সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

 ‘এই রইম্যা বইন্যা জীবনত ন দেহি’

প্রথম আলো
ভারী বর্ষণ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, কক্সবাজার সদর, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার ৬০টির বেশি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রামের প্রায় ছয় লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এই পর্যন্ত বন্যার পানিতে ভেসে রামু, সদর ও উখিয়ায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ টি এম শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ইউনিয়নের গোদারপাড়, সুতাচুরা, পেকুয়ারচর, রূপালী বাজার, মধ্যম উজানটিয়া, টেকপাড়া ও করিয়ারদিয়ার তিন

শতাধিক ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে ডুবে রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান জানান, বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে স্থানীয় পশ্চিমপাড়া, দক্ষিণপাড়া, জালিয়াপাড়াসহ ১২টি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। এসব গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সময় পার করছেন।
সরেজমিনে সদর উপজেলার ঝিলংজা, লিংকরোড, মুহুরীপাড়া, বিসিক এলাকা, বাংলাবাজার, খুরুলিয়া, কলঘর, তেচ্ছিরপুল, রামু উপজেলার চেইন্দা, ফতেখাঁরকুল, লামারপাড়া, চৌমুহনীসহ অন্তত ৪০টির বেশি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে ভয়াবহ অবস্থা। কক্সবাজার সদর উপজেলার বাংলাবাজার গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক নাজির হোসেন (৬৩) বলেন, ‘এই রইম্যা বইন্যা জীবনত আর ন দেহি। পাঁচ দিন ধরি এই ঘর পানির নিচত ডুবি রইয়ে। এত পানি হত্তুন আইয়ের বুজিত ন পারির।’ (এমন বন্যা জীবনে দেখিনি, পাঁচ দিন ধরে ঘর পানির নিচে ডুবে রয়েছে। এত পানি কোত্থেকে আসছে বুঝতে পারছি না।)
বিনোদন পার্ক মরণফাঁদ
রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম চৌধুরী জানান, টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়কের চেইন্দা এলাকায় আড়াই শতাধিক একরের তিনফসলি ধানি জমি ভরাট করে তিন মাস ধরে ঢাকার একটি প্রভাবশালী মহল নির্মাণ করছে একটি বিনোদন পার্ক। এ কারণে বন্যার পানি আটকা পড়ে আশপাশের ২০টির বেশি গ্রামের ৩০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে ২০ জুলাই পার্কের দক্ষিণ পাশের সড়কে একটি কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। সড়কের পাশে শত বছরের পুরোনো পানি চলাচলের খালটি দখল ও ভরাট করায় বন্যার পানি দ্রুত সাগরে নেমে যেতে পারছে না।
খয়রাত নয়, বেড়িবাঁধ চাই
বন্যাকবলিত জেলার লাখো মানুষের দাবি, খয়রাত নয়, বেড়িবাঁধ চাই। পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া এলাকার দিনমজুর আবদুল গনী (৪৪), মমতাজ আহমদ (৩৫) ও গৃহবধূ করিমা বেগম (৩০) বলেন, ‘এক কেজি শুকনো চিড়া আর একমুঠো গুড় দিয়ে কী হবে? খয়রাতির এসব খাবার নয়, আমরা বেড়িবাঁধ চাই। জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ ভেঙে আমাদের বসতবাড়ি বিলীন হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে খেতের ফসল, ঘেরের মাছ ও খামারের হাঁস-মুরগি।’
উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ টি এম শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বেড়িবাঁধের কারণেই বসতবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে। তাই বেড়িবাঁধ সংস্কারই প্রথম দরকার। জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৮০টির বেশি অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৮ কিলোমিটার ভাঙা বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়েছে পাঁচ কিলোমিটার। আর আংশিক বেড়িবাঁধ রয়েছে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঈনুদ্দিন জানান, বর্ষায় এই সময়ে ভাঙা বাঁধগুলো মেরামত করা সম্ভব নয়। কারণ, এ সময় সাগর উত্তাল থাকে। আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে এসব ভাঙা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই: