নিয়মিত ডাকাতির ঘটনায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মহাসড়কে ডাকাতি রোধকল্পে হাইওয়ে পুলিশ সৃষ্টি করা হলেও তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে ডাকাত দল গাড়ি আটকিয়ে যাত্রীদের মারধর করে সর্বস্ব লুট করে নিরাপদে পালিয়ে যাচ্ছে। গত ৬ মাসে এ
সড়কে অন্তত ২০টিরও বেশি ডাকাতি সংঘটিত হলেও হাইওয়ে পুলিশের টনক নড়েনি। এ জন্য এ সড়কের পর্যটকসহ যাত্রীরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, এ সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এক সময় ব্যাপকভাবে সড়ক ডাকাতি সংঘটিত হতো। পরে থানা পুলিশের পক্ষে ডাকাতি রোধ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য চকরিয়া অংশের দুটি পয়েন্টে হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এ দুটি ক্যাম্প স্থাপনের পর চকরিয়া পৌর সদর থেকে আজিজনগর পর্যন্ত পয়েন্টে ডাকাতি বন্ধ হলেও ফাঁসিয়াখালী ঢালা থেকে খুটাখালীর মেদাকচ্ছপিয়া ঢালা পর্যন্ত ডাকাতি বন্ধ হয়নি। এ মহাসড়কের বেশিরভাগ যাত্রী ও পর্যটক অভিযোগ করেছেন, ডুলাহাজারা হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা পরিলক্ষিত হয় শুধু চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে। তারা প্রতিনিয়ত সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি রাস্তায় আটকিয়ে বৈধ কাগজপত্র পরীক্ষা করার নামে চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত থাকে। এ সুযোগে ডাকাত দল মেদাকচ্ছপিয়া পয়েন্টে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে নিরাপদে যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি আটকিয়ে ডাকাতি করে যাচ্ছে।
সম্প্রতি ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির কর্মকর্তা জহিরুল হক তরুণ সপরিবারে কক্সবাজার যাওয়ার পথে মেদাকচ্ছপিয়া ঢালায় ডাকাতের কবলে পড়েন। এ সময় ডাকাতদের দেওয়া ব্যারিকেড অমান্য করে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার পথে ডাকাত দলের গুলিতে তার ৪ বছরের শিশু প্রাণ হারায়। এ ঘটনার পর চকরিয়া থানায় একটি হত্যাসহ ডাকাতি মামলা রেকর্ড হওয়ার পর পুলিশ কয়েকজনকে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক করেছে। তবে আটককৃত ডাকাতরা এখনও আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেনি।
সূত্র মতে, এ পয়েন্টে সংঘটিত ডাকাতির সিংহভাগই মামলা হিসেবে রেকর্ড হয় না। কালে-ভাদ্রে কয়েকটি মামলা রেকর্ড হলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজেকে রক্ষার স্বার্থে কয়েক ব্যক্তিকে আটক দেখিয়ে থাকেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রকৃত ডাকাতরা মামলার দায় থেকে রক্ষা পেয়ে যায়। ফলে এ পয়েন্টে ডাকাতি কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদের এক জনপ্রতিনিধি জানান, যতদিন পর্যন্ত এ পয়েন্টের ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ সফল হবে না ততদিন পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। এছাড়া তিনি দুঃখ করে বলেন, হাইওয়ে পুলিশ যে লক্ষ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে সেভাবে তারা কাজ না করে চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত থাকায় ডাকাতদের তৎপরতা কমছে না। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের গাড়িচালক মোঃ ঈসা জানান, মেদাকচ্ছপিয়া ঢালার মধ্যাংশে ডাকাতরা ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতি করে আর হাইওয়ে পুলিশ একটু দূরে চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত থাকে। এক্ষেত্রে পুলিশ ও ডাকাতের ভূমিকা অনেকটা অভিন্ন। একদল সরকারি লোক উর্দি পরে চাঁদাবাজি করে, আরেক দল অবৈধ অস্ত্র দিয়ে ডাকাতি করে। মূলত দু'দলের অপরাধ অভিন্ন।
চকরিয়া যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি এমআর মাহমুদ ও নিরাপদ সড়ক চাই কক্সবাজার শাখার সভাপতি জসিম উদ্দিন কিশোর এ সড়কে যাত্রী ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য সংশিল্গষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি মোঃ ফরহাদ বলেন, মেদাকচ্ছপিয়া ঢালার ডাকাতি রোধকল্পে থানা পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ থানা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নয় বিধায় তাদের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি। ডুলাহাজারা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রেটিং দিন :
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন