নাইক্ষ্যংছড়ি-চাকঢালা সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ৫টি সেতু আর কতদিন এ ভাবে পড়ে থাকবে?
ইব্রাহীম খলিল,নাইক্ষ্যংছড়ি
পাবর্ত্য বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের ৮ কিলোমিটার রাস্তার ভিতরে ৫ টি সেতু পুনঃর্নির্মাণের অভাবে জনদুর্ভোগ চরমে পৌছেচে।জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ এর রশি টানা টানির কারনে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হতে চাক্ঢালার বিজিবি বিওপি ক্যাম্প পযর্ন্ত ৮ কিলোমিটার এর মধ্যে ৫ টি সেতু ঝুকিপূর্ণ থাকায় খালের উভয় পাড়ের বাসিন্দাসহ এলাকাবাসীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর এলাকার দক্ষিণ দিয়ে বয়ে যাওয়া নাইক্ষ্যংছড়ি খালের দু-পাড়ের বাসিন্দাদের ওই সেতু গুলোর অভাবে ৮ কিলোমিটার পথ প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুকি নিয়ে যানবাহন দিয়ে এপার থেকে ওপার যাতায়ত করতে হচ্ছে।জানা যায়,এলাকার বিশিষ্ট কাঠ ব্যবসায়ীদের অর্থায়নে এবং এলাকাবাসীদের নিজ উদ্যোগে নির্মিত দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ কাঠের তৈরি সেতু গুলো ভেঙেঁ পড়ার উপক্রম হয়েছে। চাক্ঢালার বিজিবি ক্যাম্প এর দক্ষিণে সীমান্তের ৪৭ নং পিলার এর অবস্থান, যে কোন মূর্হুতে সীমান্তে উত্তেজনা হলে এ ৫ টি জরাজীর্ণ সেতুর উপর দিয়ে পরিবহণ নিয়ে যাতায়ত করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আজো ঝুকিপূর্ণই রয়ে গেছে নাইক্ষ্যংছড়ি হতে চাক্ঢালা সড়কের ৫টি সেতু। এ সবকটি সেতু অকেজো ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এই সড়কে চরম ঝুঁকির মধ্যে চলছে যানবাহন। চাক্ঢালার বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ সিরাজুল হক জানান,উপজেলা সদর থেকে চাকঢালা যাতায়তের একমাত্র মাধ্যম এ সড়কটি । এই সড়কে ৫ টি সেতু সবচেয়ে বেশী ঝুকিপূর্ণ, এগুলো হল -নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হতে দক্ষিণে বিছামারা সেতু, মংছাথোয়াই হেডম্যান পাড়া সেতু, খালেদা বাপের পাড়া ও মধ্যম চাক্পাড়া সেতু, ছালামী পাড়া সেতু, ম্রাথুয়াই চাক্ কারবারী পাড়া সেতু। সেতু গুলো পাকা রাস্তার চেয়ে বেশী সরু হওয়ায় একটি জীপ গাড়ী পার হওয়ার সময় অপর দিকে আরেকটি রিক্সা অথবা সিএন জি অপেক্ষায় থাকতে হয়। তাছাড়া সেতু গুলো প্রশস্তা কম হওয়ায় গাড়ি চলাচল করে খুব ঝুকির মধ্য দিয়ে। সেতু গুলোর এই রুগ্ন দশার কারণেই বিলাসবহুল কোনো বাস উপজেলা সদর থেকে চাক্ঢালা আসা যাওয়া করতে পারে না। ফলে এখানকার হাজার হাজার যাত্রীরা যানবাহনের সমস্যায় ভুগছে।
উত্তর চাক্ঢালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু খাইচিং অং চাক্ জানান, নাইক্ষ্যংছড়ির প্রধান সড়কের সেতু গুলোর এই রুগ্ন দশার কারণে স্কুলের অনেক ছাত্র-ছাত্রী বিভিন্ন সময় ব্রিজ থেকে পড়ে যাওয়ার আশংকায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
আমলাতানিএক জটিলতায় পড়ে সেতু গুলো পূনর্নির্মাণের ভাগ্য ঝুলে থাকবে কিনা এ ব্যাপারে বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য কাজী মুজিবর রহমান জানান, সেতু গুলো সংস্কার করার জন্য এল,জি,ই,ডি (উপজেলা প্রকৌশলী) ও জেলাপরিষদ প্রকৌশল অধিদপ্তর কে সমন্বয় করে আলাপ হচ্ছে। খুব শিগগিরই সেতু গুলো পুনঃসংস্কার কাজ শুরু করা হবে।সংস্কারকাজে যেন অনিয়ম না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখা হবে।নাইক্ষ্যংছড়ি হতে সীমান্তবর্তী চাক্ঢালা এলাকার প্রায় ৮ কিলোমিটার এর সড়কটি ২৪ ফুট প্রশস্তা করাসহ এবং ৫ টি জরাজীর্ণ সেতু মেরামত করে অচিরেই নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাবাসীর সড়ক ও সেতু গুলো যোগাযোগ আরো সহজসাধ্য এবং নিরাপদ করা হবে এমনটাই প্রত্যাশা উপজেলাবাসীর।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন