সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

ইনানীতে ভুমিদস্যু ও কাঠচোররা দখলে নিয়েছে কোটি টাকার সরকারী বন ভূমি

ইমরান, কোটবাজার :
উখিয়ার ইনানীতে পর্যটন স্পট হওয়ায় জায়গা জমির মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সুযোগে স্থানীয় ভুমিদস্যু ও কাঠচোররা দখল করে নিয়েছে কোটি টাকা মূল্যের সরকারী রিজার্ভ বনভূমি। উক্ত বনভূমি গুলোতে প্লট আকারে বিক্রি করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ইনানী ফরেষ্ট বিট অফিসের অদূরেই এ ঘটনা ঘটলেও বন কর্মকর্তারা কিছুই জানে না।
সাম্প্রতিক সময়ে ইনানী এলাকাকে ঘিরে পর্যটনের নানা দ্বার খুলে যাওয়ার সম্ভাবনায় সেখানে বহুমুখী বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে জায়গা জমির মূল্য কয়েক'শ গুণ বেড়ে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্মাণাধীন মেরিন ড্রাইভ ও এলজিইডি রোড সংলগ্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জমির মালিকরা তাদের সহায় সম্বল বিক্রি করে দেওয়া অব্যহত রেখেছে। প্রতিশতক জমি আশি হাজার থেকে একলক্ষ টাকায় বিক্রি করে এসব ভূমিহীন লোকজন তাদের বসতি ও আবাসনের জন্য পার্শ্ববর্তী সরকারী রক্ষিত ও সংরক্ষিত বনভূমিকে জবর দখল করছে। নিজেদের যৎসামান্য জোত-নাল জমি উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে বন বিভাগের পাহাড়ি ঢিলায় এসব মানুষ বসতঘর উঠাচ্ছে। প্রায় ২ মাসে ব্যবধানে ইনানী বন রেঞ্জের আওতাধীন রিজার্ভ বনভূমিতে ৪ শতাধিক নতুন কাচাঁঘর নির্মিত হয়েছে। এসব ঘর বানাতে বসতভিটা হিসাবে জবর দখলকারীরা পাহাড়, টিলা ও বনজ গাছ কেটে উজাড় করে প্রায় দেড় হাজার একরের মত বনভূমি জবর দখলে নিয়েছে। উখিয়ার ইনানী বন রেঞ্জের আওতায় জালিয়া পালং, ইনানী, রাজা পালং, ছোয়াংখালী বন বিট ও রেজু টহল ফাঁড়ীর আওতাধীন ২০ হাজার ২৬১ একর বনাঞ্চল রয়েছে। স্থানীয় বনবিভাগের কর্মচারীরা জবর দখলকারীদের কাছ থেকে মামলা সহ নানা আইনি জটিলতার হুমকি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

ক্ষুদ্র স্বল্প জমির মালিকরা তাদের জমি বিক্রি করার আগে স্থানীয় বন বিভাগের কর্মচারীদের সাথে দফারফা শুরু করে। বন বিভাগের কর্মচারীরা বনভূমি জবর দখলকারী স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত বেআইনি ভূমিদসু্য সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চূড়ান্ত দফারফা করে থাকে। এরা জবর দখলকৃত বনভূমি দখলকারীদের পক্ষে চিহ্নিত করে দেওয়া, বনভূমির দখল হস্তান্তর ও মোটা অংকের অর্থের লেনদেন করে থাকে বলে নাম প্রকাশে অপরাগ অনেক জবর দখলকারী জানান। ইনানী বন বিটের ১৯৯৬ সালের সৃজিত ২৫ হেক্টরের কড়ই বৃক্ষ বাগান উজাড় করে স্থানীয় প্রভাবশালী উক্ত ভূমি দসু্যরা সম্প্রতি প্রায় ১২ হেক্টরের মত বনভূমি জবর দখলে নিয়েছে। এসব বনভূমিতে সৃজিত বন বাগান ও পাহাড়ি টিলা উজাড় করে ইতিমধ্যে প্লট আকারের বনকর্মীদের সহায়তায় দখল বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। এভাবে উক্ত কড়ই বাগান এলাকায় সম্প্রতি গড়ে উঠেছে ১০/১২টির মত কাচাঁঘর ও কাটাতারের ঘেরা।

ইনানী বনবিট কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন তার অফিসের পাশে সৃজিত বনবাগান উজাড় করে জবর দখলের ঘটনা তার জানা নেই এবং বনভূমির দখল হস্তান্তর সংক্রান্ত তারা কারো কাছ থেকে অর্থ লেনদেন করেনি বলে জানান। স্থানীয় সমাজ সেবক জাফর আলম বলেন, বনকর্মীরা নিলর্জ্জ ভাবে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রিজার্ভ বনভূমির দখল হস্তান্তর ও নতুন নতুন ঘরবাড়ি তুলতে সহায়তা করছে। ইনানী বন রেঞ্জ কর্মকর্তা সাজেদুল আলম বনভূমি জবর দখল, পাহাড় কর্তন, বন উজাড়ের কথা স্বীকার করে বলে শুধু ইনানী নয়, ইনানী থেকে মনখালী পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় এ জবর দখল অপ তৎপরতা বিরাজমান। উক্ত এলাকায় প্রায় ৫ হাজার একর বনভূমি জবর দখলে রয়েছে এবং জবর দখলকারীরা এসব জায়গার উপর প্রায় ৪ হাজারের মত ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছে। বন বিভাগের স্বল্প জনবল নিয়ে এসব সন্ত্রাসী প্রভাবশালী মহলের কাছে তারা অসহায় বলে দাবী করেন। ইনানী বন রেঞ্জের প্রায় ৩ শতাধিক মামলা করা হয়েছে জবর দখলকারীদের বিরুদ্ধে তার পরও জবর দখল প্রক্রিয়া রোধ করা যাচ্ছে না। উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক আদিল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যে ভাবে প্রভাবশালী, সন্ত্রাসী মহল প্রতিযোগীতা দিয়ে বনজ সম্পদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে তাতে আগামী শতকে উখিয়ায় কোন বন ভূমির অস্তিত্ব থাকবে কিনা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে । তিনি এসব দুস্কৃতিকারিরা বন কর্মীদের ইন্দনে এই অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানান। উখিয়া ইউএনও এএইচএম আসিফ বিন ইকরাম বলেন, আন্তঃ বিভাগীয় সরকারী দপ্তরগুলো সমন্বয়হীনতা, বনকর্মীদের ক্ষেত্র বিশেষে অবহেলা ও রাজনৈতিক- সামাজিক ছত্র ছায়ায় পরিবেশ বিধ্বংশী এ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ভূমিদসু্য ও কাঠ চোররা। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রভৃতি বিবেচনায় এনে দ্রুত বনজ সম্পদ রক্ষায় উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরী বলে মনে করেন।

সিবিএন

কোন মন্তব্য নেই: