবিদের মতামত ছাড়া একক ভাবে বিচার করবেন না, এতে নিজেরা নিরাপদ থাকবেন।
ন্যাশনাল পলিটিক্স হচ্ছে নিজেদের আয়-ব্যয় বাড়ল কিনা, শানি-শৃংখলা কমল কিনা, যোগাযোগ ব্যবস'ার উন্নতি হল কিনা, বিদ্যুৎ পানি গ্যাস যানজট ইত্যাদি সমস্যার সমাধান হল কিনা, প্রভৃতি বিষয় নিয়ে চিন-া ভাবনা করা, তুলনামূলক বিচার বিশ্লেষণ করা, স্বনির্ভরতার পথ অনুসন্ধান করা ইত্যাদি। স্বাধীনতার রাজনৈতিক ঘোষক বাংলাদেশী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শহীদ প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীনতার সামরিক ঘোষক মুক্তিযুদ্ধা সেক্টর কমান্ডার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জন্মের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার ভূমিকা পালন করেন। তাদের মৃত্যুর এত বছর পরও তাদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করে চায়ের কাপে ঝড় তোলার অভ্যাসটি জাতীয় ঐক্যের পথে প্রতিবন্ধক হয়ে আছে। এ দু’জনের দু’উত্তরাধিকারী ধারা গোটা দেশকে দু’ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে, যা তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার বাহন হলেও দেশ-জাতি পিছিয়ে থাকার কারণ। এ দেশের মানুষ তাদের বাইরে আর কাউকে বিকল্প ভাবতে পারে না। অন্যরা তাদের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়ে কোন মতে বেচে আছে। এর মধ্যে বামপন'ী দলগুলো মুজিব কন্যা শেখ হাছিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সাথে এবং ডান বা ইসলামপন'ী দলগুলো জিয়া পত্নি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ। যদিও তারা দু’জনই ধর্মনিরপেক্ষ আঞ্চলিক জাতিয়তাবাদী। নির্বাচনের পূর্বাপর তাদের সিদ্ধান-ই চুড়ান-, এর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা কারো নেই। তারা গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করলেও নিজ দলে গণতন্ত্রের চর্চা নেই বললেই চলে। আগামীতে তাদের উত্তরসূরী হচ্ছেন জয় ও তারেক। তাদের উভয় জোটই বাজেট প্রণয়নে বিদেশী ঋণনির্ভরশীল। এর বাইরে যারা আছে তারা বিভক্ত হওয়ায় এ দেশের রাজনীতিতে তারা নগন্য। নীতির পরিবর্তন ছাড়া শুধু নেতার পরিবর্তনে দেশের অবস'া পরিবর্তন হওয়ার আশা করা যায় না। কিন' নীতির পরিবর্তন করবে কে?
ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্স হচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন হবে, আমরা কোথায় পণ্য ও শ্রমিক রপ্তানী করব, কোথা থেকে তৈল ও প্রযুক্তি আমদানী করব, কীভাবে অর্থনৈতিক সামরিক ও প্রাকৃতিক চাপ মোকাবেলা করব, ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চিন-া-ভাবনা করা ও পদক্ষেপ নেয়া। ধর্মীয় ভাবে বৃহৎ জাতি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান মুসলিম কীভাবে পাশাপাশি শানি-পূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে তার পথ বের করা। ভারত, চীন, আমেরিকা, সৌদি আরব প্রভৃতি দেশের সাথে সম্পর্ক গভীর করে নিজ দেশের ব্যবসা, প্রযুক্তি, শক্তি ও কর্মসংস'ান বৃদ্ধি করা। জাতিসংঘ, ওআইসি, আশিয়ান ও সার্ক ইত্যাদি আন-র্জাতিক সংস'ায় নিজেদের অবস'ান জোরদার করা। ন্যাটো ও ইউরুর মত সামরিক-অর্থনৈতিক ঐক্য গড়া, ইত্যাদি।
আসুন আমরা প্রত্যেকেই দেশ-জাতি-ধর্মের স্বার্থে উক্ত পাঁচ প্রকার পলিটিক্স নিয়ে ভাবি ও নিজ করণীয় নির্ধারণ করি, তাহলেই বিজয় অনিবার্য।





লেখকঃ আহবায়ক, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান মুসলিম ঐক্য পরিষদ। ০১৯১৯৮৩৩২৩৫।
ই-মেইলঃ saifuleidgahcox@yahoo.com

কোন মন্তব্য নেই: