মোঃ নুরুল করিম আরমান, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে আগামী ৮ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনকে ঘিরে চলছে নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক প্রস্তুতী। প্রার্থীরাও যার যার বিজয় নিশ্চিতের ফন্দি ফিকিরে মহাব্যস্ত। নির্বাচনে সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীরা বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র নিয়ে আতংকিত। এসব ভোট কেন্দ্রে এলাকার সাধারণ ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন। সরকার দলীয় প্রার্থী ও সমর্থকরা ভোট কেড়ে নিতে পারে বলে
অভিযোগ করেছেন সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীরা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীরা এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলোতে নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্র্যাব মোতায়েনের দাবী তুলেছেন। জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে সর্বমোট ৬৪টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। তম্মধ্যে ১৮টি অতিঝুঁকিপূর্ণ, ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৮টি সাধারণ বলে চিহ্নিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। যদিও পুলিশী ভাষায় এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলোকে অতিগুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ হিসেবে বলা হচ্ছে। অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলো হলো- গজালিয়া ইউনিয়নের আকিরামপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গজালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। লামা ইউনিয়নের মেরাখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হ্লাচাই পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফাঁসিয়াখালী কমিউনিটি সেন্টার কেন্দ্র। আজিনগর ইউনিয়নের ২নং চাম্বি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চাম্বি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি জুনিয়র হাই স্কুল, সরই ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, ডলুছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আন্দারী জামালপুর রেজি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। রূপসীপাড়া ইউনিয়নের দরদরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দরদরী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রূপসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং ফাইতং ইউনিয়নের থানহ্লাই পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফাইতং নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফাইতং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলোর মধ্যে গজালিয়া ইউনিয়নের বোচাপাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, গজালিয়া মোহাম্মদ পাড়া এবতেদায়ী মাদ্রাসা, রেমং মেম্বারপাড়া কমিউনিটি সেরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বড় বমু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। লামা ইউনিয়নের মেউলারচর রেজি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, এম হোসেন পাড়া রেজি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, এম হোসেন পাড়া রেজি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (২) ও এম হোসেন পাড়া রেজি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (৩) কেন্দ্র। ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের রামতুই পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাফের ঘারা রেজি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদ জিয়া রেজি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হায়দারনাশি ১নং রিপুজি পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। আজিজনগর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, তামিরে মিল্লাত ইসলামিয়া মাদ্রাসা, সিপাহী হাবিবুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিপাহী আবদু রাজ্জাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পূর্ব চাম্বি মুসলিম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। সরই ইউনিয়নের হাছনা পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (পশ্চিমের বিল্ডিং), হাছনা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (মধ্যের বিল্ডিং), হাছনা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পূর্ব পার্শ্বের বিল্ডিং) ও লেমু পালং রেজি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। রূপসীপাড়া ইউনিয়নের শিলেরতুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলারঝিরি মংপ্রু পাড়া রেজি বেরসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলারঝিরি মংপ্রু পাড়া রেজি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ( অবস্থান ৭নং ওয়ার্ডে) ও কলারঝিরি মংপ্রুপাড়া রেজি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (অবস্থান ৭নং ওয়ার্ডে) কেন্দ্র এবং ফাইতং ইউনিয়নের চিউরতলী এন আই চৌধুরী রেজি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পোলাউ পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফাইতং ইসলামিয়া মিশন হোমিও প্যাথিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। ফাঁসিয়াখালী ও আজিজনগর ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চেয়ারম্যান, মেম্বার পদপ্রার্থীসহ সাধারণ ভোটাররা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, নির্বাচনের দিন ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলোতে শক্তি প্রযোগ করে তাদের সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করার চেষ্টা চালাতে পারে। এ জন্য ওইসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলোতে সার্বক্ষণিক স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা প্রয়োজন।
লামা থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হোসাইন জানিয়েছেন, ভোটার সংখ্যা অনুপাতে অতিগুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন অফিসার মোঃ নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার যাবতীয় প্রস্থুতী সম্পন্ন করা হয়েছে। এবার উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মোট ৪৪ হাজার ৬১২জন ভোটার আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রযোগ করতে পারবেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন