সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

প্রার্থীর পক্ষে সংসদ সদস্যের গণসংযোগ, উখিয়ায় প্রতিক্রিয়া

ইউএনটি ডেস্ক
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও বিরোধীদলীয় প্রার্থীর নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপর হামলাসহ মাইক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী

প্রচার প্রচারণাকে পুঁজি করে সরকারদলীয় প্রার্থী-সমর্থকদের বিভিন্ন নেতিবাচক কার্যক্রমসহ সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে সাংসদের গণসংযোগের ঘটনা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ নিয়ে বিরোধীদল সমর্থিত প্রার্থীরা একাধিকবার সংবাদ সম্মেলনের মধ্যদিয়ে অভিযোগ করেছেন। আগামী ২ জুলাই এ উপজেলার ৫ ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


সম্মিলিত নাগরিক কমিটির মনোনীত রত্নাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল কবির চৌধুরী সম্প্রতি উখিয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, তার সু-নিশ্চিত বিজয় দেখে একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত ২ প্রার্থী হামলা, মিথ্যা মামলা ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।  লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে বিজয়ী চেয়ারম্যানগণ বৃহত্তর রত্নাপালং ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চলের ৬ ওয়ার্ডের প্রায় ৭ হাজার ভোটারকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।


অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পূর্বাঞ্চলের শিক্ষার হার পিছিয়ে পড়েছে। চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত পূর্বাঞ্চলের অনেক মানুষ অকালে প্রাণ হারিয়েছে। বলতে গেলে তৎকালীন সময়ের জনপ্রতিনিধিরা পূর্বাঞ্চলের জনগণের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে। বর্তমানে এ ইউনিয়নে আঞ্চলিকতার প্রশ্ন উঠেছে। আমার পক্ষে ভোটারদের গণজোয়ার দেখে আমার প্রচারণা কাজে বাধা প্রদান, মাইক, গাড়ী ভাঙচুর, আমি ও আমার নেতাকমীদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে সরকার দলীয় প্রার্থী।


এর আগে রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহকামাল চৌধুরী সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে অভিযোগ করে বলেন, উখিয়া- টেকনাফ আসনের সরকারদলীয় সাংসদ ডেইলপাড়ার বিশাল জনসভায় বলেন, সরকার দলীয় প্রার্থীকে ভোট না দিলে এলাকায় উন্নয়ন হবে না। খাদ্য গুদামের চাল গুদামে পচে নষ্ট হয়ে যাবে, তবুও বিতরণ করা হবে না। রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ সকল প্রকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারদলীয় প্রার্থী একটি কল্পকাহিনী সাজিয়ে আমার ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী ও ছোটভাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার জাহান চৌধুরীর সহ ১৫ জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় একটি সাজানো মামলা দায়ের করেন।


তিনি বলেন, সাংসদ নিজেই অর্ধ শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। পালংখালী ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী গফুর উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, সরকারদলীয় ২জন প্রার্থী ভোটারদের মধ্যে টাকা, শাড়ি, লুঙ্গি ও ছাতা বিতরণ করে ভোটারদের প্রভাবিত করে যাচ্ছেন। প্রকাশ্যে সভা সমাবেশ করে আমার কর্মী-সমর্থক, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল উদ্দিন মিন্টু অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারদলীয় প্রার্থী আমিনুল হক আমিন ভোটারদের টাকা বিতরণ করে যাচ্ছেন।


নাপিতপাড়া এলাকার সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।


এ ব্যবাপারে নির্বাচন অফিসারের দায়িত্বভার প্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ বিন ইকরামের সাথে আলাপ করে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এ ব্যাপারে ৫ ইউনিয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান। এ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ৪৮ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ২৪৯ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, ৪৯৮ জন পুলিং অফিসার নিযুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।   





সুপ্রভাত বাংরাদেশ

কোন মন্তব্য নেই: