সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

গণপ্রতিনিধিত্ব নেই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে

মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম থেকে
 গণপ্রতিনিধিত্ব নেই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে। বছরের পর বছর ধরে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত সদস্যদের দিয়েই রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যক্রম। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনের বিধান থাকলেও তা এখন আইনী গ্যাড়াকলে। যে সরকার ক্ষমতায় আসে সে সরকারের মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়ে চালানো হচ্ছে পরিষদ কার্যক্রম। ফলে সরকারী দলের পুনর্বসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এ তিন পরিষদ। এখানে নেই এখন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে তৎকালীন প্রেসিডেণ্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকার তিন পার্বত্য জেলায় ‘স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন’ প্রর্বতন করা হয়। রাঙামাটি বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এ তিন পার্বত্য জেলাকে নিয়ে ১৯৮৯ সালে ২৫ জুন তিনটি পৃথক স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠন করা হয়। তিনটি স্থানীয় সরকার পরিষদে জেলার জনসংখ্যানুপাতিক হারে গোত্রভিত্তিক আসন বণ্টন করা হয়েছিল। পরে নির্বাচনের মাধ্যমে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার পরিষদে প্রতিনিধিগণ নির্বাচিত হন। প্রতি তিন বছর পর পর নির্বাচনের মাধ্যমে পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচনের বিধান রাখা হলেও এখন তা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। সরকার পরিবর্তনের হলে পরিবর্তন ঘটে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতেও। দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে সরকার পরিবর্তন হয়। যে সরকার ক্ষমতায় আসে তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের দিয়ে বসানো হয় তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে। ১ জন চেয়ারম্যান ও ৪ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হয় এ পরিষদ। এঁরা ক্ষমতাসীন দলের নেতা।
অতীতে অনূকুল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে নির্বাচন আয়োজন করা হয়নি। পর্বত্য জেলা পরিষদ সমুহে প্রথম দফা নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিগণের মেয়াদ শেষ হবার পর থেকে সব সময় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের দিয়ে চলছে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ। যার ফলে ফ্যাক্স বার্তায় পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে পরিবর্তন হয়েছে বহুবার। ক্ষমতাসীন দলের আশির্বাদপুষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে পরিষদের কার্যক্রম চালানোর ফলে সাধারণ ব্যক্তিবিশেষের মূল্যায়ন আসেনা এখানে এমন অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের।
পার্বত্য এলাকায় তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। পার্বত্য জেলাগুলো উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে প্রতি বছর প্রকল্প গ্রহণে অর্থ বরাদ্ধ দিয়ে থাকে। যা দিয়ে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামগ্রিকভাবে পার্বত্যাঞ্চলের দারিদ্র জনগোষ্ঠী ভাগ্যোন্নয়নে আমূল পরিবর্তন আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু প্রতিটি সরকারের আমলে দলীয় করণের আবর্তে পার্বত্যবাসীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পার্বত্য জেলা পরিষদ কতটুকু ভূমিকা রাখতে পেরেছে তা এখন মূল্যায়নের সময় এসেছে। জেলা পরিষদের অধীন রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সরকারী সংস্থায় লোক নিয়োগের ক্ষমতাও পরিষদের রয়েছে। যার ফলে সরকারী প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগকালে সরকার দলীয় লোকদের একছত্র আধিপত্য থাকে। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নানা সুযোগ সুবিধা পায় রাজনৈতিক দলের নেতা ও পরিষদ সদস্যদের নিকট আত্মীয়-স্বজন। তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বার প্রতিনিধি না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে তারা চাকরিসহ নানা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর মনোনীত সদস্যদের দিয়ে যদি পরিষদগুলো এভাবে বছরের পর বছর চালানো হয় তাহলে ক্ষুদ্র জাতিস্বত্তাগুলো মূল জনস্রোত থেকে পিছিয়ে যাবে অনেক দূর।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে পরিবর্তন আসে। অনরুপ রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে এসব পরিষদেও চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ পরিবর্তন হন।  উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে পার্বত্য শান্তি চুক্তি হয়। এ চুক্তির অনূবলে স্থানীয় সরকার পরিষদ আইনের ৫১ও ৫২ ধারা পরিবর্তন করে স্থানীয় সরকার পরিষদ স্থলে পার্বত্য জেলা পরিষদ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এবং ৩১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা পরিষদকে ভেঙে ৫ সদস্যের একটি অর্ন্তবতীকালীন পরিষদ গঠন করা হয়। মূলত: সে থেকে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব শুরু হয়। ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক বিবেচনায় মনোনীত হন চেয়াম্যান ও সদস্যরা। এ পর্যন্ত যতবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে ততবার তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে পরিবর্তন আসে। সে ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও দলীয় অনুগত ব্যক্তিদের দিয়ে অন্তর্বতীকালীন পরিষদ গঠন করে জেলা পরিষদে কাজ চালাচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই: