শরিফ আজাদ, উখিয়ানিউজ২৪
উখিয়া উপজেলার ৮টি হাট বাজার থেকে সরকার প্রতিবছর কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও দেড় যুগ ধরে হাট-বাজারগুলোতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এসব হাটবাজারগুলোতে ইজারাদার কর্তৃক মনোনীত টোল আদায়কারীরা অতিরিক্ত হারে টোল আদায় করে চরম নৈরাজ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। উচ্চ হারে হাট-বাজারগুলো নিলাম নেওয়ার পর সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে হাতা-হাতির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, উপজেলার দারোগা বাজার, কোটবাজার, মরিচ্যা বাজার, সোনারপাড়া, রুমঁখা বাজার, কুতুপালং বাজার,
পালংখালী বাজার, ভালুকিয়া পাতাবাড়ী বাজার সহ মোট ৮টি হাট ছোট-বড় হাটবাজারে প্রতি অর্থ বছরে প্রকাশ্যে নিলামে ইজারা দিয়ে সরকার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক এসব হাটগুলো রক্ষনা-বেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য সরকারী দিক-নির্দেশনা থাকলেও অজ্ঞাত কারণ বসত গত এক যুগ ধরে এসব হাট-বাজারগুলোতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ফলে হাট-বাজারগুলোতে অস্বাথ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে জনস্বাস্থের জন্য মারাত্নক হুমকি হয়ে দাড়িঁয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতা ও সর্ব-সাধারণের সাপ্তাহিক দু’দিন মিলন মেলা হিসেবে পরিচিত এসব হাট-বাজারগুলোতে স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত পণ্য-সামগ্রী বাজারজাত হয়ে থাকে। যে কারণে সপ্তাহের অন্যদিনের চাইতে নির্ধারিত দুই দিন তুলণামূলক ভাবে লোক সমাগম হয়ে থাকে। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী হাট-বাজারগুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী বিক্রির বিপরীতে টোল আদায়ের চক সম্বলিত সাইবোর্ড টাঙ্গানোর বাধ্যকতা থাকলেও সংশ্লিষ্ট ইজারাদারগণ অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে সাইনবোর্ড টাঙ্গাইনি বলে সচেতন মহলের অভিযোগ। সরকারী প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রতি ১শত বিরা পানের বিপরীতে ১০ টাকা, তরী-তরকারী প্রতি ঝুড়ি ৭ টাকা, পান-সুপারী দোকান প্রতি ৩ টাকা, আম, কাঠাল, তরমুজ, কলার দোকান প্রতি ৩ টাকা, কাচা মাছ ঝুড়ি প্রতি ২ টাকা, গরু-মহিষ শতকরা ৩ টাকা, হাস-মুরগি শতকরা ৩ টাকা নেওয়ার বিধিবিধান থাকলেও সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের নির্দেশে টোল আদায়কারীরা প্রতি পণ্যের বিপরীতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা হারে টোল আদায় করে যাচ্ছে বলে ক্রেতা-বিক্রেতারা অভিযোগ করেন।
মাছ ব্যবসায়ী রশিদ আহমদ, বাদশা মিয়া সহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, টোল আদায়কারীদের কথা মত টোল পরিশোধ না করলে মারধর সহ লাঞ্চিত করে। তরকারী ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন বলেন, এক ঝাকা তরকারী বাজারে আনলে তার কাছ থেকে জোর করে ৬০ টাকা টোল আদায় করেছে। এভাবে প্রতিনিয়ত শত শত ক্রেতা-বিক্রেতা টোল আদায়কারীর সাথে বাড়া-বাড়ির এক পযার্য়ে হাতা-হাতির ঘটনা ঘটে। এতে অনেক সাধারণ মানুষ লাঞ্চিত হয়।
এ ব্যাপারে একাধিক ভুক্তভোগীরা উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করেও কোন কাজ হয়নি। এদিকে ইজারাদারদের নিয়োগকৃত কতিপয় টোল আদায়কারীর মানষিক ও আর্থিক নির্যাতনের ফলে উখিয়ার একাধিক হাট-বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা তাদের বাজারজাতকরণের জন্য অন্যত্র চলে যাচ্ছে বলে স্তানীয়দের অভিযোগ। হোটেল মালিক তহিদুল ইসলাম জানান, যেভাবে টোল আদায়ের নামে মাছ ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে মাছ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না। ফলে মাছ ব্যবসা উখিয়ার বাজার থেকে বিলুপ্ত হবে। এতে সমস্যার সম্মূখিন হবে সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তা- কর্মচারী ও হাজার হাজার সাধারণ জনগণ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন