শামসুল আলম শারেক, টেকনাফ ॥
মাত্র ৯ মাস আগে ৫০ হাজার পিচ ইয়াবা নিয়ে ডিবি পুলিশের হাতে আটক ১ মিয়ানমার নাগরিক হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এখন টেকনাফের নতুন ইয়াবা গড-ফাদারে পরিণত হয়েছে। ওই মিয়ানমার নাগরিক পৌর এলাকার ১ প্রভাবশালী নেতার ভাড়াটে বাসায় থেকে আকিয়াবের ইয়াবা কিং চ অং প্রকাশ ছঁইয়ার বন্দরের কাঠের বোট, ক্যাডল করিডোরের গবাধি পশুর ট্রলার ও ট্রানজিটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পাঠানো লক্ষাধিক পিচ ইয়াবা টেকনাফের লামার বাজারের স্বর্ণকারের দোকান ও বিভিন্ন ভাড়াটে বাসায় মওজুদ রেখে সুবিধামত সময়ে প্রতিদিন দেশের অভ্যন্তরে পাচার করছে বলে চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জোর নজরদারী প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র মিয়ানমারের ১ ইয়াবা কিংয়ের বরাত দিয়ে জানান, গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বর থেকে চলতি সালের ফেব্রয়ারী পর্যন্ত সময়ে টেকনাফের বিদ্যমান ইয়াবা গড-ফাদারদের মধ্যে ব্যবসায়িক দ্বন্ধের কারণে কয়েক দফা মোটা অংকের ইয়াবার চালান ধরা পড়লে মিয়ানমার আকিয়াবের ইয়াবা কিং চ অং প্রকাশ ছঁইয়া টেকনাফের জন্য বিশ্বস্ত একান্ত নিজস্ব গড-ফাদারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এরই প্রেক্ষিতে ওই ইয়াবা কিং ইয়াবা ব্যবসায় চতুর, দূর্ধর্ষ অথচ বিনয়ী ও বিশ্বস্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আলোচিত ইয়াবা বাহক মিয়ানমার আকিয়াবের জালিয়া পাড়া গ্রামের পুতন আলীর পুত্র জাকির হোছন (৩০) প্রকাশ বার্মাইয়া জাকিরের সন্ধান পান। জাকির তখন গত বছরের ৭ নভেম্বর কক্সবাজারস্থ বাহার ছরার পাহাড়তলী বৌদ্ধ মন্দিরে ৫০ হাজার পিচ ইয়াবার চালান নিয়ে ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়ে পরে কক্সবাজার থানার ৫৩/১০(কক্স) নাম্বার মামলায় আসামী হয়ে জেলে অন্তরীণ ছিল। ইয়াবা কিং ছঁইয়া নিজে সুযোগমত বাংলাদেশে এসে জাকিরের ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে তিনি তার বাংলাদেশী কন্ট্রাক্টদের হাইকোর্ট থেকে জামিনের ব্যবস্থা করার নিদের্শ দিয়ে মিয়ানমারের ফিরে যান। পরে ইয়াবা কিং ছঁইয়ার বাংলাদেশী কন্ট্রাক্টরা চলতি বছর মার্চের ৬ তারিখ আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে হাইকোর্ট থেকে জাকিরের জামিনের ব্যবস্থা করে। এর ২ দিন পর জাকির জেল থেকে বেরিয়ে টেকনাফে এসে পৌর এলাকার পুরান পল্লান পাড়াস্থ ১ পৌর কমিশনারের ভাড়াটিয়া বাসায় অবস্থান করে।
ওই সূত্র আরো জানায়, মিয়ানমারের ইয়াবা কিং আকিয়াবের চ অং প্রকাশ ছঁইয়া স্থলবন্দরের কাঠের বোট, ক্যাডল করিডোরের গবাদি পশুর ট্রলার, ট্রানজিট ঘাট ও বিভিন্ন মাধ্যমে ইয়াবার চালানগুলো বাংলাদেশে পাঠায়। বাংলাদেশের টেকনাফে ওই ইয়াবার চালানোরগুলো জাকির হোছন গ্রহণ করে প্রথমে টেকনাফ লামার বাজারস্থ স্বর্ণকারের দোকান ও বিভিন্ন ভাড়াতে বাসায় মওজুদ রাখে। পরে সুবিধামত সময়ে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বাহকের মাধ্যমে পাচার করে। এভাবে জাকির টেকনাফের নতুন ইয়াবা গড-ফাদারে পরিণত হয়।
প্রশাসনের নাকে ডগায় একজন মিয়ানমারের নাগরিক খোলামেলা ইয়াবা পাচার করে গেলেও কোন নজরদারী নেই। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জোর নজরদারী প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করেন।
বার্মাইয়া জাকিরের ০১৭৩৯-৩৪৮২৫২ নাম্বারে ফোন করলে সংবাদকর্মী পরিচয় পেয়ে লাইন কেটে দেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন