|
মোঃ নুরুল করিম আরমান, লামা :
বান্দরবানের লামায় টানা চার দিনের প্রবল বর্ষণে পাহাড়ী ঢলের সৃষ্ট বন্যায় আবারও লামা পৌর এলাকাসহ ৭ ইউনিয়নের নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত রোববার থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি ও পাহড়ী ঢল বৃহস্পতিবারও অপরিবর্তিত ছিল। ফলে পাহাড়ী ঝিরি, খাল ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে গৃহবন্দি মানুষের সংখ্যা ১৫ হাজার এ উন্নীত হয়। এছাড়া পাহাড় ধসে পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ২০টির মত বসতঘর বিধস্ত, স্কুল ছাত্রী আহতসহ
আবারও উপজেলা সদরের সাথে বহিঃ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে ও মাটি চাপা পড়ে বীজতলা এবং বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। জানা গেছে, গত চার দিন ধরে লাগাতার ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ঝিরি, খাল ও মাতামুহুরী নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন করে নদীর দু কুলসহ লামা পৌর এলাকার নয়াপাড়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাস ভবন, অফিসার্স কোয়ার্টার, চেয়ারম্যান পাড়া, টিএন্ডটি পাড়া, থানা, বাস স্ট্যান্ড, ছোট নুনারবিল পাড়া, লামা বাজারের মাছ ও পান বাজার, লামামুখ বাজার, ছাগল খাইয়া, হরিণঝিরি, শীলেরতুয়া, লামা সদর ইউনিয়নের মেউলারচর, অংহ্লাপাড়া ও ফাঁসিয়াখালীর ইয়াংছা বাজার এলাকা, ফাইতং ইউনিয়নের সুতাবাদি, হেডম্যান পাড়া ও ধুইল্যাছড়ি, আজিজনগরের তেলুনিয়া, বাছুরি, হিমছড়ি, চিউনী ও কাট্টলিয়া ঝিরি এলাকা প্লাবিত হয়। পানির নিচে তলিয়ে যায় এসব এলাকার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ী, অফিস আদালতসহ প্রায় ৫শ একর আউশ ও মৌসুমি ফসল। পানি বন্দী হয়ে পড়ে পৌর এলাকাসহ উপজেলার সাত ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। ফাঁসিয়াখালীর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাকের হোসেন মজুমদার জানান, বৃহস্পতিবার সকালে লামা-ফাঁসিয়াখালী-আলীকদম, লামা-রূপসীপাড়া, লামা-সুযালক, লামা-আলীকদম ইয়াংছা বনপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধ্বসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার সাথে বহিঃ উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে। এদিকে, ঢলের পানি বেড়ে যাওয়ায় পৌর এলাকাসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। লামা পৌর কাউন্সিলর আলী আহমদ জানান, গত মঙ্গলবার প্রবল বর্ষণে রাজবাড়ী এলাকায় পাহাড় ধসে মহিমা বেগমের মাটির ঘর সম্পূর্ণ বিধস্ত হয়। দেলোয়ার হোসেনের ঘরে পাহাড় ধসে পড়ে স্কুল পড়য়া মেয়ে শারমিন আক্তার আহত এবং পার্শ্ববর্তী আমির হোসেনের ঘরটি পাহাড় ধসে পড়ে সম্পূর্ণ বিধস্ত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি রয়েছে। এ পানি বৃদ্ধি পেয়ে যে কোন মুহুর্তে বিপদ সীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সূত্রটি আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এবং ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নাজমূল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, আজিজনগর গজালিয়া সড়কের কাটা পাহাড় ন্মাক স্থানে পাহাড় ধসে পড়ায় আজিজনগরের সাথে চিউনি এবং চিউরতলী এলাকার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া ইয়াংছা বনফুল সড়কের বড় পাড়া এবং ৬ মাইল নামক স্থানে পাহাড় ধ্বসে যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। লামা- সুয়ালক সড়কের জীপ মালিক সমিতির লাইনম্যান আবু দাউদ জানিয়েছেন, অতি বৃষ্টির ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনসহ বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সড়ক সংলগ্ন একাধিক পাহাড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোন মুহুর্তে সড়ক ভেঙে পড়ে এবং পাহাড় ধ্বসে এ সড়কে উপজেলা সদরের সাথে গজালিয়া ও সরই ইউনিয়নের আন্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। লামা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রতন কান্তি দাশ জানান, গত চার দিনের প্রবল বর্ষণে আউশ ও মৌমুমি ফসল পাহাড়ী ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা নিরুপন করা সম্ভব হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন