|
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমকক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে।
রোববার থেকে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে বর্তমানে বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য ও খাবার পানির সঙ্কট চলছে।
এতে ছড়িয়ে পড়ছে ডায়রিয়া,
কলেরা, আমাশয়সহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ। এ পর্যন্ত বন্যায় ৩ শিশুসহ ৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্গত এলাকায় প্রশাসন ও ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, প্রায় ৪০ হাজার পরিবার এ বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে বন্যার পানির স্রোতে বিধ্বস্ত হয়ে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি, রশিদনগর-ধলিরছড়া, চেইন্দা-রাজারকুল, ঈদগাঁহ-ঈদগড়, কক্সবাজার-টেকনাফ, চকরিয়া-কাকারা, চকরিয়া-বদরখালী, চকরিয়া-লামা সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কাজল কান্তি বড়ুয়া বাংলানিউজকে জানান, বন্যার কারণে ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়সহ পানি জাতীয় রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। তবে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এ রকম পরিস্থিতি মোকাবেলায় বন্যাকবলিত ৩০টি ইউনিয়নে ১১৩টি মেডিকেল টিম একযোগে কাজ করছে বলে তিনি তথ্য দেন।
বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, মেট্রোনিডাজল ও জিংক জাতীয় ট্যাবলেট বিতরণ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও নিরাপদ খাবার পানির জার বিতরণ করা হয়। রোববার থেকে হাইজিংক কীট বিতরণ এবং বন্যাকবলিত এলাকায় টিউবওয়েল জীবাণুমুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে।
জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের ত্রাণ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ হাজার পরিবারেরর জন্য রোববার পর্যন্ত ২ লাখ ৮৬ মেট্রিক টন চাল, শুকনো খাবারের জন্য ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা, সাড়ে ৪ হাজার কেজি চিড়া, ৭৫০ কেটি বুট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বন্যায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলছে। সোমবার বিকেল ৩টা নাগাদ এ সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীসহ কয়েকটি খাল ও ছড়ায় পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার ৩০টি ইউনিয়নে লাখ লাখ মানুষ ৭ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে পড়েন। a

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন