সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

প্রসঙ্গ : সন্ত্রাসবাদ

মনওয়ার সাগর
সন্ত্রাসবাদের ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে যে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য বিদ্যমান তা হল- সন্ত্রাসবাদ সভ্যতা ও বর্বরতার মধ্যে বিরাজিত লড়াই এবং এটি বিপদগামী কিছু লোকের চরম হিংসাত্মক কার্যকলাপের ফসল।
১৯৮৬ সালে টোকিওতে ৭ জাতি গ্রুপের শীর্ষ বৈঠকে গৃহিত ঘোষণায় এ ধারনার স্পষ্ট ব্যখা পাওয়া যায়

Terrorism has no justification, it is such a morally contemptible means of struggle that it is absolutely wrong in all circumstances. There are some governments which sponsor or support terrorism and more balant and cynical use of it. Terrorism must be fought relentlessly and without compromise. 
যে কোন সন্ত্রাসী ঘটনার আকস্মিকতা ও প্রকৃতি দেখলে সহজেই সন্ত্রাসবাদকে সনাক্ত করা যেতে পারে। সন্ত্রাসবাদের সর্বজন গ্রহণযোগ্য কোন সংজ্ঞা এখনও পর্যন- প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। কেননা ‘সন্ত্রাস’ ব্যাপারটা নানা ঐতিহাসিক কারণে ক্রমশ গুলিয়ে যাচ্ছে। আন-র্জাতিক সম্পর্কের গবেষকগণ বিস-র গবেষণা চালিয়ে তাদের স্ব-স্ব দৃষ্টিকোন থেকে সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা প্রদানের চেষ্টা করেছেন, সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Brian Jenseins e‡j‡Qb- Terrorism is the use or ahreatened to bring about political change
Walter Lagueur mš¿vmev‡`i msÁv AviI cwi®‹vifv‡e eywS‡q‡Qb- Gfv‡e Terrorism constitutes the illegitimate use of force of achieve political objective when innocent people are targeted, gvwK©b State Department mš¿vmev‡`i msÁv w`‡q‡Qb Gfv‡e- The Term Terrorism Premeditated, Politically motivated violence Perpetrated against non combatant targets by sub-national groups clandestine agents, usually intended to influence an audience A_©vr mš¿vmev` K_vi A_©- c~e© cwiKwíZ ivR‰bwZK D‡Ïk¨ cÖ‡Yvw`Z wnsmv, wbi¯¿  (non-combatant) Kivi j‡¶¨ DcRvZxq ev ¸ß `vjvj‡`I Øviv mvaviY GK`j gvbyl‡K cÖfvweZ Kivi j‡¶¨ cwiPvwjZ|
Z‡e mš¿vmev‡`i me‡P‡q MÖnYxq Ges Av‡jvwPZ msÁv cÖ`vb K‡i‡Qb- gvwK©b †Mv‡q›`v ms¯’v FBI| FBI mš¿vmev‡`i msÁv w`‡Z wM‡q e‡j‡Qb-Terrorism is the unlawful use of force or violence against persons of property to intimidate or coerce a government, the civilian population or any segment there of in furtherance of political or social objectivesঅর্থাৎ সামাজিক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে কোন সরকার বেসরকারী জনগণ অথবা অন্য যে কোন অংশকে ভীতি প্রদর্শন বা দমানোর জন্য ব্যক্তিবর্গ বা সম্পদের উপর অবৈধ শক্তি প্রয়োগ বা সহিংসতা ব্যবহারকে সন্ত্রাসবাদ বলা হয়।
সুতরাং সন্ত্রাসবাদ হল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাধনের জন্য জনগণকে লক্ষ্য করে অবৈধভাবে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কোন দেশের সম্পদের উপর অবৈধ হস-ক্ষেপের মাধ্যমে জনমনে আতংক সৃষ্টি করা।
সন্ত্রাসবাদের উদ্ভব ঃ ফ্রান্সে ১৭৮৯-৯৯ সালে ফরাসি বিপ্লব চলাকালীন সময়ে সন্ত্রাসবাদ বা ঞবৎৎড়ৎরংস শব্দটির  উদ্ভব হয়। এ সময় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু এবং জনপ্রিয় শাসন ব্যবস'া প্রবর্তনের লক্ষ্যে ঞযব জবমরসব উব খধ ঞবৎৎবঁৎ নামে একটি বিশেষ পরিষদ গঠিত হয়। কিন' ফরাসি বিপ্লবের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য এ পরিষদ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের হাতিয়ারে পরিণত হয়। ঠিক তখন থেকেই ঞবৎৎড়ৎ শব্দটি মানুষের মনে নেতিবাচক ধারনার জন্ম দিতে শুরু করে। নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত থাকে তাদেরকে ঞবৎৎড়ৎরংঃ বলে আখ্যায়িত করা হয়। তবে উনবিংশ শতাব্দী পর্যন- এ শব্দটি তেমন প্রসার লাভ করেনি। ঊনিশ শতকের শেষেরদিকে রুশ বিপ্লবীরা জার রাজবংশের শাসনের বিরুদ্ধে ঞবৎৎবঁৎ কে তাদের সহিংস সংগ্রামের উপায় হিসেবে গ্রহণ করলে ঞবৎৎড়ৎরংস বা সন্ত্রাস শব্দটি বিশ্বে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এরপর থেকে সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে ব্যাপকভাবে সন্ত্রাসী ঘটনার সূত্রপাত করে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সন্ত্রাসবাদের সন্ধান মেলে খ্রিষ্টীয় প্রথম শতাব্দীতে। ইহুদী ধর্মাবলম্বীদের একটি গোষ্ঠী জিলট
(Zealots) এ সময় বর্তমান ইসরাইলের ওপর রোমান আধিপত্যের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালায়। দ্বাদশ শতাব্দীতে ইরানে অ্যাসাসিন্স(Assasins) নামে শিয়া সমপ্রদায়ের একটি সংগঠন সুন্নী সমপ্রদায়ভূক্ত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কাজকর্ম চালায়। অষ্টাদশ শতাব্দীতে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের মূল অনুপ্রেরণা ছিল ধর্ম। উনবিংশ শতাব্দী থেকে সন্ত্রাসবাদে অনেক বেশী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুসঙ্গ দেখা দেয়। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং ধর্মীয় সন্ত্রাস মিলে মিশে সন্ত্রাসবাদের নগ্ন  কদর্য রূপের প্রকাশ ঘটেছে।
ধর্মীয় সন্ত্রাস বলতে ধর্মীয় মৌলবাদী সন্ত্রাসকেই বুঝানো হয়েছে, এই মৌলবাদী সবধর্মেই আছে।
যেমন- ভারতে গোধরা কাণ্ডে যারা ট্রেনের কামরা জ্বালিয়ে সাধারণ মানুষদের জীবন- দগ্ধ করে মেরেছে তারা যেমন সন্ত্রাসবাদী, গোধরা কাণ্ডের জের হিসেবে পরবর্তী সময়ে যারা গুজরাত জুড়ে প্রতিহিংসার দাবানল ছড়িয়ে জীবন- মানুষ মারছে, বাড়ীঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে তারাও সন্ত্রাসবাদী।
আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস প্রসঙ্গে বলব ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রে বিমান হামলার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদীরা আমেরিকার আকাশচুম্বী অট্টালিকার স্পর্ধিত অহংকারকে নিমেষে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়ার পর বুশ প্রশাসনের বিশ্ববাসীর কাছে আহবান এসেছে সন্ত্রাসবাদকে যে কোন মূল্যে পৃথিবী থেকে নির্মূল করতে হবে। হোক না তা নিরীহ মানুষ মেরে, তাদের আশ্রয় স'ল চুরমার করে দিয়ে। সন্ত্রাস নিমূলের নামে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় বুশ প্রশাসন আফগানিস-ান, ইরাকে যে নৃশংস বর্বরতা চালিয়েছে, যুদ্ধ, গোলাগুলি, অগণিত বোমাবর্ষণের মাধ্যমে যেভাবে শিশু, বৃদ্ধ, নারীসহ বেসামরিক লোকজন হত্যা করেছে তাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ছাড়া আর কি বলা যায়, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের নামে পররাষ্ট্রের সমাজ সভ্যতার উপর অসি আস্ফালনের বিষয়টি কি সন্ত্রাসবাদের সমার্থক নয়? 



(চলবে)

কোন মন্তব্য নেই: