সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

উখিয়া-টেকনাফ আরাকান ও উপ-সড়কে চলছে ২০ হাজার লাইসেন্স ও ফিটনেস বিহীন মোটরযান ঃ প্রশাসন নির্বিকার

উখিয়া নিউজ প্রতিবেদক
দেশের পর্যটন নগরী নামে খ্যাত কক্সবাজার-টেকনাফ আরাকান সড়ক ও তার সাথে সংযুক্ত বিভিন্ন উপ-সড়কে যত্রতত্র চলাচল করছে প্রায় ২০ হাজার অবৈধ মোটরযান। এসব যানবাহন গুলোর নেই কোন বৈধ লাইসেন্স ও ফিটনেস আবার এ অবৈধ যানগুলোর চালকদেরও কোন প্রকার বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই।
সাধারণত এ এলাকায় জীপ, মাইক্রোবাস, ট্রাকের হেলপারেরা কোন আলাদা প্রশিক্ষন ছাড়াই ড্রাইভিং করছে। এ কারণে অন্যান্য এলাকার মত এখানেও সড়ক দূর্ঘটনার মাত্রা বেড়ে গেছে। গত ১১ জুলাই বিনা লাইসেন্সে হেলপার কর্তৃক ড্রাইভিং করায় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৪৫ জন কোমলমতি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ট্র্যাজেটি ঘটে। এ লাইসেন্স বিহীন ড্রাইভারদের উৎসাহিত করছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, হাইওয়ে পুলিশ এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের বি আর টিএর র্দুনীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
অবৈধ মোটরযান রাস্তায় চলাচলের সুযোগদানের জন্য থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ গাড়ীর মালিকদের কাছ থেকে মাসিক-সাপ্তাহিক ভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধ ভাবে আদায় করার অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যেক থানায় ক্যাশিয়ার নামে অবৈধ পদ ব্যবহার করে পুলিশ প্রতি গাড়ী থেকে মাসিক-সাপ্তাহিক চুক্তির নামে টাকা উত্তোলন করে। আবার কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের হাইওয়ে পুলিশের ওসি মুজিবুর রহমান নিজেই তাঁর ব্যবহৃত সরকারী কার গাড়ী নিয়ে প্রতিদিন কক্সবাজার লিংক রোড় এলাকায় বসে প্রত্যেক অবৈধ জীপ, ডাম্পার, ট্রাক, টেম্পু, সিএনজি, মাইক্রোবাস, সী-লাইন, কক্স-লাইন সার্ভিস, টমটম ও ভটভটি গাড়ী থেকে চুক্তির টাকা উত্তোলন করে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, পুলিশ নিজেরাই এ অবৈধ মোটরযান মালিকদের উৎসাহিত করছেন। যার ফলে প্রতিনিয়ত সড়ক দূর্ঘটনার মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে।
উখিয়া সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহে ১০/১২ জন সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে।
কক্সবাজারের সাথে লিংক রোড় হয়ে উখিয়া-টেকনাফ সড়ক, কলাতলী হয়ে হিমছড়ি, সোনারপাড়া, ইনানী, মনখালী, বাহারছড়া হয়ে উখিয়া-টেকনাফে প্রায় অর্ধশতাধিক উপ-সড়কে কোন রেজিষ্টেশন, রোড় পারমিট ছাড়াই হাজার হাজার অবৈধ মোটরযান এ সড়ক সমূহে চলাচল করছে অবাধে। অভিযোগ উঠেছে, থানা পুলিশ বিআরটিএ ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা টপ টু বটম পর্যন্ত অবৈধ মোটরযান চালাচলের সুযোগ করে দিয়ে তাদের কাছ থেকে অবৈধ ভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পুলিশের বিভিন্ন ডিউটির কাজে অবৈধ ফিটনেস ও লাইসেন্স বিহীন গাড়ী ব্যবহার করা হয়ে থাকে এবং সে সুবাদে মালিক পক্ষ এ অবৈধ গাড়ী চালাতে ব্যাপক উৎসাহিত হয়। গত ১২ জুলাই উখিয়া-টেকনাফ সড়কের থাইংখালী এলাকায় স্কুল গামী ছাত্রী রীনা আক্তার (১১) চান্দের গাড়ীর চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে প্রাণ হারায়। উখিয়া থানা পুলিশ এ অবৈধ চাঁন্দের গাড়ী আটক করলেও পরে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে পুলিশ এ গাড়ী ছেড়ে দেওয়া হয়।
উখিয়া সিএনজি মোটর মালিক সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন খান বলেন, উখিয়া-টেকনাফ সড়কে চলাচলকারী প্রায় ২০ ভাগ গাড়ীর বৈধ কাগজ পত্র থাকলেও ৮০ভাগ যানবাহনের কোন কাগজ নেই।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের পানের ছড়া হাইওয়ে পুলিশের ওসি মুজিবুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ সহানুভূতি না দেখালে চালকেরা কোন ভাবেই গাড়ী চালাতে পারবে না। তবে টোকেন ও অবৈধ চুক্তির ব্যাপারটি এড়িয়ে যান। এ বিষয়ে কক্সবাজার হার্ভার্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র মুনিবুল আলম রাহাত বলেন ড্রাইভারকে ৫শত টাকা দিয়ে হেলপারেরা গাড়ী চালানো শিখে হঠাৎ করে গাড়ী চালাচ্ছে। মোটরযান চলাচল আইনের কোন প্রয়োগ না থাকায় হেলপারেরা এলোমেলো ভাবে গাড়ী চালানোর ফলে সড়ক দূর্ঘটনা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এসব ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোন নজরদারী নেই বললেই চলে। এ ব্যাপারে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী বলে তিনি মনে করেন।
এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে সহকারী পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) ছত্রধর ত্রিপুরা বলেন, অতি শীঘ্রই উখিয়া-টেকনাফ ও রামু উপজেলায় পুলিশ অবৈধ যান চলাচলের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে বলে জানিয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই: