উখিয়ানিউজ ডেস্ক চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে শোকাহত এসব পরিবারের সদস্যদের ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরমার্শ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরসরাইয়ের
মায়ানী ইউনিয়নের আবু তোরাব উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক শোকসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন এসব কথা বলেন।
শোকার্ত পরিবারের সদস্যের সমবেদনা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি আপনাদের পাশে আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। আপনারা আমাকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছিলেন। তাই আপনাদের কাছে ছুঁটে এসেছি।’
তিনি বলেন, ‘মিরসরাইয়ের মানুষের সঙ্গে আমার আত্মার সর্ম্পক। সন্তান হারানোর বেদনা খুবই কঠিন। আমার দুসন্তানও অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসাধীন। তাই আমি এই বেদনা বুঝি।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আমি মায়ের ব্যথা বুঝি। আপনাদেরকে সান্তনা দেবার ভাষা আমার নেই। তারপরও শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। অন্য ছেলে-মেয়েদের মানুষ করতে হবে।’
তিনি বলেন, বিএনপি সব সময়ই মানুষের বিপদে ছুঁটে যায়। এবারের দুর্ঘটনায়ও আমাদের লোকেরা আপনাদের পাশে রয়েছে। আমরা সরকারে নেই। আমার সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
এ সময় সকলকে ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে এই কষ্ট মোকাবিলা করার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া। শোকসভা শেষে খালেদা জিয়া নিহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে ২৫ হাজার করে টাকা তুলে দেন।
শোকসভায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক কামাল উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সহ-সভাপতি এম মোরশেদ খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় গুলশানের বাসা থেকে রওনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুপুর আড়াইটায় ফেনী সার্কিট হাউজে পৌঁছান। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম নেয়ার পর বিকেল পৌনে ৪ টায় চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
বিকাল পৌনে ৫টায় খালেদা জিয়া মীরসরাইয়ের পূর্ব মায়ানি গ্রামে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। সেখানে গাড়ি থেকে নেমে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি নিহতদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করেন।
এরপর তিনি দুর্ঘটনায় নিহত সামসুদ্দিন, জাহেদুল ইসলাম জাহিদ, সাখাওয়াত হোসেনের মায়েদের হাতে নগদ ২৫ হাজার করে টাকা তুলে দেন। সেখান থেকে বিকাল সাড়ে ৫টায় খালেদা আবু তোরাব উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছান।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন