সাইফুল ইসলাম
সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করা সচেতন প্রত্যেকের দায়িত্ব এবং স্বাধীন ভাবে মত প্রকাশ করাও প্রত্যেকের নাগরিক অধিকার। সে দায়িত্ব ও অধিকারবোধ থেকেই আমার এ লেখা। এর
যৌক্তিক সমালোচনা সাদরে গ্রহণ করব এবং যে কোন অযৌক্তিক প্রতিক্রিয়াকেও ইতিবাচক বিবেচনা করব ইনশাআল্লাহ।
যুদ্ধাপরাধঃ
যুদ্ধ সংক্রান্ত যে অপরাধ তাই যুদ্ধাপরাধ। প্রতিপক্ষ যোদ্ধাগ্র“প যুদ্ধাবস্থায় হতাহত হওয়া যুদ্ধের অনিবার্য ফল। কিন্তু নিরীহ লোকদেরকে হতাহত, গুম, নির্যাতন বা লুঠ করা, নারী ধর্ষণ করা, প্রতিপক্ষ যোদ্ধাকেও বিনাযুদ্ধে গুপ্তহত্যা করা, অঙ্গহানি করা, চুক্তি ভঙ্গ করা এবং অন্যায় ভাবে যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া, অন্যায় নির্দেশ পালন করা, যুদ্ধলব্দ সম্পদ চুরি বা ছিনতাই করা, ইত্যাদি যুদ্ধাপরাধ। এমনকি এসব যুদ্ধাপরাধীদেরকে বিনা বিচারে ছেড়ে দেয়া বা ছেড়ে দিতে বাধ্য করাও যুদ্ধাপরাধের অন্তর্ভুক্ত। যুদ্ধপরাধীদের অবশ্যই বিচার হওয়া দরকার এবং একেবারে না করার চেয়ে দেরিতে করাও মন্দের ভাল। এ মামলার বাদী এ দেশের প্রত্যেক ভুক্তভোগী জনগণ এবং স্বাক্ষীও এ দেশেরই প্রত্যক্ষদর্শী জনতা। যাদের বিরোদ্ধে ফরিয়াদ তারা হলোঃ ১. যুদ্ধের নির্দেশদাতা ইয়াহিয়া গং। ২. নিরিহ মানুষের উপর আক্রমণকারী নিয়াজি গং। ৩. নিরিহ মানুষকে প্রত্যক্ষভাবে হতাহত, নির্যাতন, ধর্ষণকারী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে ঘাপটি মেরে থাকা এ দেশীয় বিপদগামী অংশ। ৪. পাকিস্তানীদের আত্মসমর্পন দলীলে মুক্তিযুদ্ধাদের কোন প্রতিনিধি না রেখে মুক্তিযুদ্ধের কৃতিত্ব ছিনতাইকারী ও যুদ্ধলব্দ সম্পদ লুন্ঠনকারী আরোরা গং। ৫. বিচার করতে না দিয়ে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদেরকে পাকিস্তানের হাতে সপুর্দকারী ইন্দিরা গান্ধি গং। ৬. একগুয়েমির কারণে দেশকে যুদ্ধের দিকে ধাবিতকারী জুলফিকাল আলী ভুট্টু গং। ৭. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণাকারী বাংলাদেশী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শহীদ প্রেসিডেন্স শেখ মুজিবুর রহমান। ৮. আমেরিকাসহ মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে উৎসাহপ্রদানকারী রাষ্ট্রসমূহ এবং দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক নেতাগণ। ৯. অনেক রক্ত-সংগ্রামের বিনিময়ে ১৯৪৭ সালে দ্বী-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে অর্জিত মুসলিমদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র পাকিস্তানকে আপন দেশ মনে করে ভারতের বিরোদ্ধে অবস্থানকারী এ দেশের লক্ষ-লক্ষ মুসলিম জনগণ। ১০. মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদেরকে পুনর্বাসনকারী স্বাধীনতার সমরিক ঘোষক মুক্তিযুদ্ধা সেক্টর কমান্ডার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১১. স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে অভিযুক্তদেরকে মন্ত্রীসভায় স্থানদানকারী বেগম খালেদা জিয়া। ১২. যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্তদের প্রস্তাবিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থার জন্য তাদেরকেই সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনকারী শেখ হাছিনা।
উল্লেখ্য যে, ১৯৭১ সালে যারা ১৮ বছরের নিচে ছিল তাদের অবস্থান তখন বা এখন যাই হোক না কেন তাদেরকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না এবং যুদ্ধাপরাধী যে দলেই থাক না কেন তাদের অবশ্যই বিচার করতে হবে। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তাদের রাজনীতি স্বাধীন বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা উচিত। তাদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে অভিযুক্ত নাম বাদ দিয়ে নতুন নামে দল গঠন করা।
জঙ্গীবাদঃ
জঙ্গ বা যুদ্ধ করার প্রবণতাই জঙ্গীবাদ। যে সব চেয়ে বেশি যুদ্ধ করে সেই জঙ্গীবাদী, সে কোন ব্যক্তি হোক বা কোন রাষ্ট্র হোক। যেমন ১ নাম্বার জঙ্গীবাদী ব্যক্তি ছিলেন ওসামা বিন লাদেন এবং ১ নাম্বার জঙ্গীবাদী রাষ্ট্র হচ্ছে আমেরিকা। বর্তমান বিশ্বব্যাপী যুদ্ধটাও মূলত উক্ত দু’জঙ্গীবাদীর মধ্যে। যদিও এ্যামেরিকা ওসামা বিন লাদেনকে জঙ্গী বানিয়েছে রাশিয়ার বিরোদ্ধে ব্যবহারের জন্য। কিন্তু উদ্দেশ্য ও স্বার্থ ভিন্ন হওয়ায় ১৯৮৯ সালের পর যুদ্ধটা লেগেছে পরস্পরের মধ্যে। এ্যামেরিকা চায় বিশ্বব্যাপী আধিপত্য এবং প্রযুক্তিগত অনুন্নত বা সামরিক ভাবে দূর্বল দেশের সকল খনিজ সম্পদ। আর বিন লাদেন চায়ত আরব ভূমি থেকে এ্যামেরিকার ও ফিলিস্তিন থেকে ইসরাইলের বিতাড়ন এবং মুসলিম বিশ্বকে এ্যামেরিকার কর্তৃত্বমুক্ত করা। এ্যামেরিকার কৌশল হচ্ছে প্রত্যেক রাষ্ট্রকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে নিজের পক্ষে রাখা এবং শত্র“দেরকে অপবাদ-অবরোধ দিয়ে ও বোমা মেরে ধ্বংশ করে দেয়া। বিন লাদেনের কৌশল ছিল প্রচারণার মাধ্যমে জনমতকে, বিশেষ করে যুবসমাজকে এ্যামেরিকার বিরোদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা। টার্গেটে এ্যামেরিকা করে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত হামলা, আর বিন লাদেন করাত সর্বপ্রাচীন আত্মঘাতী হামলা। উভয়ের আঘাতেই বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়। হতাহতের পরিমান এ্যামেরিকার আঘাতে সর্বনিন্ম ৯৫% এবং বিন লাদেনের আঘাতে সর্বোচ্চ ০৫%।
বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের অভিযোগে নিষিদ্ধ হয় জেএমবি, হরকতুল জিহাদ ও হিযবুত তাহরীর। জামায়াতের বিরোদ্ধে অভিযোগ আনার চেষ্টা করা হলেও একে ততক্ষণ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা যাবে না, যতক্ষণ না এ্যামেরিকার দৃষ্টিতে অভিযুক্ত হয়। কারণ বিশ্বব্যাপী কোথায় কোন্ এ্যামেরিকা বিরোধীকে জঙ্গী বলা হবে এবং এ্যামেরিকা বিরোধী তেল-গ্যাস রক্ষার আন্দোলনকারী কোন্ আনু মোহাম্মদের ঠ্যাং ভাঙ্গা হবে তা এ্যামেরিকা-ই ঠিক করে দেয়। যারা এ্যামেরিকা, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ-এর সুদী ঋণ ছাড়া দেশ চালাতে পারে না তারা তো এ্যামেরিকার কথা শুনতে বাধ্য। তাইতো রাজনীতির নামে জালাও-পোড়াও ভাংচুর মারামারি খোনাখোনী হরতাল অবরোধ ইত্যাদি মানবাধিকার লঙ্গনকারী ধ্বংশাত্ত্বক কর্মকান্ডকে জঙ্গীবাদ না বলে শান্তিবাদ বলতে হয়। পশ্চিমাদের মত যদি ইসলাম বা জিহাদের কথা বললেই জঙ্গী হয়ে নিষিদ্ধ হতে হয়, তবে সর্বপ্রথম কোরআন-হাদীসকেই নিষিদ্ধ করতে হবে, কারণ সেখানে অসংখ্য জিহাদ-কিতাল বা যুদ্ধের নির্দেশ আছে, যেমনি আছে বাইবেল বা বেদে। আর যদি বিশ্বব্যাপী মুসলিম ঐক্য বা খিলাফতের কথা বলায় নিষিদ্ধ করতে হয় তবে যারা ভিসা বা সীমান্তমুক্ত বিশ্বের কথা বলে তাদেরকেও নিষিদ্ধ করা উচিৎ। গণতান্ত্রিক ধারায় আন্দোলনের পথ গায়ের জোরে বন্ধ করে রাখলে সংঘাতের আশংকা স্বাভাবিক। ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে ভিন্নপথ অবলম্বনের চেষ্টা করতে পারে যে কেউ। সংঘাতমুক্ত পরিবেশ চাইলে সংসদে প্রত্যেক দল ও মতের প্রতিনিধিত্ব থাকা আবশ্যক। তাই নির্বাচন পদ্ধতিতে সংস্কার আনা দরকার। সংসদে ৫০% আসন এলাকা ভিত্তিক ও ৫০% আসন মোট প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ ভিত্তিক হওয়া উচিৎ এবং সব মতাদর্শীকেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া জরুরী।
ক্রসফায়ারঃ
সরকারী বাহিনী কর্তৃক বিনা বিচারে ক্রস ফায়ার, সন্দেহ হলেই রিমান্ডে নিয়ে টর্চার, বিরোধী দলের হরতাল, হরতালের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে মানুষের যান-মালের ক্ষতি করা, ছাত্র খুন করে হল দখল করা ইত্যাদি রাষ্ট্রীয় ও দলীয় সন্ত্রাস মানুষের মনে প্রতিহিংসার আগুন জালিয়ে দেয়। কেউ যদি অন্যায় ভাবে আপনার জান-মাল-ইজ্জতের উপর আঘাত করে তবে আপনি কী করবেন? যারা আপনাকে নিরাপত্তা দেয়ার কথা তারাই যদি আঘাত করে তবে আপনার ভূমিকা কী হবে? কেউ যদি আপনার পিতা-ভাই-ছেলে-স্বামীকে নিয়ে গুম করে ফেলে তবে কি আপনি চুপ করে বসে থাকবেন? তা যদি করে কোন সরকারী বাহিনী তখন কী করবেন? আপনি কোন অপরাধ না করা সত্তেও যদি আপনাকে সন্দেহমূলক ধরে রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করতে চায় তবে আপনার করনীয় কী হবে? যে সরকার বা রাষ্ট্র যে পদ্ধতিতে এ সবের লাইসেন্স দেয়, সে সরকার বা রাষ্ট্র ও সে পদ্ধতির প্রতি আপনার মনোভাব কী হতে পারে? কিন্তু যত কিছুই হোক না কেন, আপনি কোন প্রতিকার পাবেন না, কোন প্রতিক্রিয়াও দেখাতে পারবেন না। দেখালেই হয়ে যাবেন জঙ্গী-সন্ত্রাসী বা যুদ্ধাপরাধী। যার পরিণতি হবে রিমান্ডে নির্যাতন বা ক্রসফায়ার কিংবা বিনা বিচারে জেলহাজত। প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান বা বিপরিত প্রতিক্রিয়া আছে। সে প্রতিক্রিয়ার নাম কোথাও জঙ্গীবাদ, কোথাও মাওবাদ, কোথাও সমাজবাদ, কোথাও বিচ্ছিন্নতাবাদ, কোথাও চরমপন্থা বা কোথাও অন্যকিছু। এ সব থেকে মুক্তির কোন পথ আছে কী? কেউ কি আমাদেরকে এ অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসবেন? ক্রসফায়ারের জন্য দায়ী বিচার বিভাগের ব্যর্থতা, এর জন্য দায়ী শাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতা, এর জন্য দায়ী রাজনৈতিক নেতৃত্ত্বের ব্যর্থতা।
একই কাজ আইন শৃংখলার নামে হলে ক্রসফায়ার, ধর্মের নামে হলে জঙ্গীবাদ, সমাজতন্ত্রের নামে হলে চরমপন্থা, রাজনীতির নামে হলে গণতান্ত্রীক আন্দোলন এবং আমেরিকা করলে হয় মানবাধিকার রক্ষা। যেমন মানবাধিকার উদ্ধার করা হচ্ছে আফগানিস্তান, ইরাক ও লিবিয়ায়।
লেখকঃ আহবায়ক, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান মুসলিম ঐক্য পরিষদ। ০১৮১৯ ৮৩৩২৩৫। ই-মেইলঃ
সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করা সচেতন প্রত্যেকের দায়িত্ব এবং স্বাধীন ভাবে মত প্রকাশ করাও প্রত্যেকের নাগরিক অধিকার। সে দায়িত্ব ও অধিকারবোধ থেকেই আমার এ লেখা। এর
যৌক্তিক সমালোচনা সাদরে গ্রহণ করব এবং যে কোন অযৌক্তিক প্রতিক্রিয়াকেও ইতিবাচক বিবেচনা করব ইনশাআল্লাহ।
যুদ্ধাপরাধঃ
যুদ্ধ সংক্রান্ত যে অপরাধ তাই যুদ্ধাপরাধ। প্রতিপক্ষ যোদ্ধাগ্র“প যুদ্ধাবস্থায় হতাহত হওয়া যুদ্ধের অনিবার্য ফল। কিন্তু নিরীহ লোকদেরকে হতাহত, গুম, নির্যাতন বা লুঠ করা, নারী ধর্ষণ করা, প্রতিপক্ষ যোদ্ধাকেও বিনাযুদ্ধে গুপ্তহত্যা করা, অঙ্গহানি করা, চুক্তি ভঙ্গ করা এবং অন্যায় ভাবে যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া, অন্যায় নির্দেশ পালন করা, যুদ্ধলব্দ সম্পদ চুরি বা ছিনতাই করা, ইত্যাদি যুদ্ধাপরাধ। এমনকি এসব যুদ্ধাপরাধীদেরকে বিনা বিচারে ছেড়ে দেয়া বা ছেড়ে দিতে বাধ্য করাও যুদ্ধাপরাধের অন্তর্ভুক্ত। যুদ্ধপরাধীদের অবশ্যই বিচার হওয়া দরকার এবং একেবারে না করার চেয়ে দেরিতে করাও মন্দের ভাল। এ মামলার বাদী এ দেশের প্রত্যেক ভুক্তভোগী জনগণ এবং স্বাক্ষীও এ দেশেরই প্রত্যক্ষদর্শী জনতা। যাদের বিরোদ্ধে ফরিয়াদ তারা হলোঃ ১. যুদ্ধের নির্দেশদাতা ইয়াহিয়া গং। ২. নিরিহ মানুষের উপর আক্রমণকারী নিয়াজি গং। ৩. নিরিহ মানুষকে প্রত্যক্ষভাবে হতাহত, নির্যাতন, ধর্ষণকারী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে ঘাপটি মেরে থাকা এ দেশীয় বিপদগামী অংশ। ৪. পাকিস্তানীদের আত্মসমর্পন দলীলে মুক্তিযুদ্ধাদের কোন প্রতিনিধি না রেখে মুক্তিযুদ্ধের কৃতিত্ব ছিনতাইকারী ও যুদ্ধলব্দ সম্পদ লুন্ঠনকারী আরোরা গং। ৫. বিচার করতে না দিয়ে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদেরকে পাকিস্তানের হাতে সপুর্দকারী ইন্দিরা গান্ধি গং। ৬. একগুয়েমির কারণে দেশকে যুদ্ধের দিকে ধাবিতকারী জুলফিকাল আলী ভুট্টু গং। ৭. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণাকারী বাংলাদেশী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শহীদ প্রেসিডেন্স শেখ মুজিবুর রহমান। ৮. আমেরিকাসহ মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে উৎসাহপ্রদানকারী রাষ্ট্রসমূহ এবং দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক নেতাগণ। ৯. অনেক রক্ত-সংগ্রামের বিনিময়ে ১৯৪৭ সালে দ্বী-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে অর্জিত মুসলিমদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র পাকিস্তানকে আপন দেশ মনে করে ভারতের বিরোদ্ধে অবস্থানকারী এ দেশের লক্ষ-লক্ষ মুসলিম জনগণ। ১০. মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদেরকে পুনর্বাসনকারী স্বাধীনতার সমরিক ঘোষক মুক্তিযুদ্ধা সেক্টর কমান্ডার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১১. স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে অভিযুক্তদেরকে মন্ত্রীসভায় স্থানদানকারী বেগম খালেদা জিয়া। ১২. যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্তদের প্রস্তাবিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থার জন্য তাদেরকেই সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনকারী শেখ হাছিনা।
উল্লেখ্য যে, ১৯৭১ সালে যারা ১৮ বছরের নিচে ছিল তাদের অবস্থান তখন বা এখন যাই হোক না কেন তাদেরকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না এবং যুদ্ধাপরাধী যে দলেই থাক না কেন তাদের অবশ্যই বিচার করতে হবে। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তাদের রাজনীতি স্বাধীন বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা উচিত। তাদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে অভিযুক্ত নাম বাদ দিয়ে নতুন নামে দল গঠন করা।
জঙ্গীবাদঃ
জঙ্গ বা যুদ্ধ করার প্রবণতাই জঙ্গীবাদ। যে সব চেয়ে বেশি যুদ্ধ করে সেই জঙ্গীবাদী, সে কোন ব্যক্তি হোক বা কোন রাষ্ট্র হোক। যেমন ১ নাম্বার জঙ্গীবাদী ব্যক্তি ছিলেন ওসামা বিন লাদেন এবং ১ নাম্বার জঙ্গীবাদী রাষ্ট্র হচ্ছে আমেরিকা। বর্তমান বিশ্বব্যাপী যুদ্ধটাও মূলত উক্ত দু’জঙ্গীবাদীর মধ্যে। যদিও এ্যামেরিকা ওসামা বিন লাদেনকে জঙ্গী বানিয়েছে রাশিয়ার বিরোদ্ধে ব্যবহারের জন্য। কিন্তু উদ্দেশ্য ও স্বার্থ ভিন্ন হওয়ায় ১৯৮৯ সালের পর যুদ্ধটা লেগেছে পরস্পরের মধ্যে। এ্যামেরিকা চায় বিশ্বব্যাপী আধিপত্য এবং প্রযুক্তিগত অনুন্নত বা সামরিক ভাবে দূর্বল দেশের সকল খনিজ সম্পদ। আর বিন লাদেন চায়ত আরব ভূমি থেকে এ্যামেরিকার ও ফিলিস্তিন থেকে ইসরাইলের বিতাড়ন এবং মুসলিম বিশ্বকে এ্যামেরিকার কর্তৃত্বমুক্ত করা। এ্যামেরিকার কৌশল হচ্ছে প্রত্যেক রাষ্ট্রকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে নিজের পক্ষে রাখা এবং শত্র“দেরকে অপবাদ-অবরোধ দিয়ে ও বোমা মেরে ধ্বংশ করে দেয়া। বিন লাদেনের কৌশল ছিল প্রচারণার মাধ্যমে জনমতকে, বিশেষ করে যুবসমাজকে এ্যামেরিকার বিরোদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা। টার্গেটে এ্যামেরিকা করে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত হামলা, আর বিন লাদেন করাত সর্বপ্রাচীন আত্মঘাতী হামলা। উভয়ের আঘাতেই বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়। হতাহতের পরিমান এ্যামেরিকার আঘাতে সর্বনিন্ম ৯৫% এবং বিন লাদেনের আঘাতে সর্বোচ্চ ০৫%।
বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের অভিযোগে নিষিদ্ধ হয় জেএমবি, হরকতুল জিহাদ ও হিযবুত তাহরীর। জামায়াতের বিরোদ্ধে অভিযোগ আনার চেষ্টা করা হলেও একে ততক্ষণ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা যাবে না, যতক্ষণ না এ্যামেরিকার দৃষ্টিতে অভিযুক্ত হয়। কারণ বিশ্বব্যাপী কোথায় কোন্ এ্যামেরিকা বিরোধীকে জঙ্গী বলা হবে এবং এ্যামেরিকা বিরোধী তেল-গ্যাস রক্ষার আন্দোলনকারী কোন্ আনু মোহাম্মদের ঠ্যাং ভাঙ্গা হবে তা এ্যামেরিকা-ই ঠিক করে দেয়। যারা এ্যামেরিকা, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ-এর সুদী ঋণ ছাড়া দেশ চালাতে পারে না তারা তো এ্যামেরিকার কথা শুনতে বাধ্য। তাইতো রাজনীতির নামে জালাও-পোড়াও ভাংচুর মারামারি খোনাখোনী হরতাল অবরোধ ইত্যাদি মানবাধিকার লঙ্গনকারী ধ্বংশাত্ত্বক কর্মকান্ডকে জঙ্গীবাদ না বলে শান্তিবাদ বলতে হয়। পশ্চিমাদের মত যদি ইসলাম বা জিহাদের কথা বললেই জঙ্গী হয়ে নিষিদ্ধ হতে হয়, তবে সর্বপ্রথম কোরআন-হাদীসকেই নিষিদ্ধ করতে হবে, কারণ সেখানে অসংখ্য জিহাদ-কিতাল বা যুদ্ধের নির্দেশ আছে, যেমনি আছে বাইবেল বা বেদে। আর যদি বিশ্বব্যাপী মুসলিম ঐক্য বা খিলাফতের কথা বলায় নিষিদ্ধ করতে হয় তবে যারা ভিসা বা সীমান্তমুক্ত বিশ্বের কথা বলে তাদেরকেও নিষিদ্ধ করা উচিৎ। গণতান্ত্রিক ধারায় আন্দোলনের পথ গায়ের জোরে বন্ধ করে রাখলে সংঘাতের আশংকা স্বাভাবিক। ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে ভিন্নপথ অবলম্বনের চেষ্টা করতে পারে যে কেউ। সংঘাতমুক্ত পরিবেশ চাইলে সংসদে প্রত্যেক দল ও মতের প্রতিনিধিত্ব থাকা আবশ্যক। তাই নির্বাচন পদ্ধতিতে সংস্কার আনা দরকার। সংসদে ৫০% আসন এলাকা ভিত্তিক ও ৫০% আসন মোট প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ ভিত্তিক হওয়া উচিৎ এবং সব মতাদর্শীকেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া জরুরী।
ক্রসফায়ারঃ
সরকারী বাহিনী কর্তৃক বিনা বিচারে ক্রস ফায়ার, সন্দেহ হলেই রিমান্ডে নিয়ে টর্চার, বিরোধী দলের হরতাল, হরতালের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে মানুষের যান-মালের ক্ষতি করা, ছাত্র খুন করে হল দখল করা ইত্যাদি রাষ্ট্রীয় ও দলীয় সন্ত্রাস মানুষের মনে প্রতিহিংসার আগুন জালিয়ে দেয়। কেউ যদি অন্যায় ভাবে আপনার জান-মাল-ইজ্জতের উপর আঘাত করে তবে আপনি কী করবেন? যারা আপনাকে নিরাপত্তা দেয়ার কথা তারাই যদি আঘাত করে তবে আপনার ভূমিকা কী হবে? কেউ যদি আপনার পিতা-ভাই-ছেলে-স্বামীকে নিয়ে গুম করে ফেলে তবে কি আপনি চুপ করে বসে থাকবেন? তা যদি করে কোন সরকারী বাহিনী তখন কী করবেন? আপনি কোন অপরাধ না করা সত্তেও যদি আপনাকে সন্দেহমূলক ধরে রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করতে চায় তবে আপনার করনীয় কী হবে? যে সরকার বা রাষ্ট্র যে পদ্ধতিতে এ সবের লাইসেন্স দেয়, সে সরকার বা রাষ্ট্র ও সে পদ্ধতির প্রতি আপনার মনোভাব কী হতে পারে? কিন্তু যত কিছুই হোক না কেন, আপনি কোন প্রতিকার পাবেন না, কোন প্রতিক্রিয়াও দেখাতে পারবেন না। দেখালেই হয়ে যাবেন জঙ্গী-সন্ত্রাসী বা যুদ্ধাপরাধী। যার পরিণতি হবে রিমান্ডে নির্যাতন বা ক্রসফায়ার কিংবা বিনা বিচারে জেলহাজত। প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান বা বিপরিত প্রতিক্রিয়া আছে। সে প্রতিক্রিয়ার নাম কোথাও জঙ্গীবাদ, কোথাও মাওবাদ, কোথাও সমাজবাদ, কোথাও বিচ্ছিন্নতাবাদ, কোথাও চরমপন্থা বা কোথাও অন্যকিছু। এ সব থেকে মুক্তির কোন পথ আছে কী? কেউ কি আমাদেরকে এ অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসবেন? ক্রসফায়ারের জন্য দায়ী বিচার বিভাগের ব্যর্থতা, এর জন্য দায়ী শাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতা, এর জন্য দায়ী রাজনৈতিক নেতৃত্ত্বের ব্যর্থতা।
একই কাজ আইন শৃংখলার নামে হলে ক্রসফায়ার, ধর্মের নামে হলে জঙ্গীবাদ, সমাজতন্ত্রের নামে হলে চরমপন্থা, রাজনীতির নামে হলে গণতান্ত্রীক আন্দোলন এবং আমেরিকা করলে হয় মানবাধিকার রক্ষা। যেমন মানবাধিকার উদ্ধার করা হচ্ছে আফগানিস্তান, ইরাক ও লিবিয়ায়।
লেখকঃ আহবায়ক, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান মুসলিম ঐক্য পরিষদ। ০১৮১৯ ৮৩৩২৩৫। ই-মেইলঃ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন