সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

পাহাড়িরা সভ্যতায় ফিরে এসেছে,লাভবানের দিকে ঝুঁকি নিচ্ছে::হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ীদের পাহাড়ের জুম চাষ


শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি 
পাবর্ত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পাহাড়ী জনপদে জুম চাষ পার্বত্য আধিবাসিদের একটি সুপরিচিত নাম।এক সময় পাহাড়ের জনপদের আনাচে-কানাচে এই জুম চাষ বেশী চোখে পরতো।পাহাড়ের ঢালুতে জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে পুড়ে পরিস্কার করে,জুম্মা মরিচ,ধানের চারা ,শসা,মারফা ফল,কাকরল,তিক্তকরল,ভূট্টা,জুম্মা বেগুন,টমেটো,খিরা,বরবটি,ঢেড়ঁস ইত্যাদি খাদ্য-শস্য ও তরি-তরকারী এক সময় ছিল পাহাড়ী ও বাঙ্গালিদের অত্যান- প্রিয় খাবার।আজকাল জুমচাষ আর ‘আগের মতো নেই’ফলন ভালো হয় না,জমি
অপ্রতুল বিভিন্ন ধরনের বাধা আসছে।এ দিয়ে তাদের আর পোষায় না।ধানের যে ফলন হতো,বর্তমানে তার মাত্র এক-চতুর্থাংশের মতো ফলন হয় না।
পাহাড়ী নেতৃবৃন্দ তথা শিক্ষিত-মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধিদের দৃষ্টিভঙ্গীতে জানা যায়,ব্রিটিশ শাসনামলের পর ক্রমান্বয়ে জুমচাষ ছেড়ে আসা পাহাড়ীদের মধ্য থেকে একটি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে উঠেছে।যে শ্রেণির মধ্যে সাধারণভাবে এ দৃষ্টিভঙ্গী প্রতিষ্ঠিত যে জুমচাষ আদিম ও পরিত্যাজ্য।
          বিশিষ্ট পাহাড়ী লেখক-গবেষক সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরার একটি গ্রনে' থেকে জানা যায়,উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে বৃট্রিশ সরকার পার্বত্যচট্টগ্রাম অঞ্চলে চাকমাসহ সকল উপজাতিকে  ক্ষতিকর জুমচাষ ত্যাগ করে হালচাষ করে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার জন্য উৎসাহিত করেন।   
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়ি ইউনিয়নের কুরিখং চাক্‌ পাড়ায় গিয়ে ৬০ বছরের বয়স্ক একজন জুমিয়া জানান,জুমচাষ তাঁরা করতে চান না,কিন' না চাইলেও করতে হয়।তিনি আরো জানান,আগে(তিনি যখন ছোট ছিলেন)ধানের যে ফলন হতো,বর্তমানে তার মাত্র এক-চতুর্থাংশের মতো ফলন হয় না।
একি এলাকার উপজাতিয় নেতা ও কারবারী বাবু ক্যাউহ্লাচিং চাক্‌ জানান,আমাদের চাক্‌ জাতি বাংলাদেশের এক মাত্র নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন।এ জাতির সভ্যতা ও শিক্ষার হার অতি নগণ্য ছিল। বর্তমান শিক্ষার হার ৪৬% এর অধিক।সভ্যতাও ফিরে এসেছে সবার।আগেকার দিনে এই পাড়ার সব পরিবারই জুমচাষ করলেও ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাইব্রিটের বীজ বোপন করে হরেক জাতের ফল (কলা,পেঁপে,কমলা,আনারস,আম,নাসপতি ইত্যাদি)বাগান করেই অনেকের জন্য অর্থনৈতিক ভাবে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
          উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মন্নান জুমিয়াদের ব্যাপারে জানান,আমি ১৯৮৬ সালে এই নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় কর্মরত দায়েত্বে ছিলাম,পরে অন্যত্রে বদলি হয়। ২০১১ সালে পুণঃরায় এ উপজেলায় দায়িত্ব নিয়ে এসে সরজমিনে দেখা যায়,জুমিয়াদের
মাঝে অনেক পরির্বতন এসেছে।জুমচাষের পরিবর্তনশীল গতি-প্রকৃতির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে,পাহাড়ীদের মধ্যে এখনো যারা জুমচাষ করে,অর্থনৈতিকভাবে তাদের প্রায় কেউই আর শুধুমাত্র জুমচাষের উপর নির্ভর করতে পারছে না।বেশী লাভবান চাষে ঝুঁকি হয়ে পড়েছে এলাকা জুড়ে।

কোন মন্তব্য নেই: