সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

প্রেমিক অভির ফাঁদ: নগ্ন ভিডিওচিত্র মোবাইল, ইন্টারনেটে

উখিয়ানিউজ২৪ ডেস্ক
অভির প্রেমের ফাঁদে আটকা পড়েছে সরাইলের এক স্কুলছাত্রী। ভালবাসার অভিনয় করে প্রেমিক প্রথমে তার আপত্তিজনক ভিডিওচিত্র ধারণ করে। পরে এ ভিডিওচিত্র দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। ঘরের বউ বানাবে এ প্রতিশ্রুতিও দেয়। বেশি বাড়াবাড়ি করলে তা ছড়িয়ে দেয়া হবে ইন্টারনেটে- এমন হুমকিও দেয়। একদিকে হুমকি অন্যদিকে বউ বানানোর প্রতিশ্রুতি- নানা দোলাচলে স্কুলছাত্রী এক সময় অভিকে
চাপ দেয় বিয়ে করার। এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় ওই স্কুলছাত্রীর। প্রেমিক অভি নগ্ন ভিডিওচিত্র, ধর্ষণের দৃশ্য সব ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। সিডি আকারে তা এখন সরাইলের সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি ব্লুটুথের মাধ্যমে তা এক মোবাইল ফোন থেকে ছড়িয়ে পড়ছে অন্য মোবাইল ফোনে। লাজ-লজ্জায় স্কুলছাত্রী এখন সরাইলছাড়া। আর প্রেমিক অভি বুক ফুলিয়ে চলছে এলাকায়। মাঝখানে পুলিশ গিয়েছিল অভির বাড়িতে। এখন অভি বলছে, পুলিশের সঙ্গেও ঝামেলা মিটে গেছে। এখন তার কোন বিপদ নেই। অতি সমপ্রতি ঘটেছে এ ঘটনা। অভি তার নিজ বাড়িতেই প্রেমিকাকে ধর্ষণ করে। আর তা ভিডিওচিত্র ধারণ করে রাখে।
সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল বখাটে অভি (২২)। আবদুল খালেকের পুত্র অভি’র জন্মস্থান উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কুচনী গ্রামে। বর্তমানে তারা সদর ইউনিয়নের ছোট দেওয়ানপাড়ায় বসবাস করছে। থানা থেকে অভিদের বাসার দূরত্ব মাত্র ৫ গজ। একের পর এক প্রস্তাবে এক সময় ওই ছাত্রী সায় দেয় অভির প্রেমে। কয়েক মাস প্রেমের অভিনয় করে অভি বন্ধু-বান্ধবের সহায়তায় মেয়েটিকে ফুসলিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। অভি প্রেমিকার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় এবং কৌশলে ওই আপত্তিজনক ছবি ক্যামেরাবন্দি করে। এরপর ওই ছাত্রীকে আরও কাছে পাওয়ার আশায় কৌশল অবলম্বন করে অভি। সে আপত্তিজনক ছবিগুলো লোকজনকে দেখিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। ভয়ে এবং লজ্জায় দিশাহারা হয়ে পড়ে মেয়েটি। এক সময় অভি শর্ত জুড়ে দেয় তার প্রস্তাবে সম্মতি দিলে ছবিগুলো প্রকাশ করবে না। এ ভয়ে মেয়েটি অভির পাতানো ফাঁদে পা দেয়। এ সময় বিয়ে করার কথা বলে। এভাবে একদিন অভির বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। আর ধর্ষণের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছে অভির সহযোগীরা। সর্বস্ব হারিয়ে মেয়েটি যখন অভিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখনই বেঁকে বসে অভি। নানা টালবাহানা করতে থাকে সে। একপর্যায়ে অভি গোপন ক্যামেরায় বন্দি করা অশ্লীল দৃশ্য ও ভিডিও ফুটেজ মেয়েটিকে দেখায় এবং হুমকি দেয়- বেশি বাড়াবাড়ি করলে এসব ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হবে। তখন ওইছাত্রীটি অসহায় হয়ে পড়ে। ওই ছাত্রীর পরিবারের লোকজন বিষয়টি জেনে যায়। নিরুপায় হয়ে তারা বিয়ের প্রস্তাব দিলে অভি ক্ষেপে যায়। সে দ্রুত আপত্তিজনক ও অশালীন ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। সেই সঙ্গে বিভিন্ন মোবাইল ফোন ও সিডির মাধ্যমে অশালীন ছবিগুলো বাজারজাত করতে থাকে। বর্তমানে ওই ছবি সরাইলের উঠতি বয়সের যুবকদের হাতে হাতে। ওদিকে গত ১৩ই জুলাই বিষয়টি জেনে সরাইল থানার এএসআই কবির অভিদের বাড়ি যান। তাদের বাড়িতে বসে কিছু সময় গল্প-গুজব করে অভির অভিভাবকদের থানায় এসে দেখা করার কথা বলে চলে আসেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিদের প্রতিবেশী জানায়, এ ঘটনায় পুলিশ মোটা অঙ্কের টাকা কামিয়ে এখন নীরব ভূমিকা পালন করছে। এএসআই কবির বিষয়টি জেনে অভিদের বাসায় যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তথ্য অনুসন্ধান করছি। কোন কিছু মিলাতে পারছি না। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, এই মাত্র বিষয়টি শুনলাম। থানার কেউ অভিদের বাড়িতে গিয়েছিল বিষয়টি আমার জানা নেই। মেয়ের পক্ষ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেবো।

কোন মন্তব্য নেই: