শামসুল আলম শারেক, টেকনাফ ॥
টেকনাফের হ্নীলায় হ্নীলা চেম্বার নাম দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সার্টিফিকেটবিহীন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে নাম সর্বস্ব প্রশিক্ষণ নেয়া গাইনী বিশেষজ্ঞ নামধারী ১ মহিলা ডাক্তারের গলাকাটা বাণিজ্যের শিকার হচ্ছে গর্ভবতী মায়েরা। ভূক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, ওই মহিলা ডাক্তারের কাছে কোন ভাল গরীব মাবনুষের চিকিৎসা নেই। আছে ঐ সমস্ত রোগীদের যারা অবৈধ উপায়ে গর্ভবর্তী হয়ে ঠেকায় পড়ে মোটা অংকের টাকায় গোপনে গর্ভ খালাস করে তাদের। গত ৮/১০ বছর যাবৎ হ্নীলা এসে প্রথমে হোটেল আল-ফয়সালে বর্তমানে হোটেল ডায়মন্ডে একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়ে হ্নীলা চেম্বার সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে গাইনী বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ইত্যাদি ইত্যাদি বিশেষণ লিখে এলাকার নিরীহ সহজ-সরল মানুষদের চিকিৎসার নামে হয়রাণী করছে বলেও অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।
একজন ভূক্তভোগী প্রসব সম্ভাবা রোগীর অভিভাবকের অভিযোগে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে হ্নীলা পূর্ব সিকদার পাড়া এলাকার আবদুল হাবিবের গর্ভবতী স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৩০) কে প্রসব বেদনায় প্রাণ যায় যায়কর অবস্থায় হ্নীলা চেম্বারে নিয়ে যায়। হোটেল ডায়মন্ডের ২য় তলায় ডাক্তারের চেম্বার। ৩য় তলায় বাসা। অথচ ৩য় তলায় ডাক্তার স্মৃতি কণা অবস্থানে থাকার পরও দীর্ঘ ২ ঘন্টা ধরে গর্ভবতী রাবেয়া প্রসব বেদনায় তার চেম্বারে মৃত্যুর শয্যায় কাতরালেও ফিরে দেখেনি। সাথে আসা রাবেয়ার আত্মীয়-স্বজনের অশ্রসজল কান্না দেখে পাশে চেম্বারের পাশে অবস্থানকারী অনেক লোকজন শত চেষ্টা করেও তাকে ৩য় তলাকে নামাতে পারেনি। অবশেষে মৃত্যু শয্যায় কাতরাতে কাতরাতে রাত ৮টার দিক কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে পৌঁছে। রাত ১২টার দিকে জরুরী বিভাগ তাকে অপারেশনের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেলে বাচ্চাটি মৃত্যু অবস্থায় প্রসব হয়।
উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সচেতন মহলের ধারণা গর্ভবর্তী মহিলা রোগী মুমূর্ষ অর্সকতার সহিত দীর্ঘ ৯৮ কিলোমিটার গাড়ী জার্নির কারণে গর্ভের ভিতর বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে রাবেয়া এখনো জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এঘটনায় পার্শ্বে অবস্থানকারী এক ব্যক্তি ডাক্তারের সহযোগী তার এক বন্ধুকে দিদি কাজটা কি ভাল করেছে? এ কথা বলার সাথে সাথে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে ডাক্তার স্মৃতি কণা ও তার সহযোগী লিটন ৩য় তলা থেকে নেমে এসে ওই ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সেন্ডেল ছুঁড়ে মারার জন্য উদ্যত হয়। এক পর্যায়ে সহযোগী লিটন ওই ব্যক্তিকে গলা চেপে ধরে বলে জানা যায়। এদিকে দীর্ঘ দিন স্মৃতি কণার স্বামী ডাঃ অসিত কুমার মন্ডল হ্নীলা মৌলভীবাজারস্থ এফডিএসআর হাসপাতালে ডাক্তারী করার সুবাদে হ্নীলায় চেম্বার গেড়ে বসে। তিনি বর্তমানে সূর্যের হাসি ক্লিনিক, পটিয়া শাখায় কর্মরত আছেন। আর তার স্ত্রী তার সাইন বোর্ড ব্যবহার করে নামে মাত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে গাইনী অবসসহ বিভিন্ন বিশেষণ ব্যবহার করে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা করে গেলেও সংগত কারণে কোন প্রশাসনের নজরে পড়েনি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ডাঃ স্মৃতি কণার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, গর্ভবতী ওই রোগীটি গত ২৪ জুলাই রাতে আমার কাছে এসেছিল। অবস্থা খারাপ দেখে তখনি আমি রেফার দিয়েছিলাম। ২৫ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় পূণরায় আমার কাছে আসলে আমার দ্বারা সম্ভব নয় বলে দেখি নাই।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন