|
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, আলীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করে দেশের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্তে লিপ্ত। আলীগ এদেশে মক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাজ করছে । তিনি বলেন, বিএসএফ কর্তৃক পাখিরমত বাংলাদেশের মানুষ হত্যার জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে, বাকশাল কায়েম করতে নয়। তিনি বলেন, সীমান্তে নিরীহ জনগণকে হত্যার জন্য এ সরকারের কোন কার্যকরী প্রতিবাদ নেই। আলীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ভূলুণ্ঠিত হয় এবং ইসলাম ও মুসলিম উম্মার চেতনা ও বিশ্বাসের মূলে আঘাত করা হয়। তিনি বলেন, সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস বাদ , মুসলিম িবশ্বের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন এবং বিসমিল্লাহর অর্থ বিকৃতির মাধ্যমে আলীগের ইসলাম বিরোধী চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। আলীগ জনগণের রায়কে ভয় পায় বলেই কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে। জামায়াত নেতা বলেন, এক সময় জামায়াত ইসলামীকে সাথে নিয়ে আলীগ কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতির জন্য আন্দোলন করেছিল, আর এখন গায়ের জোরে যেনতেন পন্থায় ক্ষমতায় আসতে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। কাজেই সরকারের ইসলাম ও গণতন্ত্র বিরোধী অবস্থান পরিবর্তন না করা পর্যন্ত জনগণের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। জনাব শাহজাহান গতকাল কেন্দ্রীয় কর্মসুচীর আলোকে কেয়ারটেকার পদ্ধতি পূন:বহাল, হরতালে বাধাদান ও নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত শহর জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। শহর আমীর অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরীর সভাপতিত্বে হাসপাতাল সড়কস্থ কার্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য প্রবীণ আইনজীবি এড. ছালামতুল্লাহ, জেলা সেক্রেটারি জিএম রহিমুল্লাহ, জেলা শুরা সদস্য মাওলানা আবুদল গফুর জেলা প্রচার সেক্রেটারি আবুহেনা মোস্তফা কামাল, শ্রমিক কল্যাণ জেলা সভাপতি মাওলানা মু. আলমগীর, শহর নায়েবে আমীর এড. জাফর উল্লাহ ইসলামাবাদী, শহর সেক্রেটারী সাইদুল আলম , সহ-সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলাম, জামায়াত নেতা জালাল আহমদ, কফিল উদ্দিন চৌধুরী, ছাত্রনেতা মাহফুজুল করিম সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। জনাব শাহজাহান আরো বলেন, আলীগ গনতন্ত্রকে হত্যা করে দেশে একদলীয় শাসন তৈরী করার জন্যে কেয়ারটেকার পদ্ধতি বাতিল করেছে। দেশবাসী তাদের ষড়যত্র বাস্তবায়ন হতে দেবেনা। তিনি বলেন হরতালে পুলিশ ও দলীয় ক্যাডার দিয়ে বাধা প্রদান করা সত্ত্বেও জনগণ হরতালে সাড়া দিয়ে আলীগকে প্রত্যাখান করেছে। সরকার এখন পুলিশ দিয়ে বিরোধী দলকে দমন করতে চায়। তারা এখন পুলিশ ও আদালত নির্ভর হয়ে গেছে। আদালতকে রাস্তায় নামিয়ে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে স্বৈরচার আলীগের দু:স্বপ্ন পূরণ হবেনা। তিনি বলেন, দেশে দ্রব্যমূল্যের চরম উর্দ্ধগতি, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে সরকার জনদূর্ভোগ বাড়িয়েছে। জনগণকে দূর্ভোগ ছাড়া আলীগ কিছুই দিতে পারেনি। জনবিচ্ছিন্ন এ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই । জনাব শাহজাহান বলেন, জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে কারাগারে রেখে সরকার মানবাধিকার লংঘন করেছে। শীর্ষনেতৃবৃন্দকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে, জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। তিনি কক্সবাজারে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান এবং ঈমান রক্ষার দাবিতে ১২ ইসলামী দল আহুত ৩০ ঘন্টার হরতাল সফল করার জন্য জেলাবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।
চকরিয়া : একই দাবিতে চকরিয়া পৌরসভা আমীর আকতার আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উত্তর আমীর মাস্টার রফিক উদ্দিন আহমেদ, দক্ষিন আমীর মু. হেদায়ত উল্লাহ, জামায়াত নেতা মাও. ছাবের আহমদ, মাও. মোজাম্মেল হক, আরিফুল কাবির, মাও. জামাল হোছাইন, সৈয়দ মু. রাসেল ও হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মু. বাবরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
টেকনাফ : একই দাবিতে টেকনাফ উপজেলা আমীর অধ্যক্ষ নুর হোছাইন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, জামায়াত নেতা ফরিদুল আলম, কামাল হোছাইন্ সও., কামাল আহমদ কোং, শিবিরনেতা ইবরাহীম মাহমুদ প্রমুখ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন