সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

পাহাড়ী এলাকা ঈদগড় ও বাইশারীতে ছন চাষ বিলুপ্তির পথে

মোঃ রেজাউল করিম॥
সবুজ সুন্দর পল্লীর বুকে ধূসর রঙের ছাউনি দেওয়া ঘর এখন আর তেমন চোখে পড়েনা। পল্লী এলাকা গুলোতে বেড়েছে কম দামী ডেউটিন ব্যবহার। চাহিদা কমে যাওয়ায় পাহাড়ী এলাকা ঈদগড় ও পাবর্ত্য বাইশারীতে আর আগের মতো ছন চাষ করছেন না চাষীরা। তাই বিলুপ্তির পথে ঘর ছাউনির জনপ্রিয় উপকরণ ছন। দীর্ঘদিন ধরে ছনের চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন ঈদগড় এলাকার মমতাজ মিয়া (৫৫)। তিনি জানান, বাংলা বর্ষের আশ্বিন থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত ছন আহরণ করা হয়। বর্তমানে বাজারে ছনের চাহিদা তেমন নেই। ফলে ভার প্রতি (দুই বোঝা) ছন মাত্র ২৫০ টাকায় বিক্রি করতে হয়। বর্ষা মৌসুম আসার আগেই ছনের চাহিদা কিছুটা বেড়ে যায়। চৈত্র মাসে ভারপ্রতি বিক্রি হয় সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা। মমতাজ মিয়া আরো জানান,ছন চাষে তেমন পরিশ্রম নেই শুধু পাহাড়ের যে অংশে চাষ করা হবে তা পরিস্কার করে দিলেই হয়। কিছুদিন পর প্রাকৃতিক ভাবেই ছনের কুড়ি জন্মে। এর পর দেড় দুই হাত লম্বা হলে আগাছা পরিস্কার করে একবার ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হয়। আর ৬/৭ফুট লম্বা হলে কাটার উপযুক্ত হয়। ছন আহরনের পর পর্যাপ্ত রোধে ১৫/২০ দিন শুকিয়ে নিতে হয়। এর পরই তা ব্যবহার উপযোগী হয়। পাহাড়ে বড় গাছ থাকলে ছনের বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। উৎপাদন ও হ্রাস পায়। ছন বিক্রেতা আবুল হাসেম জানান,টিনের চালা প্রচন্ড তাপ ছড়ায়। কিন্তু ছনের চালা তাপ সুষে নিতে পারে। ফলে তুলনামুলক ভাবে ছনের চালার ঘর ঠান্ডা থাকে। তবে ছন মাত্র এক বছর ব্যবহার করা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল আলম জানান,প্রতিবছর ক্রয় ও চাল মেরামতে শ্রমিকের পেছনে যে অর্থ ব্যায় হয় তা দিয়ে দুই বছর পর ঘরে ডেউটিন লাগানো যায়। তাই কিনের ব্যবহার বাড়ছে। এলাকার এক ইউপি সদস্য জানান,পাহাড়ী এলাকায় ছনের উৎপাদন ও ব্যবহার কমে যাওয়ায় এইটি এখন বিলুপ্তির পথে। বছর বছর ছন ক্রয় চালা মেরামতের পেছনে অর্থ ব্যয় না করে সবাই কমদামী ডেউটিন ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

কোন মন্তব্য নেই: