সরওয়ার আলম শাহীন, উখিয়া
উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে প্রতিদিন পাচার হচ্ছে ভোজ্য তেল। পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে পাচারকারী সিন্ডিকেট আরও তৎপর হয়ে উঠেছে। গত তিন মাসে সীমান্ত এলাকা দিয়ে উখিয়া সদর, টেকনাফ সদর, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং থেকে কমপক্ষে ৯ লাখ লিটার ভোজ্য তেল, পাম অয়েল ও সয়াবিনতেল পাচার হয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন সূত্র থেকে। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ভোজ্য তেল বিক্রয়ের নিয়মনীতি থাকলেও বর্তমানে এর বিধি বিধান মানছেনা তেল ব্যবসায়ীরা। প্রায় ২ শতাধিক মুদি দোকান ব্যবসায়ী জড়িত এ তেল পাচার কাজে।
উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, উখিয়া সদরের, থ্রি ব্রাদার্স, বিশ্বনাথ স্টোর, দেলোয়ার সওদাগর, খোরশেদ সওদাগর, হাজী নুর আহাং টেডার্স, টেকনাফ সদরের, হ্নীলা, হোয়াইক্যং স্টেশনের ব্যবসায়ী মোজাফ্ফর, নূরুল বশর, মোস্তাক জসিম ও কাশেম সহ ২ শতাধিক মুদির দোকানের মালিক প্রতিদিন মিয়ানমারের উখিয়া-টেকনাফের পালংখালী, আনজুমান পাড়া, বালুখালী, থাইংখালী, রহমতের বিল, ঘুমধুম, হ্নীলা, হোয়াইক্যং, শাহপরীর দ্বীপ, দমদমিয়া, কায়ুকখালী, কেরুনতলী, হ্নীলা, মৌলভীবাজার, উলুবনিয়া ও জালিয়া পাড়া সহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে রাতে দিনে ভোজ্য তেল পাচার করছে হাজার হাজার লিটার। গত ৩ মাসে এ সিন্ডিকেট কমপক্ষে ৯ লক্ষাধিক লিটার ভোজ্য তেল পাচার করেছে বলে জানা গেছে। সামনে রমজানের দিন ঘনিয়ে আসায় তেল পাচারকারীর সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তেল পাচার প্রতিরোধ না করা হলে আগামীতে সীমান্ত এলাকায় ভোজ্য তেলের মারাত্মক সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন। সীমান্ত এলাকার জনগণ। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মিয়ানমারে যাতে ভোজ্য তেল পাচার না হয় সে জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করে তেল বাজারে বিক্রি করার বিধান ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পাচারকারীরা ওই বিধি বিধান তোয়াক্কা না করে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে ট্রাক ভর্তি করে ভোজ্য তেল নিয়ে এসে মিয়ানমারে দেদারছে পাচার করছে দিনে রাতে। উখিয়া-টেকনাফের নাম প্রকাশ্যের অনিচ্ছুক ব্যবসায়ী, গত ৩ মাসে ৯ লাখ লিটার ভোজ্য তেল পাচার হয়েছে বলে জানান। কক্সবাজার-টেকনাফ আরকান সড়কে বিডিআর, কাস্টমস্ পুলিশের একাধিক চেকপোস্ট থাকলেও চোরাকারবারীদের সঙ্গে যোগসাজশ থাকায় এক ছটাক ভোজ্য তেল আটকের ঘটনা তাদের খাতায় নেই। মাঝে মধ্যে টেকনাফ ৪২ রাইফেলস্ ব্যাটালিয়নের বিডিআর ভোজ্য তেল মিয়ানমারে পাচারের সময় নাফ নদীর কিনার থেকে উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে। ভোজ্য তেল বিক্রয়ের নিয়মনীতি ও বিধি বিধান সম্পর্কে জানার জন্য উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ বিন ইকরাম, আ,জ,ম নাজিম উদ্দিনের নিকট বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। উখিয়া সার্কেল এএসপি (সার্কেল) ছত্রধর ত্রিপুরা জানান, উখিয়া-টেকনাফ যেহেতু দীর্ঘ সীমান্তবর্তী এলাকা সেহেতু সম্পূর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন