|
সী নেটিং ব্যবস্থা না থাকার কারনে পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। সী-নেটিং ব্যবস্থা না থাকার ফলে প্রাণ হারাতে হচ্ছে অনেক পর্যটককে। অবশ্যই মাঝে মধ্যে মুমুর্ষ অবস্থায় কয়েকজনকে উদ্ধার করা যায়। গত এক সপ্তাহে ১২ জন পর্যটককে মুর্মুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও এক পর্যটকের সলিল সমাধি ঘটে। কিন্তু এর পরও কোন ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে পর্যটন শিল্পের জন্য কাল দাঁড়াবে বলে আশংকা করছেন বিশেযজ্ঞরা।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে প্রতিদিন শত শত দেশী-বিদেশী পর্যটক ভ্রমণে আসে। ভ্রমণে এসে পর্যটকরা বিভিন্ন পর্যটন স্পট বেড়ানোর পাশাপাশি মেতে উঠে সমুদ্র স্নানে। কিন্তু পর্যটকদের গোসল তথা স্নান করার জন্য কোন প্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আদৌ করা হয়নি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় গোসল করতে গিয়ে পর্যটকরা সমুদ্র সৈকতের গুপ্ত খাল তথা চোরাবালিতে আটকা পড়ে অনেক সময় প্রাণ হারায়, আবার অনেক সময় উদ্ধার হয় মুর্মুর্ষ অবস্থায়। সমুদ্র সৈকতে রয়েছে প্রায় ৮/১০টি পয়েন্ট। সব পয়েন্টেই কম-বেশী গোসল করে থাকে পর্যটকরা। তবে বেশীর ভাগেই করে লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা, ডায়বেটিক হাসপাতাল, শৈবাল, সী-ইন, সী-গাল পয়েন্টে গোসল করে থাকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যুগ যুগ ধরে পর্যটকদের সাগরে গোসল করার সময় উদ্ধারকারী হিসেবে সরকারী কোন সংস্থা এখনো নিয়োজিত করা হয়নি। তবে বেসরকারী উদ্ধারকারী সংস্থা ইয়াসির লাইফ গার্ড ও রবিসহ কয়েকটি সংস্থার সদস্যরা দিন-রাত পর্যটকদের সেবার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। উলে¬খ্য, উক্ত উদ্ধারকারী দল গত এক মাসে সাগরে গোসল করতে গিয়ে স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া অর্ধশত পর্যটককে মুর্মুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করেছে। এদিকে চলতি বর্ষায় জোয়ার ভাটার পানির স্রোতে সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রচুর গুপ্ত খালের সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের সময় পর্যটকদের গোসল করতে নামলেই এসব গুপ্ত খালে পড়ে এবং স্রোতের টানে হাবুডুবু খেয়ে অনেকেই ডুবে যায়। সর্বশেষ ২২ জুলাই গোসল করতে নেমে সমুদ্রে ভেসে যায় ঢাকা নেভী কলেজের ৫ ছাত্র। তাৎক্ষনিক উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে লাবনী পয়েন্ট থেকে ৪ ছাত্রকে মুর্মুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে রবি লাইফ গার্ডের সদস্যরা। তবে ১ ছাত্রের মৃত দেহ উদ্ধার করা হয় ২৫ জুলাই মহেশখালী চ্যানেল থেকে।
সরকারী কোন উদ্ধারকারী দল না থাকায় অনেক সময় নানা সীমাবদ্ধতা ও সমস্যার মধ্যে দিয়ে উদ্ধার করতে যেতে পারেনা বেসরকারী উদ্ধার কারী দলের সদস্যরা। এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেশের প্রথম ট্যুরিষ্ট পুলিশের। কিন্তু এরপরও জনবলসহ নানা সমস্যার কারনে পর্যটকদের পর্যাপ্ত সার্ভিস দিতে পারছেন না দেশের প্রথম এই বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীরা পর্যটকদের গোসলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সী নেটিং ব্যবস্থা চালুর দাবী জানিয়েছেন।
এদিকে পুলিশ সুপার সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ট্যুরিষ্ট পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তিনি পর্যটকরা যাতে গোসল করার সময় বিভিন্ন দিক নির্দেশনা মেনে চলে সেজন্য অত্যাধুনিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন